kalerkantho

26th march banner

সঙ্গীর মাঝে যে একটি গুণের খোঁজ করেন নারীরা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩০ মার্চ, ২০১৬ ১৪:০৮



সঙ্গীর মাঝে যে একটি গুণের খোঁজ করেন নারীরা

নারী তার সঙ্গীর মাঝে অনেক কিছুই দেখতে চান। কন্তিু যদি প্রশ্ন করা হয়, এমন একটি জিনিস কি আছে যা থাকতেই হবে? এর জবাব মেলা কঠিন বিষয়। অর্থ-সম্পদ বা সুদর্শন পুরুষ- এমন অনেক কিছুই হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব কিছুকেই টেক্কা দিয়েছে একটি গুণ। তা হলো, বিশ্বাসযোগ্যতা।

বিশ্বাসযোগ্যতা কোনো সাধারণ বিষয় নয়। এটা কেবল অন্য নারীর প্রতি আসক্তি না থাকা নয়। অথবা দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে আগ্রহী হওয়া নয়। এমনকি জীবনের কোনো এক সময় প্রতারণা করেছিলেন কিনা, তাও নয়। যদিও এসব বিষয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। কিন্তু তারপরও এগুলোই সব নয়।

আপনি কে, আপনি কেমন এবং কি করতে চান তার সত্য তুলে ধরাও বিশ্বাসযোগ্যতা। এটা নারীর কাছে এমনভাব পরিষ্কার হবে যেন তিনি তার সঙ্গীর ওপর পূর্ণ আস্থা আনতে পারেন।

কিন্তু এ বিষয়টির প্রতি নারীরা কেন এতটা দুর্বল? যুগে যুগে নারীরা এটাকেই চরম গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন। নারী ভালো থাকতে এবং নিরাপদে থাকতে এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু হয় না। নারী তার শৈশবেও বাবা-মায়ের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর বেঁচে ছিলেন।

এ বিষয়টি মান্ধাতার আমলের ধারণা। কিন্তু তা বদলাবার নয়। স্বাস্থ্য এবং সফলতাসহ জীবনের বহু জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাবার ভূমিকা সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত। যে শিশুর জীবনে বাবার ছায়া থাকে না, ধরেই নেওয়া হয় শিশুটি ৫ গুন বেশি দারিদ্রতায় মানুষ হবে, তিন গুন সম্ভাবনা বেশি যে সে স্কুলে পড়তে পারবে না এবং তাদের মধ্যে মানসিক ও আচরণগত সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনাও দ্বিগুন থাকে। তা ছাড়া এসব শিশুদেরই মাদকাসক্ত হওয়া, অসামাজিক কাজে লিপ্ত হওয়া এবং আত্মহত্যা প্রবণতা দেখা যায়। নারীর বিশ্বাসযোগ্য পুরুষকে বেছে নেওয়ার পেছনে এসকল বিষয় রয়েছে।

সদ্য পরিচয়ের ক্ষেত্রে এমন হয় যে, সবে তো পরিচয় হলো। অথবা একটা ডেটিংই তো দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর মাঝেও নারীর হৃদয়ে ওই পুরুষটি সম্পর্কে গোটা জীবন থাকার বিষয়টি মাথায় চলে আসে। আর তখন তিনি বিশ্বাসযোগ্যতা খুঁজে থাকেন। মানুষটা কি নিরাপদ? সে আমার পাশে সব সময় থাকবে? তার ওপর আস্থা রাখা যায়? সে কি বিশ্বাসযোগ্য? এ ধরনের প্রশ্ন নারীর মাথায় ঘোরাফেরা করতেই থাকে।

এ কারণে আধুনিক নারীকে সঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তার দাদী-নানী যা বলেন, তাই তার কাছে সঠিক বলেই গণ্য হয়। নারীর বিবর্তনের ইতিহাসে বিষয়টি তাদের মাঝে প্রোথিত হয়ে রয়েছে। সুদর্শন পুরুষের প্রতি আকর্ষণ, সুঠাম দেহ দেখে প্রেমে পড়ে যাওয়া বা পুরুষের সাধারণ ভদ্রোচিত আচরণে মুগ্ধতা চলে আসে নারীর মনে। কিন্তু শেষ অবধি নারী পুরুষের মাঝে বিশ্বাসযোগ্যতা খোঁজেন। এর দেখা না পেলে পুরুষের অন্যান্য গুণাবলী তার কাছে অর্থহীন হয়ে ওঠে।

তাই পুরুষের বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠা কেবল নারী বা তার সন্তানের নিরাপত্তা প্রদানই নয়, তার হৃদয়টাকে নিরাপত্তা দেওয়া বলে মনে করে বিশেষজ্ঞরা। সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট

 


মন্তব্য