kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ । ৪ মাঘ ১৪২৩। ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৮।


অলিভ ওয়েলটা কি খাঁটি? রান্নার ভালো তেল চেনার উপায়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৯ মার্চ, ২০১৬ ১৩:৪৪



অলিভ ওয়েলটা কি খাঁটি? রান্নার ভালো তেল চেনার উপায়

বহু গবেষকের মতে, রান্নার তেলের মধ্যে সেরা অলিভ ওয়েল। কিন্তু বেশ ধাঁধায় পড়ে গেছেন আরেক বিশেষজ্ঞ মার্ক হাইম্যান। কিছু দিন আগে তিনি একটি অনুষ্ঠান দেখেছেন। সেখানে ইতালি থেকে আমদানিকৃত অলিভ ওয়েল আসল অলিভ ওয়েল নয় বলেই দেখানো হয়েছে। তাহলে আসল অলিভ ওয়েল কেমন?

টম মুলার তার 'এক্সট্রা ভার্জিনিটি' বইয়ে লিখেছেন, নিম্নমানের তেল মিশিয়ে কিভাবে এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ ওয়েল তৈরি করা হয়। সেখানে বলা হয়, আমদানিকৃত বা বাজারে পাওয়া যায় এমন ৬৯ শতাংশ অলিভ ওয়েল সত্যিকার অলিভ ওয়েলে গুণগতমানের পরীক্ষা পাস করেনি। এটা সত্যিই চিন্তার বিষয়।

অধিকাংশ তেলই পরিশোধিত। কিন্তু অলিভ ওয়েলই একমাত্র তেল যা অপরিশোধিত অবস্থা খাওয়া হয়। অলিভ ওয়েল কেনার আগে যা দেখতে হবে তার বর্ণনা দিয়েছেন মার্ক।

১. এক্সট্রা ভার্জিন পছন্দ করতে হবে, যা অলিভগুলো থেকে প্রথম পর্যায়ে বের করে আনা হয়। এতে যথেষ্ট পুষ্টি উপাদান থাকে। এটাই সবচেয়ে খাঁটি এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ ওয়েল। এতে আছে প্রদাহপ্রতিরোধী উপাদান। হৃদযন্ত্রের দেখভাল করে এই তেল।

২. ফিল্টার করা হয়নি এমন তেল বেছে নিন। এগুলো দেখতে একটু ঘোলা হয়। কিনতে মন চাইবে না। কিন্তু এগুলোই সেরা।

৩. কোল্ড-প্রেসড অলিভ ওয়েল বেছে নিতে পারেন। অর্থাৎ এগুলো খুব কম তাপমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত করা হয়। কম তাপে প্রক্রিয়াজাত তেলে পুষ্টি উপাদান সঠিকভাবে বজায় থাকে।

৪. বড় বড় কম্পানির তেল মানেই যে ভালো তা নয়। এরাই খাঁটি অলিভ ওয়েল নামের একটা ভুল ধারণা ছড়িয়ে দেয়। এটা কেবল অর্থ খসাবে। সেই অনুযায়ী পুষ্টি দেবে না।

৫. এক্সট্রা লাইট অলিভ ওয়েল এড়িয়ে যান। অনেকেই কম ফ্যাট খুঁজতে গিয়ে 'লাইট' শব্দটাকে গ্রহণ করে নেন। সবাই প্রথমেই ধরে নেন যে, ফ্যাট বেশি মানেই ওজনবৃদ্ধি। আসলে তা নয়। প্রক্রিয়াজাত ফ্যাট দেহের জন্যে ক্ষতিকর।

যে অলিভ ওয়েল কিনবেন তা এক থেকে দুই মাসের মধ্যে ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ সুবিধা পাবেন। গবেষণায় দেখা গেছে, দুই মাস পর অলিভ ওয়েল তার পুষ্টিমান হারাতে থাকে।

নারকেল তেল : এই তেলটিও খাবারের জন্যে ভালো। তবে সব সময় অর্গানিক, কোল্ড-প্রেসড এবং অপরিশোধিত নারকেল তেল ব্যবহার করুন। এই তেল দিয়ে যেকোনো খাবার রান্না করে খাওয়া যায়।

পাম ওয়েল : এ গাছের ফল থেকে তেল বানানো হয়। এই তেলের রং বড় বিষয়। খাঁটি, ভার্জিন, অপরিশোধিত লাল পাম ওয়েল পুষ্টি উপাদানে পরিপূর্ণ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসদৃদ্ধ। এটি বেছে নিন।

যে তেলই কিনবেন তার আগে কয়েকটি বিষয় দেখে নিবেন।

১. সব সময় অর্গানিক, অপরিশোধিত, কম তাপে প্রক্রিয়াজাত তেল কিনবেন।

২. সম্ভব হলে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিন। এটা কি সত্যিই কম তাপে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে কিনা। অথবা পরিশোধন প্রক্রিয়া ঠিক রাখা হয় কিনা ইত্যাদি।

৩. স্বচ্ছ বোতলের নয়, গাঢ় রংয়ের বোতলের তেল কিনুন। এই রং সূর্যরশ্মি থেকে তেলকে রক্ষা করে।

৪. ব্যবহারের পর বোতলের মুখ শক্ত করে লাগিয়ে রাখুন। অক্সিজেনে তেল বিস্বাদ হয়ে যায়।

৫. বোতলে যে সময়ের মধ্যে ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া আছে, তা মেনে চলুন।

৬. একেক ধরনের তেলের একেক স্মোক পয়েন্ট রয়েছে। স্মোক পয়েন্ট হলো সেই তাপমাত্রা যাতে তেলের গুণাগুণ নষ্ট হয় এবং ক্ষতিকর উপাদান বের হয়ে আসে। বিভিন্ন তেলের স্মোক পয়েন্ট জেনে নিন- সানফ্লাওয়ার ওয়েল ২২৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট, রেড পাম ওয়েল ৩০২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, নারকেল তেল ৩৫০ ডিগ্রি ফারেনহাইট, এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ ওয়েল ৩৭৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট, আলমন্ড তেল ৪২০ ডিগ্রি ফারেনহাইট।
সূত্র : হাফিংটন পোস্ট

 


মন্তব্য