kalerkantho


বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে যেভাবে ধরা পড়ে বসন্তের আগমন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ মার্চ, ২০১৬ ১৮:৪৭



বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে যেভাবে ধরা পড়ে বসন্তের আগমন

বসন্ত আগমনের সবচেয়ে প্রচলিত বার্তা জানায় ফুল, পাখি ও বাতাস। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বসন্ত কিছুটা ভিন্ন সময়ে শুরু হয়।

তবে জানা যায়, উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতে এ বছর ২০ মার্চে বসন্ত শুরু হয়। বসন্তের এ আগমনী বার্তা কি শুধুই পাখির ডাক কিংবা ফুল ফোটা, নাকি অন্য কোনো বিষয় রয়েছে এতে? এ বিষয়ে বিজ্ঞানীরা জানান, বসন্তের আগমনী বার্তা ভিন্ন কিছু উপায় দিয়েও দেখা যায়। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।
১. ব্যাকটেরিয়াদের যুদ্ধবিগ্রহের গন্ধ
বসন্তে ফুল ফোটার আগেই বাতাসে বসন্তের আগমণী বার্তা পাওয়া যায় মাটির একটি বিশেষ গন্ধ থেকে। এটি মূলত আসে মাটি থেকে। এ সময় মাটিতে অসংখ্য স্ট্রিপটোমাইসেস ব্যাকটেরিয়া তাদের দেহ থেকে কিছু রাসায়নিক নির্গত করে। এতে জিওস্মিন নামে একটি রাসায়নিক নিঃস্বরিত হয়। এ রাসায়নিক যে গন্ধ তৈরি করে, তা মাটির গন্ধ হিসেবেই পরিচিত।   স্ট্রিপটোমাইসেস ব্যাকটেরিয়া তাদের এ রাসায়নিক নির্গত করে অন্য ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে। এটি তাদের বসবাসের স্থানকেও পরিচিত করে। এ ব্যাকটেরিয়ার গন্ধ ঝড়বৃষ্টির সময় ভালোভাবে পাওয়া যায়।
২. ধূসর তিমির ফিরে আসা
ধূসর তিমি বিশ্বের মহাসাগরগুলোতে বিচরণ করে। এটি বছরে ১০ হাজার মাইল পর্যন্ত ঘুরে আসে। তাদের এ এলাকার মধ্যে রয়েছে উত্তর মেরু থেকে শুরু করে ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূল ও মেক্সিকো। এরপর তারা আবার ঘুরে সেই পুরনো স্থানে ফিরে আসে। যে কোনো স্তন্যপায়ী প্রাণীর তুলনায় বেশি ভ্রমণ করে এ প্রাণী।   বসন্তের আগমনী বার্তায় এ তিমি মেক্সিকো উপকূলীয় এলাকায় উষ্ণ পানিতে তাদের নবজাতক সন্তান নিয়ে সাঁতার কাটে এবং পশ্চিম উপকূল ধরে চলতে চলতে বেরিং সাগরে পৌঁছায়।

৩. পোকামাকড়ের সংখ্যাবৃদ্ধি
বসন্তের আগমনীবার্তায় গাছপালায় পোকামাকড় বৃদ্ধি পায়। এ সময় ছোট ছোট বহু পেকামাকড় গাছপালায় জন্ম নেয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে শুয়োপোকা ও এ ধরনের ছোট ছোট পোকা। এ পোকাগুলো অনেক সময় গাছ থেকে মানুষের গায়েও পড়ে যায়। পোকাগুলো গাছে জন্মানোর পর তা মূলত বসন্তে জন্মানো সবুজ পাতা খেয়ে বড় হয়ে ওঠে। এরপর কিছুটা পুষ্ট হলে কীটগুলো নিজের দেহের চারপাশে গুটি তৈরি করে এবং তার ভেতরে ঢুকে রূপান্তরের প্রতীক্ষায় থাকে।
৪. শেয়ালছানার খেলার সময়
বসন্ত শুরু হলে শেয়ালছানারা তাদের বাসা থেকে বের হয়ে আসে। আবহাওয়া বিরূপ থাকলে তারা বাসা থেকে বের হতে পারে না। এ কারণে শীতকালে বহুদিন বাসার ভেতর কিংবা নিরাপদ স্থানে বন্দি থাকার পর বসন্তকালে শেয়ালছানারা বাড়ির বাইরে খেলাধুলা শুরু করে। এ সময় তাদের মাও তাদের রক্ষা করতে সতর্ক থাকে। তবে কিছুদিনের মধ্যেই বড় হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বাইরের জগতে বিচরণ করতে শিখে যায় তারা।
৫. মহাশূন্য থেকেও দেখা যায় রঙের পরিবর্তন
বসন্তকালে শুধু বিভিন্ন প্রাণীর চোখেই ধরা পড়ে না রঙের পরিবর্তন, এটি ধরা পড়ে মহাশূন্য থেকেও। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার স্যাটেলাইট ইমেজেও দেখা গেছে বসন্তকালে বিশ্বের রং আরও সবুজ হয়ে ওঠে। এ সময় প্রতিদিনই পরিবর্তিত হয় এ রংগুলো। মূলত গাছপালার সবুজ অংশ বেড়ে যাওয়ায় আকাশ থেকেও সে পরিবর্তন ধরা পড়ে।
ভিডিওতে দেখুন বিষয়টি-

৬. যে কারণে ফুল ফোটে
যে বাগানগুলো সারা বছর বাদামি কিংবা ধূসর রঙের থাকে সেগুলো বসন্তের আগমনী বার্তায় বহু ফুলে সুরভিত হয়ে ওঠে। কিন্ত কিভাবে ফুলেরা বুঝতে পারে যে এখন ফুটতে হবে? এ প্রশ্নে বারবারা অ্যামব্রোস নামে একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, গাছপালা মূলত জলবায়ুর বিষয়টি ধরতে পারে তাপমাত্রা ও আলোর পরিবর্তনে। এছাড়া আরেকটি পরিবর্তন ধরা পড়ে দিনের দৈর্ঘ্যের পরিবর্তনের কারণে। আগে দিনের দৈর্ঘ্য যেমন থাকে বসন্তের আগমনে তা পরিবর্তিত হয়।


মন্তব্য