kalerkantho


স্বামীকে 'মোটা হাতি' বলা ডিভোর্সের কারণ হতে পারে : দিল্লি হাইকোর্ট

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ মার্চ, ২০১৬ ১৬:৪৯



স্বামীকে 'মোটা হাতি' বলা ডিভোর্সের কারণ হতে পারে : দিল্লি হাইকোর্ট

এখন থেকে দম্পতিরা ঝগড়ার বিষয়ে সাবধান হয়ে যান। কারণ মেজাজি বাক্য বিনিময়ের মধ্যে 'বাজে বকা' হলে তা আইনগতভাবে ডিভোর্স হয়ে যেতে পারে।

ইতিমধ্যে এ বিষয়ে উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দিল্লির এক দম্পতির মধ্যে ঝগড়া হয়। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে স্ত্রী তার স্বামীকে 'মোটা হাতি' বলে 'গালি' দেন। দিল্লি হাইকোর্ট একে ডিভোর্সের জন্যে যথেষ্ট কারণ বলে রায় দিয়েছেন। ওই নারীর স্বামী বেশ মোটা। তাই তাকে স্ত্রী হাতির সঙ্গে তুলনা করে বাজে বকেন।

গত ২২ তারিখে দিল্লি হাইকোর্টের পারিবারিক আদালতে এ-সংক্রান্ত শুনানি হয়। সেখানে স্বামী অভিযোগ তোলেন, ২০১২ সালে তার স্ত্রী তার স্থূলতা নিয়ে এমন 'নিষ্ঠুর' মন্তব্য করেন। স্থূলতার কারণে তিনি স্ত্রীর যৌন চাহিদা মেটাতে সক্ষম নন। তাই তাকে প্রায়ই বাজে কথা বলেন স্ত্রী।

পরে অবশ্য স্ত্রী হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করেন। বিচারপতি ভিপিন সাংঘি বলেন, বাজে মন্তব্য করা এবং 'হাতি' বা 'মোটা হাতি' ইত্যাদি অপমানজনক কথা বলে স্থূল হওয়া সত্ত্বেও স্ত্রী তার স্বামীর সম্মানহানি করেছেন। এটি স্বামীর আত্মসম্মান ক্ষুণ্ন করে ও আত্মবিশ্বাসের জন্যে ক্ষতিকর।

আদালতে ওই নারী ডিভোর্স গ্রহণ করলেও তার বিরুদ্ধে আনা স্বামীর অভিযোগ অস্বীকার করেন। কারণ তিনি কবে, কোথায় বা কি কারণে এসব কথা বলেছিলেন তা উল্লেখ করতে পারেননি স্বামী। তবে হাইকোর্ট স্ত্রীর যুক্তিগুলো প্রত্যাখ্যান করেন।

বিচারপতি সাংঘি আরো বলেন, যখন দুজন মানুষ বিবাহের সম্পর্কে আবদ্ধ হয় তখন তারা নিজেদের মধ্যে কি কি আলাপ করেন তা লিখিত রাখা সম্ভব নয়।

এ ছাড়াও স্বামী অভিযোগ করেন, স্ত্রী তাকে চড় মারেন এবং বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। এ ছাড়া স্ত্রী নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন জ্বেলে দেওয়ার হুমকি প্রদান করতেন। এর জন্যে স্বামীকে দায়ী করে যাবেন বলেও সতর্ক করেন।

হাইকোর্ট জানান, এ ধরনের ঘটনা পরিষ্কারভাবে বিবাহিত সম্পর্ক ও বন্ধনের সম্মানহানি করে। বৈবাহিক সম্পর্কের বিশ্বাস ও চেতনাকে হেয় করে এসব কথাবার্তা।

স্বামী আদালতের কাছে এমন অভিযোগও করেন, ২০০৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি স্ত্রী সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে গেলে তার বিশেষ অঙ্গে আঘাত করেন স্ত্রী।

এ সকল ঘটনা বিবাহিত জীবনকে কলুষিত করে এবং শান্তি নষ্ট হয় বলে জানান হাইকোর্ট।
সূত্র : ডেইলি স্টার

 


মন্তব্য