kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ জানুয়ারি ২০১৭ । ১১ মাঘ ১৪২৩। ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৮।


নাক ডাকা কি স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৫ মার্চ, ২০১৬ ১৬:৩২



নাক ডাকা কি স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর?

নাক ডাকা নিঃসন্দেহে বিরক্তিকর। কিন্তু এটা কি স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর? বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের সমস্যার অন্যতম লক্ষণ নাক ডাকার অভ্যাস।

আবার ঘুমের মধ্যে নিঃশ্বাস নিতে বাধাপ্রাপ্ত হওয়া কিংবা নাক ডাকা উভয় সমস্যাই থাকতে পারে। আপনার কি ধরনের সমস্যা হচ্ছে তা জানতে কিছু বিষয় তুলে ধরেছেন বিশেষজ্ঞরা। এগুলো জেনে নিন।

নাক ডাকা নাকি নিঃশ্বাসে সমস্যা, নাকি উভয়ই?
নাক ডাকা বা নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা হওয়া, দুটোই দেখা দেয় যখন জিহ্বা এবং নাসারন্ধ্রের ওপরের অংশের পেশি ঘুমের সময় অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। এ সময় নিঃশ্বাস নেওয়ার পথ অনেকটা বন্ধ হয়ে আসে। বায়ু চলাচলে পেশিতে কম্পন সৃষ্টি হয় যা নাক ডাকার শব্দ সৃষ্টি করে। উভয় ক্ষেত্রে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে।

নাক ডাকা এবং নিঃশ্বাসে সমস্যার মধ্যে কিভাবে পার্থক্য করবেন?
ঘুম বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা এর ব্যাখ্যা করেন। বুঝতে হবে নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা হওয়ার কারণেই কি আপনি নাক ডাকছেন? এটি জানার ওপর নির্ভর করবে আপনার চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে কিনা। অথবা কি ধরনের চিকিৎসা নিতে হবে। এক গবেষণায় নিঃশ্বাস নিতে কতটা কষ্ট হয় তার মাত্রার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। এটি বোঝার একটি পদ্ধতি হলো এএইচআই বা অ্যাপনিয়া হাইপোপনিয়া ইনডেক্স। দেখতে হবে, প্রতি ঘণ্টায় নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা ১০ সেকেন্ড বা তার বেশি স্থায়ী হয় কিনা। কত সময় পর পর এ অবস্থার সৃষ্টি হয় ইত্যাদি হিসাব চিকিৎসককে জানাতে হবে।

এমনিতেই নাক ডাকা সমস্যা নয়, কিন্তু নিঃশ্বাসে সমস্যা?
ঘুম বিষয়ক এক গবেষণায় বলা হয়, নাক ডাকার কারণ যদি নিঃশ্বাস গ্রহণে সমস্যা না হয় তবে তা স্বাস্থ্যগত সমস্যা হবে না। এ বিষয়ে শক্ত কোনো প্রমাণপত্র নেই। তব এ ক্ষেত্রে চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা একমাত্র বিশেষজ্ঞই বলতে পারেন। পশ্চিমা দেশে অনেকেই নাক ডাকাকে তেমন পাত্তা দেওয়া হয় না। আবার সংস্কৃতিভেদে একে ভিন্ন অর্থে দেখা হয়। ভারতের গুরগাঁওয়ের ড. হিমানশু গার্গ জানান, এ দেশে নাক ডেকে ঘুমকে গভীর ঘুম এবং আরামের জীবন বলে মনে করা হয়।

মাঝে মাঝে যিনি নাক ডাকেন, এ শব্দে তার নিজেরই ঘুম ভেঙে যায়। এ ক্ষেত্রেও চিকিৎসা গ্রহণের কথা চিন্তা করতে হবে। নাসারন্ধ্রের ওপরের দিকের পথ সরু হয়ে আসলে তাকে বলা হয় আপার এয়ারওয়েজ রেজিস্ট্যান্স সিনড্রোম। এর কারণে মানুষ নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় অনেক ক্লান্তবোধ করে।

যখন এ সমস্যা খুব বেশি হয় তখন বেশ কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দেয়। কাজ বা গাড়ি চালানোর সময় দুর্ঘটনার ভয়, বিষণ্নতা, স্ট্রোক, উচ্চরক্তচাপ এবং করোনারি হার্ট ডিজিসের ঝুঁকি থাকে।

শুধু বড়দের ক্ষেত্রেই নাক ডাকা চিন্তার বিষয় তা নয়। শিশুদের মাঝেও যদি নাক ডাকার অভ্যাস দেখা যায়, তবে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি।
সূত্র : হাফিংটন পোস্ট

 


মন্তব্য