kalerkantho


নিজ চেষ্টায় ধনী হওয়া মানুষদের ১৩টি অনন্য বৈশিষ্ট্য

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ মার্চ, ২০১৬ ১৬:১৫



নিজ চেষ্টায় ধনী হওয়া মানুষদের ১৩টি অনন্য বৈশিষ্ট্য

এ পৃথিবীতে ধনীর সংখ্যা অনেক। কিন্তু নিজের প্রচেষ্টায় যারা ধনী হয়েছেন, তারা সবার আদর্শ মানুষে পরিণত হন। তাই এ মানুষগুলোর বিশেষ গুণ সম্পর্কে জানতে চান সবাই। বিশেষজ্ঞ থমাস সি কোরলে এ মানুষগুলো প্রতিদিনের অভ্যাস নিয়ে ৫ বছর গবেষণা করেছেন। তার মতে, প্রতিদিনের এই অভ্যাসগুলোই ঠিক করে দেয় আপনি সফল হবেন কি না। এখানে তিনি জানিয়েছেন নিজ চেষ্টায় চূড়ায় ওঠা সেইসব মানুষদের দৈনন্দিন অভ্যাসের কথা।

১. তারা প্রচুর পড়েন : ধনীরা স্বশিক্ষিত হয়ে ওঠেন। এর জন্যে তারা শুধু পড়েন আর পড়েন। নিজেকে উন্নত করতে এবং নতুন কিছু শিখতে প্রতিদিন তারা আধা ঘণ্টা বা তারচেয়ে বেশি সময় ব্যয় করেন। মানুষ সাধারণত সময় কাটাতে এবং বিনোদন পেতে পড়ে। কিন্তু ধনীরা পড়েন কিছু জানতে ও বুঝতে। সাধারণত তারা তিন ধরনের বই পড়েন : অন্যান্য সফল মানুষের জীবনী, ব্যক্তিগত উন্নয়নের উপায় এবং ইতিহাস।

২. তারা শরীরচর্চা করেন : ধনীদের ৭৬ শতাংশ প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টা ব্যায়াম করেন। অ্যারোবিক্স বেশির ভাগের প্রিয় ব্যায়াম। দৌড়, হাঁটা, সাইকেল চালনা ইত্যাদি তাদের তালিকায় স্থান পায়। কার্ডিও তাদের আরেকটি পছন্দের ব্যায়াম। এতে শুধু দেহের নয়, মস্তিষ্কেরও ব্যায়াম হয়। শরীরচর্চার মাধ্যমে তারা সুস্থ-সবল জীবনযাপন করেন।

৩. তারা অন্যান্য সফল মানুষদের সঙ্গে চলেন : ধনীরা এমন সব মানুষদের সঙ্গে চলাফেরা করেন যারা নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে ধাবমান থাকেন। যারা আশাবাদী, পরিশ্রমী এবং ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে চলেন, তাদের সঙ্গে ধনীরা সখ্যতা গড়ে তোলেন।

৪. তারা নিজের লক্ষ্য অন্বেষণ করেন : নিজস্ব স্বপ্ন ও লক্ষ্য ধারণ করে চলা দীর্ঘমেয়াদি সুখ ও সফলতার শর্ত। অধিকাংশ মানুষ অন্যের স্বপ্নের পেছনে ছোটার মতো ভুল করে থাকেন। কিন্তু ধনীরা নিজের একটা লক্ষ্য স্থির করেন। আবেগের সঙ্গে স্বপ্নটা লালন করেন। ফলে তাদের যাবতীয় কাজ হয় উপভোগ্য। তা ছাড়া আবেগ তাদের শক্তি, ধৈর্য এবং মনোযোগ এনে দেয়।

৫. তারা সকালে ওঠেন : ধনীদের ৫০ শতাংশ সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠেন। দিনের মূল কাজ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই তারা বিছানা ছাড়েন। প্রতিদিনের কাজ সুস্থ মাথায় গুছিয়ে নেওয়ার দারুণ কৌশল এটি। তা ছাড়া মিটিং, রাস্তার ট্রাফিক এবং ছেলে-মেয়েদের স্কুলে নেওয়ার মতো ঝামেলাপূর্ণ কাজ আগে থেকেই গুছিয়ে নিতে তারা সকালে উঠে পড়েন। ফলে মূল কাজের আগে তাদের মধ্যে মানসিক চাপ দেখা দেয় না।

৬. তারা আয়ের বহু উৎস তৈরি করেন : নিজের প্রচেষ্টায় যারা ধনী হন, তারা কখনোই আয়ের একটি উৎসের ওপর নির্ভর করেন না। ধনীদের ৬৫ শতাংশের আয়েক কমপক্ষে ৩টি উৎস রয়েছে।

৭. তারা পরামর্শদাতার কাছে যান : পয়সা রোজগারের দৌড়ে প্রত্যেকের একজন আদর্শ পরামর্শদাতার প্রয়োজন আছে। কেবলমাত্র উৎসাহ-উদ্দীপনা নয়, পরামর্শদাতারা আরো বেশি কিছু দিয়ে থাকেন। তারা জীবনটাকে কিছু ইতিবাচক উপায়ে প্রভাবিত করেন। তারা নানা শিক্ষা প্রদান করেন। মূল্যবান উপদেশ প্রদান করেন।

৮. তারা ইতিবাচক : দীর্ঘমেয়াদি সফলতা তখনই আসতে পারে যখন আপনি ইতিবাচক মানসিকতার অধিকারী। নিজের চেষ্টায় ধনী হওয়া মানুষদের অন্যতম সেরা বৈশিষ্ট্য এটি। অধিকাংশ মানুষ এ বিষয়ে মোটেও সচেতন নন। যখন নিজের চিন্তাগুলো বুঝতে সাবধান হয়ে যাবেন, তখনই আপনি এদের প্রতি নেতিবাচক হয়ে উঠবেন। এমনকি নেতিবাচক চিন্তাগুলোও যদি পরিষ্কারভাবে বুঝতে সচেষ্ট থাকেন, তবে এদের বিষয়ে সচেতন থাকতে পারবেন।

৯. তারা স্রোতের সঙ্গে যান না : ধনীরা সবাই সমাজভুক্ত। সমাজের প্রতি তারা যথেষ্ট প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু কোনো কাজে বা লক্ষ্যে পৌঁছতে তারা একমুখী মানুষে স্রোতে নিজেকে ভাসিয়ে দেন না। অন্যদের মাঝে নিজেকে মিশিয়ে না দেওয়ার ব্যর্থতায় বেশির ভাগ মানুষ ধনী হতে পারেন না।

১০. তারা শিষ্টচারের চর্চা করেন : শিষ্টাচার পালনে নিজের প্রচেষ্টায় ধনী হওয়া মানুষরা বিশেষ কিছু নিয়ম কঠোরভাবে পালন করেন। এই মানসিক ও আচরণগত বৈশিষ্ট্য তাদের দ্রুত লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যায়। ধন্যবাদ জ্ঞাপন থেকে শুরু করে সঠিক পোশাক নির্বাচন তাদের শিষ্টাচারবোধের অংশ।

১১. তারা অন্যকে সফল করতে এগিয়ে যান : কেবল নিজের সফলতার পেছনেই ছোটেন না তারা। ধনীরা অন্যকে সফল করতেও এগিয়ে যান। সফলতার পেছনে ছোটেন এমন মানুষই কেবল অন্যান্য মানুষের সফল হওয়ার মানসিকতা অনুধাবন করেন। ধনীরা কিন্তু সবার জন্যে ছোটেন না। একমাত্র তাদের প্রতিই আগ্রহী হয়ে ওঠেন, যারা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে লক্ষ্য অর্জনে ছুটছেন।

১২. তারা চিন্তা করেন : ধনীরা প্রতিদিন একান্ত চিন্তার জন্যে কমপক্ষে আধা ঘণ্টা সময় বেঁধে রাখেন। এর জন্যে যাবতীয় কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। যেকোনো বিষয়ে গভীর চিন্তা ঢেলে দেন তারা। খুঁটিনাটি বিষয়ে মস্তিষ্কে ঝড় তোলেন। সেখানে ক্যারিয়ার থেকে শুরু করে পরোপকারের বিষয়ও চলে আসতে পারে।

১৩. তারা সাহায্য খোঁজেন : কেবলমাত্র সমালোচনার ভয়ে মানুষ অন্যের কাছে সাহায্যের জন্যে যেতে চায় না। কিন্তু নতুন কিছু শিখতে এবং পেতে অপরের সহায়তা অতি জরুরি বিষয়। সঠিক পথে থাকলে অন্যের কাছে সাহায্য চাওয়াতে কোনো লজ্জা নেই। নিজ প্রচেষ্টায় যারা ধনী হয়েছেন, তারা আটকে গেলেই বন্ধু বা শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহায়তা নিয়েছেন। এর মাধ্যমে অন্যের সঙ্গে যেমন সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তেমনি নিজে পথে এগিয়ে যাওয়া হয়েছে অনেক সহজ।
সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

 


মন্তব্য