kalerkantho

শুক্রবার । ২০ জানুয়ারি ২০১৭ । ৭ মাঘ ১৪২৩। ২১ রবিউস সানি ১৪৩৮।


ইউরিনারি সিস্টেমের রোগ ও প্রতিকার জেনে নিন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ মার্চ, ২০১৬ ১৮:৩৪



ইউরিনারি সিস্টেমের রোগ ও প্রতিকার জেনে নিন

ইউরিনারি সিস্টেমকে রেনাল সিস্টেমও বলা হয়। এটি দেহের মূত্র প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করে এবং তা নিষ্কাষণ করে। ইউরিনারি সিস্টেমকে রেনাল সিস্টেমও বলা হয়। এতে প্রধান যে চারটি অংশ রয়েছে সেগুলো হলো কিডনি, ইউরেটার, ব্লাডার ও ইউরেথ্রা। এ লেখায় রয়েছে ইউরিনারি সিস্টেমের কিছু রোগ ও তার প্রতিকারের উপায়। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে লাইভ সায়েন্স।
কিডনি রক্ত পরিশোধন করে তা থেকে কিছু তরল পদার্থ সংগ্রহ করে, যা মূত্র হিসেবে দেহ থেকে নিষ্কাশিত হয়। এ তরল কিডনি থেকে উৎপন্ন হয়ে ইউরেটার নামে দুটি নালীর মাধ্যমে গলব্লাডারে গিয়ে জমা হয়। ইউরিনারি সিস্টেম কাজ করে দেহের অন্যান্য অঙ্গের সঙ্গে একত্রিতভাবে। এ কারণে ফুসফুস, ত্বক ও পাকস্থলির সঙ্গেও সংযোগ থাকে এ সিস্টেমের।
ইউরিনারি সিস্টেমের কিছু রোগ
ইউরিনারি সিস্টেমে সংক্রমণ প্রধান রোগ। প্রস্রাবের নালির কোনো অংশে সংক্রমণ হলো মূত্রনালীর সংক্রমণ। এতে ১৬ থেকে ৪০ বছর বয়সী নারী সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়। ব্যাকটেরিয়া ইশ্চেরেসিয়া কলি দ্বারা সৃষ্ট রোগ এটি। পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের এ সংক্রমণ বেশি হয়।
এতে যেসব লক্ষণ দেখা যায় সেগুলো হলো-
বেদনাদায়ক মূত্রত্যাগ, প্রস্রাবের নালী সংকীর্ণ হয়ে যাওয়া, অপ্রস্তুত অবস্থায় প্রস্রাব বেরিয়ে আসা, দুর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব, উচ্চমাত্রায় সংক্রমণে কিডনি প্রভাবিত হওয়া, জ্বর, বমি বমি ভাব, পার্শ্বদেশ ব্যথা, মলদ্বার ব্যথা (পুরুষদের জন্য), শ্রোণীচক্র ব্যথা (মহিলাদের জন্য),
ইউরিনারি সিস্টেমে সংক্রমণের কারণসমূহ
মূত্রনালীর সংক্রমণ জেনেটিক নয়; এর প্রধান কারণ হলো ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ। এক্ষেত্রে ইশ্চেরেসিয়া কলি ব্যাকটেরিয়া, যা মূত্রনালীতে প্রবেশ করে এবং বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। এটি ছত্রাক বা ভাইরাস দ্বারাও সৃষ্ট হতে পারে।
ইউরিনারি সিস্টেমে সংক্রমণ এড়ানোর উপায়
বেশ কিছু উপায়ের সাহায্যে ইউরিনারি সিস্টেমের সংক্রমণ এড়ানো যায়। এগুলো হলো-
পর্যাপ্ত পানি পান, অস্বাস্থ্যকর সহবাস এড়িয়ে চলা, সহবাসের পর প্রস্রাব করে নেওয়া এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন টয়লেট ব্যবহার করা, কিডনি পাথর দূর করা, বড় প্রস্টেট চিকিৎসা, রজোবন্ধ সমস্যায় সতর্ক থাকা, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অন্তর্বাস পরা ও এ ধরনের রোগ সঠিকভাবে চিকিৎসা করা।
ইউরিনারি সিস্টেমে রোগ নির্ণয়ের উপায়
সঠিকভাবে চিকিৎসা না করা হলে তা আরো বহু ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া এতে কিডনির ক্ষতি, অকাল ডেলিভারি ইত্যাদি হতে পারে। মূত্রনালীর সংক্রমণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকরা কয়েকটি উপায়ের সহায়তা নেন। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রোগীর মূত্রতন্ত্রের কোনো স্থানে ব্যথা বা অনুরূপ সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শমতো মূত্রের নমুনা প্যাথলজি পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়। তাই কোনো সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার বিকল্প নেই।


মন্তব্য