kalerkantho


অসাধারণ নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে ওঠার উপায় তুলে ধরেছেন সাত ব্যক্তিত্ব

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ মার্চ, ২০১৬ ১৬:৪৫



অসাধারণ নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে ওঠার উপায় তুলে ধরেছেন সাত ব্যক্তিত্ব

অসাধারণ নেতৃত্ব কী শুধুই নেতা হয়ে ওঠার মাঝেই সফলতা খুঁজে পায়? সম্প্রতি এ বিষয়ে কথা বলেছেন সফল সাতজন ব্যক্তিত্ব। তারা তাদের দৃষ্টিতে তুলে ধরেছেন যে গুণগুলো সফল নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিজনেস নিউজ ডেইলি।
১. মানুষের সর্বোচ্চ বের করায় সফল
সত্যিকার নেতারা মানুষের সর্বোচ্চ গুণটি আদায় করে নিতে সফল হন বলে জানান টম ভিলেনটি। তিনি পেমেন্ট প্রসেসিং কোম্পানি ইয়াপস্টোনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও সিইও। তিনি জানান, বর্তমানে নেতৃত্বের গুণসম্পন্ন বড় ব্যক্তিত্বরা সব সময়েই ব্যস্ত থাকেন প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে। এতে ‘কমফোর্ট জোন’ বলে কোনো বিষয়ের অস্তিত্ব আর থাকে না। তারা অন্য গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের নিয়োগ করেন ও তাদের বিশ্বাস করেন এবং তাদের নেতৃত্বের উপযোগী করে গড়ে তোলেন।
২. দেওয়া ও সেবা করার মাঝেই নেতৃত্ব
নেতৃত্ব একটি একাকীত্বের কাজ হলেও এতে নিজের আশপাশের ব্যক্তিদের সময় দিতে কোনো কার্পণ্য করলে চলে না বলে মনে করেন ভার্চুয়াল অ্যাসিসট্যান্ট সার্ভিস প্রোভাইডার ইএহেলপ-এর প্রতিষ্ঠাতা ট্রাইসিয়া সায়োর্টিনো। তিনি জানান, আপনার টিমকে যথাযথভাবে জ্ঞান ও দক্ষতা প্রদান করাই মূলত নেতৃত্বের কাজ। এতে নিজের পাশাপাশি নিজের টিমও এগিয়ে যায়।
৩. নেতৃত্বের জন্য প্রয়োজন উচ্চাকাঙ্ক্ষা
নেতারা বহু গুণবাচক শব্দের মাধ্যমে পরিচিত হন যেমন একাগ্রচিত্ত, ভবিষ্যৎদ্রষ্টা ও উৎসাহ প্রদানকারী। তবে বিষয়টি অতোটা জটিল নয় বরং এক কথায় উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করেন বিজ্ঞাপনী ফার্ম অ্যাডবুম গ্রুপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা কোরে ব্যাগেট। তিনি জানান, উচ্চাকাঙ্ক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও তা অনেকেই অবজ্ঞা করেন। যদিও উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে কঠোর পরিশ্রম ও অন্যান্য গুণগুলো অর্জন করতে মানুষ আগ্রহী হয়ে ওঠে।
৪. ভালো আচরণ
ভালো নেতা মানেই ভালো আচরণের অধিকারী বলে মনে করেন ডেভিড মুর। তিনি অ্যাডিসন গ্রুপের রিজিওনাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ফাউন্ডিং পার্টনার। তার মতে, একজন ভালো নেতা তার আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। বিশেষ করে কঠিন পরিস্থিতিতে তিনি এ কাজে সফল হন।
৫. সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা
একজন নেতা তার আশপাশের সব মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখেন এবং তাদের সবাইকে নিয়ে তিনি সফল হন বলে মনে করেন অ্যানডোর কোভাকস। তিনি প্রোপার্টি রিস্টোরেশন ব্র্যান্ড রিস্টোরেশন ১-এর সিইও ও প্রতিষ্ঠাতা। তিনি জানান, একজন নেতার অবশ্যই তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক মানুষের জ্ঞান-বৃদ্ধিসহ নানা বিষয়ে জানা থাকা প্রয়োজন। এতে তারা প্রতিষ্ঠানের নানা বিষয় সম্পর্কে সহজেই জানতে ও বুঝতে পারেন।
৬. সঠিক উদাহরণ তৈরি
প্রতিদিনের কার্যক্রমের মাধ্যমেই উদাহরণ তৈরি করেন নেতারা। এক্ষেত্রে ছোট ছোট উদাহরণের মাধ্যমে বড় লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়াও থাকে তাদের কাজের অংশ। এ বিষয়টি তুলে ধরেন রিচার্ড কিসানি। তিনি প্রিমিয়াম ফ্র্যাঞ্চাইজ ব্র্যান্ড  জ্যান-প্রো ও মেইড রাইট ফ্র্যাঞ্চাইজিং-এর প্রেসিডেন্ট ও সিইও। তিনি জানান, এ বিষয়টি অনেকটা আপনার টিম ও অর্গানাইজেশনে আপনি যেভাবে কাজ করেন তার প্রতিফলন হওয়ার মতো। আপনার দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ঠিক করা, নতুন বিষয় আবিষ্কার করা, অন্যদের অনুপ্রেরণা দেওয়া ও বিশ্বাস অর্জন করা।
৭. নেতারা একা থাকতে পারেন না
বর্তমানে অনিশ্চিত ব্যবসা পরিবেশে সহকর্মীদের থেকে আলাদা থাকার কোনো উপায় নেই বলে মনে করেন রিচার্ড হার্টনার। তিনি সাচি অ্যান্ড সাচি ওয়ার্ল্ডওয়াইড-এর ডেপুটি চেয়ারম্যান এবং ‘কনসিগ্লাইরি : লিডিং ফ্রম দ্য শ্যাডো’ বইয়ের লেখক। তার মতে, বর্তমান ব্যবসায় পরিবেশে যে কোনো কাজেই এখন নেতৃত্বের থাকা উচিত একেবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্র। এতে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সফলতা যেমন অর্জন করা যায় তেমন নিজেকেও বড় নেতা হিসেবে গড়ে তোলা যায়।


মন্তব্য