kalerkantho

বুধবার । ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ । ৫ মাঘ ১৪২৩। ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৮।


যে ৭ পরিস্থিতিতে বস বা সহকর্মীর কাছে মিথ্যা বলা যায়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ মার্চ, ২০১৬ ১২:২৯



যে ৭ পরিস্থিতিতে বস বা সহকর্মীর কাছে মিথ্যা বলা যায়

ছোটদের মিথ্যা না বলার শিক্ষাটা প্রথমেই দেওয়া হয়। আবার তাদের মানিয়ে নিতে অনেক সময়ই বড়রা মিথ্যা বলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই মিথ্যা বলা মানুষের শেখার একটি অংশ। হাঁটা শেখা থেকে শুরু করে স্বাধীনভাবে চলার শিক্ষায় যেভাবে বিকশিত হয় মানুষ, একইভাবে মিথ্যা বলার মাধ্যমে তার মন ও মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটে।

২০০২ সালে ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস-এর এক গবেষণায় বলা হয়, ৬০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মিথ্যা ছাড়া টানা ১০ মিনিট কথা বলতে পারেন না। আরো মজার বিষয় হলো, পুরুষরা নিজেদের স্মার্ট করে তুলতে মিথ্যা বলেন। আর নারীরা অন্যকে খুশী করতে বলেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মক্ষেত্রেও মানুষের মিথ্যা বলাটা অতি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠতে পারে। এমন ৭টি পরিস্থিতির কথা জেনে নিন যখন বস বা সহকর্মীদের কাছে মিথ্যা বলাটা কোনো অপরাধ নয়।

১. যখন হ্যাংওভারে আছেন : হয়তো গতরাতের কোনো পার্টিতে একটু বেশি অ্যালকোহল গিলেছেন। সকালটা হ্যাংওভারে কাটছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে ঘুম দরকার। এ কথা অফিসে বলা যায় না। কাজেই শরীরটাকে বিশ্রাম দিতে এবং অফিসে না যাওয়ার অজুহাত হিসাবে অন্য কিছু বানিয়ে বলা যেতেই পারে।

২. যখন দেরি করে ফেলেছেন : এ কারণেই মানুষ সবচেয়ে বেশি মিথ্যা বলে। অফিসে পৌঁছতে বিলম্ব হতেই পারে। কিন্তু এর জবাবদিহিতা রয়েছে। এর কারণ হিসাবে সাধারণত প্রচুর ট্রাফিক, আবহাওয়া ইত্যাদিকে তুলে ধরা হয়। আসলে অফিসের বসও জানতে চান না আপনার কি কারণে দেরি হয়েছে। তিনি দেখতে চান, সময়মতো উপস্থিত হওয়ার বিষয়ে আপনি সিরিয়াস কিনা।

৩. যখন ঘৃণা করেন বলে চাকরিটা ছাড়ছেন : বর্তমান চাকরি ছেড়ে নতুন একটি চাকরি নেওয়া দোষের কিছু নয়। ভালো বেতন, আরো বেশি সুযোগ-সুবিধা ইত্যাদি পেলে যেকেউ চাকরি বদলে ফেলতেই পারেন। আর এগুলোই যৌক্তিক কারণ হিসাবে বিবেচিত হয়। কিন্তু যদি ঘৃণার কারণে চাকরিটা ছেড়ে দিতে চান, এ কথা সরাসরি বলা যায় না। তাই মিথ্যা কথা বলাই যায়। কারণ সত্য বলে বর্তমান বসকে যেমন কষ্ট দেওয়া যায় না, তেমনি পরের চাকরিতেও তা বলাটা শোভন দেখায় না।

৪. যখন মধ্যস্থতা করছেন : যেকোনো বিষয়ে যখন আপনি মধ্যস্থতাকারী, তখন অবস্থান ও শক্তিমত্তায় আপনাকে এগিয়ে থাকতেই হবে। ক্রেতার মন কাড়তে বা চুক্তিনামার দরকষাকষিতে, নিজের সুবিধা আদায়ে আলোচনার নিয়ন্ত্রণ নিতে মিথ্যা বলা যেতে পারে। যত বড় না তত বড় করে প্রতিষ্ঠানকে তুলে ধরতেই পারেন। আত্মবিশ্বাসী ও স্মার্ট মধ্যস্থতাকারীরা মিথ্যার প্রয়োগে সফলতা হাসিল করেন।

৫. যখন সামাজিকতা পালন করতে আগ্রহী নন : সহকর্মী এবং বসের সঙ্গে অফিসিয়াল সম্পর্কের পাশাপাশি একটা সামাজিক সম্পর্কও গড়ে তোলা প্রয়োজন। কিন্তু যখন এটি করতে মন চাইছে না, তখন এড়িয়ে যেতে মিথ্যার আশ্রয় নিতেই হয়। আরো গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজের মিথ্যা তথ্য দিয়ে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন।

৬. যখন কারো দিকে মন্তব্য ছুঁড়ে দিচ্ছেন : সহকর্মী বা বস নুতন একটি পোশাক পরে জিজ্ঞাসা করতেই পারেন, আমাকে কেমন লাগছে? হয়তো আপনার চোখে তাকে ক্লাউনের মতো লাগছে। এটা তো বলা যায় না। তাই প্রশংসাসূচক মন্তব্য করতেই হবে। যেকোনো মানুষ সম্পর্কে ইতিবাচক কিছু বলাই ভালো। প্রতিবার মিথ্যা হলেও বলাটা বড় অপরাধ নয়। এসব ক্ষেত্রে আপনার সামান্য নেতিবাচক কথায় বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

৭. যখন বিষয়টি স্পর্শকাতর : কিছু বিষয় আছ যা অফিসে আলোচনা না করাই ভালো। ধর্ম, রাজনীতি, গর্ভপাত ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা কখনো নিরপেক্ষ হয় না। এগুলো তর্ক-বিতর্কের বিষয়। কাজেই অফিসে এসব বিষয়ে আলোচনায় বসলেই আপনি কারো না কারো বিপক্ষের কেউ বলে গণ্য হবেন। যদি শুরু হয়েই যায় তবে অন্যের চিন্তাকে ছোট করে দেখবেন না বা এ নিয়ে কটূক্তি করতে যাবেন না। কেউ কট্টোর হলে তাকে মিথ্যা বলে আলোচনার উত্তেজনা প্রশমিত করুন। আবার নিজের চিন্তাধারা বিনয়ের সঙ্গে তুলে ধরতে পারেন। আপনি তাতে কট্টোর হলেও মিথ্যা বলে একে হালকা করতে পারেন। সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

 


মন্তব্য