kalerkantho

26th march banner

সম্পর্ক ছিন্ন হয় না মৃত্যুতে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ মার্চ, ২০১৬ ২৩:৫৯



সম্পর্ক ছিন্ন হয় না মৃত্যুতে

'জীবনমরণের সীমানা ছাড়ায়ে...
বন্ধু হে আমার রয়েছ দাঁড়ায়ে'
গানটা খুবই প্রিয় তুতুলের৷ ঠিক সন্ধ্যা নামার মুখে বাড়ির নেড়া ছাদের চাতালে বসে যখন গানটা গুনগুন করে, খুব হালকা অথচ মিষ্টি একটা সুবাস অনুভব করে৷ পিকলুদার শার্ট থেকেও গন্ধটা পেয়েছিল তুতুল৷ যেদিন ফেস্ট শেষ হওয়ার পর কলেজের সিঁড়ির পিছনে দু'জনে দু'জনকে জড়িয়ে ধরেছিল৷ আর তার পরদিনই অ্যাক্সিডেণ্টের খবরটা এল৷
এক বছর হতে চলল, পিকলুদা বেঁচে নেই৷ কিন্তু সন্ধের এই সময়টা এলেই তুতুল ওঁকে অনুভব করে৷ প্রতিদিন৷
শুধু তুতুল নয়৷ ভালবাসার মানুষের মৃত্যুর পরও দৈনন্দিন জীবনে তাঁদের অস্তিত্ব অনুভব করেন প্রতি দশ জনের মধ্যে ছ'জন৷ কেউ তাঁদের দেখতে পান, কেউ গলা শুনতে পান, কেউ আবার প্রিয়জনের খুব চেনা স্পর্শ অথবা ঘ্রাণ অনুভব করেন৷ কেউ কেউ তা স্বীকার করেন৷ কিন্তু অধিকাংশ মানুষই 'মানসিক ভারসাম্যহীন' বা 'পাগল' তকমা এড়াতে সব গোপন করে যান৷ সমীক্ষাই বলছে এ কথা৷
'ওই চেয়ারটায় বসে ঠাকুরমা এখনও আমাদের সকলকে দেখছেন', বা 'পরিষ্কার শুনলাম জানো, বাবা আমার নাম ধরে ডাকল', প্রিয়জনের প্রয়াণের পর এই ধরনের বাক্যবন্ধ হামেশাই শোনা যায়৷ প্রশ্ন, এঁরা সকলেই কি ভুল বকেন? সত্যিই কি খুব ঘনিষ্ঠ কাউকে হারানোর শোক সহ্য করতে না পেরেই সকলে আকাশকুসুম কল্পনা করেন? না কি মৃত্যুর মতো চরম সত্যও কখনও কখনও সব বন্ধন ছিন্ন করতে পারে না?
ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষকদের মত, 'আমাদের সমীক্ষায় খুব কাছের মানুষকে হারানোর পর হ্যালুসিনেশন বা কল্পনা করার প্রবণতা ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে৷ একে 'পোস্ট বারিভমেণ্ট হ্যালুসিনেটরি এক্সপিরিয়েন্স' বলে৷ তবে কেউ যে ইচ্ছা করে মৃত মানুষটাকে নিজের চারপাশে কল্পনা করার চেষ্টা করেন, তা কিন্তু নয়৷ কখনও কখনও পুরনো স্মৃতি রোমন্থন করলে সেই মানুষটার অস্তিত্ব অনুভব করা যায়৷ এর ইতিবাচক দিকও রয়েছে৷ যেমন, কারও সঙ্গে কাটানো ভাল সময়গুলি স্মরণ করে তাঁকে চিরতরে হারানোর দুঃখ অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা যায়৷ কিন্তু কখনও কখনও তা বিচ্ছেদের দুঃখকে গভীরতর করে তোলে৷ যা থেকে অনেকে মানসিক নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারেন৷ এটা ক্ষতিকারক৷ এই সময়টায় পরিজনদের সান্নিধ্য খুব প্রয়োজন৷'

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন


মন্তব্য