সব নারীরই যে পাঁচ রোগে মৃত্যু থেকে-335473 | জীবনযাপন | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১২ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৪ জিলহজ ১৪৩৭


সব নারীরই যে পাঁচ রোগে মৃত্যু থেকে সাবধান থাকা উচিত

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ১৬:১৪



সব নারীরই যে পাঁচ রোগে মৃত্যু থেকে সাবধান থাকা উচিত

বিশ্ব নারী দিবস পার হয়ে গেল সম্প্রতি। এতে নারীদের নানা বাস্তব সমস্যা ও তার সমাধান নিয়ে আলোচনা হলেও নারীদের প্রাণঘাতী রোগের বিষয়টি সেভাবে আলোচনায় আসেনি। এ লেখায় রয়েছে তেমন কিছু রোগের কথা। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।
১. হৃদরোগ
হৃদরোগে বছরে যত নারী মারা যায় বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারে মৃত্যুর হার তার চেয়ে অনেক কম। এ কারণে হার্ট অ্যাটাক ও অন্যান্য হৃদরোগে মৃত্যুর হার কমিয়ে আনার বিষয়ে সচেতনতা জরুরি। নারীদের হৃদরোগের হার কিছু হরমোনের কারণে কম থাকে এ কথা সত্য। কিন্তু যেসব নারীর ধূমপান, ডায়াবেটিস ও রক্তের অন্যান্য সমস্যা রয়েছে তাদের এতে মৃত্যুর আশঙ্কা অনেক বেশি। এ কারণে হৃদরোগ থেকে সতর্ক হওয়া উচিত সব নারীরই।
২. স্তন ও গর্ভাশয় ক্যান্সার
স্তন ও গর্ভাশয়ের ক্যান্সারে মৃত্যুবরণকারী নারীদের সংখ্যা অন্যান্য যেকোনো ক্যান্সারের তুলনায় বেশি। এ কারণে স্তন ও গর্ভাশয় ক্যান্সার সবচেয়ে বিপজ্জনক ক্যান্সার হিসেবে চিহ্নিত। ১৯৯০ থেকে ২০১৩ সালের মাঝে স্তন ক্যান্সারের হার দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। এ ধরনের ক্যান্সারে প্রচুর নারী মারা যাচ্ছেন বিধায় এ জন্য সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে। সম্প্রতি গর্ভাশয়ের ক্যান্সার প্রতিরোধে সক্ষম টিকা পাওয়া যাচ্ছে। নারীদের এ টিকা নেওয়ার বিষয়ে প্রচারণা চালানোও প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
৩. অ্যানেমিয়া, ম্যালনিউট্রিশন
অ্যানেমিয়া বা রক্তাল্পতা ও ম্যালনিউট্রিশন তথা অপুষ্টিতে বাংলাদেশের প্রচুর নারী মৃত্যুবরণ করেন। শুধু বাংলাদেশ নয় সমগ্র দক্ষিণ এশিয়াতেই এ সমস্যা প্রকট। দারিদ্র্য অঞ্চলগুলোতে এখনও নারীরা পর্যাপ্ত খাবার পায় না। ভারতে প্রতি তিনজন নারীর একজনের ওজন কম এবং তাদের মধ্যে ১২.৮ শতাংশের এ কারণে বিকাশ রুদ্ধ হয়ে যায়। আর মা যখন অপুষ্টির শিকার হয় তখন সে প্রভাব পড়ে সন্তানের ওপরেও। ফলে অপুষ্টির শিকার হয়ে পড়ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও। এ সমস্যা দূর করার জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত নারীদের।
৪. অস্টিওপরোসিস
বিশ্বের অসংখ্য নারী অস্টিওপরোসিস বা হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়ার ঘটনার শিকার হয়ে থাকেন। শুধু বাংলাদেশ নয় দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোতেও নারীদের মাঝে এ রোগের হার বেশি। ভারতের অর্ধেকের বেশি নারীর মাঝে প্রি ও পোস্ট মনোপজ সময়ে হাড়ের ঘনত্বজনিত সমস্যা দেখা যায়। সারা বিশ্বে অস্টিওপরোসিসে আক্রান্ত প্রতি পাঁচজন ব্যক্তির মাঝে চারজনই নারী। এ সমস্যায় নারীরা পড়ে গেলে বা আঘাত পেলে সহজেই হাড় ভেঙে ফেলেন। এতে অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও হয়ে থাকে।
৫. বিষণ্ণতা
আমাদের সমাজে নারীদের মাঝে নানা কারণে বিষণ্ণতার হার অত্যন্ত বেশি। পারিবারিক ও সামাজিক নানা কারণে বিপুলসংখ্যক নারী বিষণ্ণতায় আক্রান্ত। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কিশোরী বয়স থেকেই শুরু হয় নারীদের দুর্দশা। আর এর প্রভাব পড়ে সমগ্র নারীজাতির ওপর। বহু নারী পরবর্তী জীবনে বিষণ্ণতা ও উদ্বেগসহ নানা মানসিক ব্যধির শিকার হয়। এতে আত্মহত্যাসহ নানা অস্বাভাবিক প্রবণতাও সৃষ্টি হয়। বিপুলসংখ্যক নারীর মানসিক সমস্যার উপসর্গ দেখা দেয় শারীরিক নানা সমস্যার মাধ্যমে। এ কারণে নারীর মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে হবে এবং বিষণ্ণতা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উদ্যোগ নিতে হবে।

মন্তব্য