গর্ভধারণে ১০ পরামর্শ, যা চিকিৎসক-335048 | জীবনযাপন | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০১৬। ১৬ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৮ জিলহজ ১৪৩৭


গর্ভধারণে ১০ পরামর্শ, যা চিকিৎসক আপনাকে নাও বলতে পারেন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ মার্চ, ২০১৬ ১৩:৫৫



গর্ভধারণে ১০ পরামর্শ, যা চিকিৎসক আপনাকে নাও বলতে পারেন

গর্ভধারণ যদি হয় প্রথমবার তাহলে তা মায়ের জন্য ব্যাপক মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে বহু প্রশ্ন রয়েছে যা চিকিৎসকের কাছে জিজ্ঞাসা করেও সঠিক উত্তর পাওয়া যায় না। এ লেখায় রয়েছে তেমন কিছু প্রশ্নের উত্তর। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ফক্স নিউজ।
১. আপনার চিকিৎসক আপনার জন্যই কাজ করেন
চিকিৎসকের কাজ আপনার যাবতীয় স্বাস্থ্যগত বিষয়ে যাবতীয় খুঁটিনাটি পরীক্ষা করা এবং কোনো অস্বাভাবিকতা থাকলে তা নিরাময়ের চেষ্টা করা। এ ক্ষেত্রে আপনি যদি তাকে সব তথ্য দিয়ে বিস্তারিত না জানান তাহলে তার পক্ষে ভালোভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব নয়। তাই লক্ষ রাখতে হবে চিকিৎসক যেন সব তথ্য ও উপাত্ত পান এবং তার প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলো করা হয়।
২. পিরিয়ড মিস মানেই গর্ভধারণ নয়
একটি পিরিয়ড মিস হয়ে যাওয়া মানেই গর্ভধারণ নয়। তাই এ অবস্থায় চিকিৎসকের কাছে না দৌড়িয়ে সবার আগে ফার্মেসি থেকে প্রেগনেন্সি পরীক্ষা করার জন্য কিট কিনে নিন। এতে যদি আপনার গর্ভধারণের বিষয়টি পাওয়া যায় তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করুন।
৩. গর্ভধারণ স্বাভাবিক বিষয়
গর্ভধারণকে অনেকেই খুব কঠিন আর অস্বাভাবিক বিষয় মনে করেন। এতে মানসিক চাপও সৃষ্টি হয়। তবে চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, গর্ভধারণ অস্বাভাবিক বিষয় নয়। প্রত্যেক নারীরই এ বিষয়টি হতে পারে। তাই এ জন্য মানসিক চাপ না নিয়ে বরং চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সে অনুযায়ী চললেই হবে।
৪. গর্ভধারণের শুরুতে অযাচিত কর্মকাণ্ড
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গর্ভধারণ করার প্রস্তুতি থাকে না। এ কারণে গর্ভধারণের শুরুতে অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস কিংবা পানাহারের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এতে বাড়তি মানসিক চাপ না নিয়ে বরং আপনি যখন গর্ভধারণের কথা জানতে পারলেন তখন থেকেই সতর্ক হয়ে যান। গর্ভের শিশুর যেন ক্ষতি না হয় সে জন্য সাবধানে থাকুন।
৫. ধাত্রীর সহায়তা নিতে পারেন
প্রশিক্ষিত ধাত্রী আপনার গর্ভধারণের সময়ে সহায়তা করতে পারেন। আপনি যদি স্বাস্থ্যবান ও উচ্চমাত্রায় ঝুঁকির মুখে না থাকেন তাহলে প্রশিক্ষিত ধাত্রীর সহায়তায়ও সন্তান ভূমিষ্ট করাতে পারেন। এ ক্ষেত্রে জেনে নিতে হবে, তিনি যথাযথ প্রশিক্ষিত কি না।
৬. দুটি আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষাই যথেষ্ট
আপনার সম্পূর্ণ গর্ভধারণের সময়ে মাত্র দুটি আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষাই যথেষ্ট। প্রথমটি ১১ থেকে ১২ সপ্তাহে এবং দ্বিতীয়টি ১৮ থেকে ২১ সপ্তাহে করা উচিত। এতে গর্ভস্থ শিশুর বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে জানা যেতে পারে। তবে বাড়তি আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষা শিশুর জন্য অপ্রয়োজনীয় এবং ক্ষতিকরও হতে পারে।
৭. আলট্রাসাউন্ড সব সময় নির্ভরযোগ্য নয়
আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষা একেবারে নিখুঁত কোনো পরীক্ষা নয়। এটি প্রায়ই কিছুটা বেশি-কম হয়। তাই মনে রাখা প্রয়োজন আলট্রাসাউন্ড সব সময় নির্ভরযোগ্য নয়। তাই কোনো বিষয়ে সন্দেহ হলে চিকিৎসক তা অন্য কোনো পরীক্ষার মাধ্যমেও নিশ্চিত হতে পারেন।
৮. গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ পরীক্ষা বাদ দিন
অনেকেই গর্ভের সন্তান ছেলে নাকি মেয়ে তা নিয়ে অতিরিক্ত আগ্রহী থাকেন এবং সে জন্য চিকিৎসককে পরীক্ষা করার অনুরোধ করেন। যদিও এ বিষয়টি করা উচিত নয়। কারণ এ ধরনের পরীক্ষায় স্বাস্থ্যগত ক্ষতি হতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা না করে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
৯. সন্তান জন্মদান চুক্তির বিষয় নয়
আপনার সন্তান জন্মদানের বিষয়টির জন্য প্রয়োজন বহু ধরনের প্রস্তুতি। কোথায় থাকবেন, চিকিৎসক কে হবেন, সঙ্গে কে কে থাকবেন ইত্যাদি বিষয় আগে থেকেই জেনে রাখা উচিত। এটি কোনো একটি হাসপাতালে চুক্তি করলেই চলবে না। আরও বহু প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে।
১০. তারিখ পার হওয়াই শেষ কথা নয়
আপনার গর্ভধারণের পর একটি নির্দিষ্ট তারিখ দেওয়া হয় সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার বিষয়ে। তবে এ তারিখটিই শেষ কথা নয়। এ তারিখ পার হয়ে গেলেও সন্তান স্বাভাবিকভাবে ভূমিষ্ঠ হতে পারে। এ জন্য বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ নেই।

মন্তব্য