অপ্রয়োজনীয় ৮ চিকিৎসা পদ্ধতি ও টেস্ট-335038 | জীবনযাপন | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বুধবার । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৩ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৫ জিলহজ ১৪৩৭


অপ্রয়োজনীয় ৮ চিকিৎসা পদ্ধতি ও টেস্ট এড়িয়ে চলুন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ মার্চ, ২০১৬ ১২:৪৯



অপ্রয়োজনীয় ৮ চিকিৎসা পদ্ধতি ও টেস্ট এড়িয়ে চলুন

স্বাস্থ্যগত বিষয়ে অনেকেই মনে করেন যত খরচ করা যায় ততই ভালো চিকিৎসা হয়। যদিও এ বিষয়টি সব সময় সত্য নাও হতে পারে। বেশি চিকিৎসক, বেশি পরীক্ষা কিংবা অতিরিক্ত ব্যয় সব সময় ভালো ফল আনে না। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসা বিষয়ে সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণে অনেকেই নানা ধরনের অপ্রয়োজনীয় মেডিক্যাল টেস্ট ও চিকিৎসা কার্যক্রমের শিকার হন। এ লেখায় রয়েছে তেমন কিছু বিষয়। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ফক্স নিউজ।
১. প্যাপ স্মিয়ার
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায়ই নারীদের বছরে একবার করে প্যাপ স্মিয়ার (Pap smear) নামে একটি পরীক্ষা করতে তাগিদ দেওয়া হয়। গর্ভাশয়ের ক্যান্সার নির্ণয়ের জন্য এ পরীক্ষা চালানো হয়। তবে এ ধরনের ক্যান্সার রাতারাতি হয় না বিধায় ঘন ঘন এ পরীক্ষা চালানোর প্রয়োজন হয় না। এমনকি এ পরীক্ষা বছরে একবার করে করারও প্রয়োজন নেই। ৩০ থেকে ৬৫ বছর বয়সের নারীদের এ পরীক্ষা তিন বছর অন্তর করা যেতে পারে।
২. পিঠ ব্যথার জন্য ইমেজিং টেস্ট
বহু চিকিৎসকই পিঠ ব্যথার জন্য ইমেজিং টেস্ট (Imaging test) করার পরামর্শ দেন। যদিও এটি প্রায়ই সঠিকভাবে সমস্যাটি নির্ণয় করতে পারে না। এতে ভুল চিকিৎসা হওয়ারও আশঙ্কা থাকে। কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের ওরিগন হেলথ সায়েন্স ইউনিভার্সিটির এক গবেষণাতেও বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।
৩. দাঁত পলিশ
অনেকেরই কিছুদিন পর পর দন্তচিকিৎসকের কাছে গিয়ে দাঁত পলিশ (Teeth polishing) করার শখ থাকে। তবে এটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক বিষয় এবং না করলেও দাঁতের মারাত্মক কোনো ক্ষতি হয় না।
৪. অপ্রয়োজনে দন্ত চিকিৎসা
নিয়মিত দন্তচিকিৎসকের কাছে যাওয়ার বিষয়টি অনেকের যেন অভ্যাসে পরিণত হয়। প্রতি ছয় মাস অন্তর দন্তচিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করার পরামর্শ দেন অনেকেই। তবে বাস্তবে আপনার যদি কোনো সমস্যা না থাকে তাহলে এর প্রয়োজন নেই।
৫. বার্ষিক কার্ডিয়াক স্ট্রেস টেস্ট
আপনার যদি উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ধূমপান, পারিবারিক রোগের ইতিহাস, উচ্চমাত্রায় কোলস্টেরলের ইতিহাস ইত্যাদি না থাকে তাহলে বার্ষিক কার্ডিয়াক স্ট্রেস টেস্ট করার প্রয়োজন নেই। এ পরীক্ষা আপনার কোনো সমস্যা থাকলে তবেই করা উচিত।
৬. বোন ডেনসিটি টেস্ট
হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষার (Bone density test) মাধ্যমে হাড়ের প্রকৃত অবস্থা জানা যায়। এটি অল্পবয়সে কোনো প্রয়োজন হয় না। তবে আপনার বয়স যদি ৬৫ বছর হয়ে যায় তখন তা প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। এ ছাড়া যাদের ধূমপান, উচ্চমাত্রায় মদ্যপান, ওজন কম কিংবা ভিটামিন ডি-র অভাব রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এটি প্রয়োজনীয়।
৭. পিইটি বা সিটি স্ক্যান
সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রোগ নির্ণয় করা সম্ভব। এটি দেহের যেকোনো স্থানের ক্যান্সারসহ অস্বাভাবিক বহু বিষয় নির্ণয় করতে পারে। তবে ব্যয়বহুল এ পরীক্ষা সাধারণত প্রয়োজন হয় না। আর নিয়মিত এ পরীক্ষার স্বাস্থ্যগত ক্ষতিও রয়েছে।
৮. ইউরিনারি ক্যাথেটার
আপনার যদি সত্যিকার ইউরিনের সমস্যা থাকে তাহলে ক্যাথেটার ব্যবহারের বিকল্প নেই। কিন্তু অনেক সময় সমস্যা হওয়ার আগেই ক্যাথেটার স্থাপনের প্রবণতা দেখা যায়। ক্যাথেটার ব্যবহারে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তাই খুব প্রয়োজন ছাড়া ক্যাথেটার ব্যবহার না করাই ভালো।

মন্তব্য