kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অগোছালো ব্যক্তিরা কেন বুদ্ধিমান ও সৃজনশীল হন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ মার্চ, ২০১৬ ২২:৩২



অগোছালো ব্যক্তিরা কেন বুদ্ধিমান ও সৃজনশীল হন

চাবিটা কোথায় রেখেছেন খুঁজে পাচ্ছেন না। অফিস থেকে ফিরে পার্সটা কোথায় রেখেছিলেন খুঁজতে খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছেন।

বিয়ে বাড়ি যেতে হবে, অফিস থেকে ফিরলেন এক ঘণ্টা দেরিতে। বাড়িতে মুখ ঝামটা, কর্মস্থলে অশান্তি। এলোমেলো, অগোছালো এ সব শব্দ শুনতে শুনতে রীতিমতো নিজের প্রতি হতাশ জন্মে গেছে। হতাশা কাটান। উঠে দাঁড়ান। কারণ মনোবিদরা বলছেন, এ রকম এলোমেলো-অগোছালো প্রকৃতির মানুষরা আসলে বুদ্ধিমান এবং সৃজনশীল হন। তাঁরা এই ধরনের সমস্যাকে ‘ক্রনিক ডিসঅর্গানাইজেশন’ বলছেন। এর ১০ টি কারণ হিসাবে তারা জানিয়েছেন :

১। একটি পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, অগোছালো ব্যক্তিরা কোনও সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে তা করেছেন।

২। এ রকম অগোছালো ব্যক্তিদের সৃজনশীলতাও অনেক বেশি। তারা কল্পনাও করেন একটু অন্য ঢঙে। ফলে স্বাভাবিক কর্ম অগোছালো হয়ে যায়।

৩। তাদের আগ্রহের সীমানাও অনেক বিস্তৃত। রোজকার কাজের পাশাপাশি একটু অন্য ধরনের সৃজনশীল কাজ যেমন, লেখালিখি, ছবি আঁকার মতো কাজও তাঁরা করে থাকেন।

৪। অগোছালো ব্যক্তিরা সরলরেখা পথে চিন্তা-ভাবনা করেন না। মনোবিদরা জানাচ্ছেন, আমাদের মস্তিষ্কের বামদিকের অংশ সরলরেখা পথে চিন্তা-ভাবনা করে আর ডানদিকের অংশ ভাবে একটু অন্য ভাবে। অগোছালো ব্যক্তিরা কোনও তথ্যকে বিশ্লেষণ করার সময় তাদের মস্তিষ্কের ডানদিকের অংশ দিয়ে সে কাজ করেন।

৫। মনোবিদরা জানাচ্ছেন, এ ধরনের ব্যক্তিরা নানান রকমমের মানুষের সঙ্গে মিশতে ভালবাসেন। যার ফলে তাঁরা নানা কিছু শিখতে পারেন, তাঁদের অভিজ্ঞতার ঝুলিও সমৃদ্ধ হয়।

৬। শেখার আগ্রহ, জানার ইচ্ছা অগোছালো ব্যক্তিদের অনেক বেশি হয় বলেই মনোবিদরা জানাচ্ছেন।

৭। এই ধরনের ব্যক্তিদের সাধারণত সময় জ্ঞান থাকে না। এর কারণ হিসাবে মনোবিদরা জানাচ্ছেন, আগের কাজটি এতো মন দিয়ে করতে থাকেন যে পরের কাজের জায়গায় সময়মত পৌঁছতে পারেন না।

৮। মনোবিদদের মতে, অনেক সময় দেখা গেছে অগোছালো ব্যক্তিদের স্কুলের পরীক্ষার ফল ভাল হয় না। কারণ, হোমওয়ার্ক বা পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেয়ে তাদের গল্প বা নাটক লিখতেই ভাল লাগে।

৯। মনোবিদদের একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই ধরনের ব্যক্তিরা একটু মুখরা হয় এবং নিজের বক্তব্যকে দৃঢ় ভাবে প্রকাশ করে।

১০। অগোছালো ব্যক্তিদের প্রোফইল পরীক্ষা করে স্ট্যান্ডফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানাচ্ছেন, এই ধরনের মানুষরা সব সময় নতুন কিছু শিখতে চায়।

সূত্র: আনন্দবাজার


মন্তব্য