kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হরমোন ভারসাম্যহীনতা থেকে দূরে থাকতে ব্যবহার করুন প্রাকৃতিক প্রসাধনী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ মার্চ, ২০১৬ ১৭:৩১



হরমোন ভারসাম্যহীনতা থেকে দূরে থাকতে ব্যবহার করুন প্রাকৃতিক প্রসাধনী

তরুণীদের মাঝে বিভিন্ন কেমিক্যালযুক্ত প্রসাধনীর কদর যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে। তবে এ প্রবণতার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন গবেষকরা।

তারা বলছেন, ক্রমাগত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রসাধনী যারা ব্যবহার করেন তাদের মধ্যে হরমোনের ভারসাম্যহীনতায় নানা ধরনের ক্ষতি দেখা যায়। এ ক্ষতি কাটাতে প্রাকৃতিক প্রসাধনীর বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।
সাম্প্রতিক গবেষণায় বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে প্রস্তুতকৃত প্রসাধনী সামগ্রীর ক্ষতিকর দিকের কথা উঠে এসেছে। এতে জানা গেছে, বিশেষ করে অল্পবয়সী নারী বা তরুণীদের মাঝে হরমোন ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করছে বাজারে প্রচলিত প্রসাধনী সামগ্রী।
এ বিষয়ে গবেষণাটি করেছেন ইউসি বার্কলে ও ক্লিনিকা ডি স্যালুড ডেল ভ্যালে ডি সেলিনাস-এর গবেষকরা। তারা প্রধানত ল্যাটিন তরুণীদের মাঝে এ গবেষণাটি করেছেন। এতে জানা গেছে, ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে তৈরি প্রসাধনী সামগ্রীর প্রভাব।
গবেষকরা জানিয়েছেন, নারীরা পুরুষের তুলনায় বেশি প্রসাধনী ব্যবহার করেন। দৈনিক ভিত্তিতে পুরুষ সাধারণত ছয় ধরনের ব্যক্তিগত প্রসাধনী ব্যবহার করলেও নারীরা গড়ে ১২টি ব্যবহার করেন। এক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন তরুণীরা।
হরমোনের জন্য ক্ষতিকর প্রসাধনী
প্রসাধনী সামগ্রীগুলোতে রয়েছে বহু ধরনের রাসায়নিক পদার্থ। এগুলো নানাভাবে দেহের ক্ষতি করে। এ ক্ষতির মধ্যে অন্যতম হলো হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করা। এ গবেষণার জ্য ১০০ জন তরুণীকে তিন দিন ধরে বাজারে প্রচলিত প্রসাধনী সামগ্রীর বদলে প্রাকৃতিক প্রসাধনী সামগ্রী ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। এতে জানা যায়, প্রাকৃতিক প্রসাধনী ব্যবহারে তাদের দেহ থেকে হরমোনের ক্ষতিকর রাসায়নিক কমে আসে। এ বিষয়ে গবেষণাটির ফলাফল প্রকাশিত হয় এনভায়রনমেন্টাল হেলথ পার্সপেকটিভস জার্নালে।
গবেষকরা জানান, মাত্র তিন দিন ক্ষতিকর প্রসাধনী বাদ দিয়ে প্রাকৃতিক প্রসাধনী ব্যবহার করলেই উপকার পাওয়া যায়। যেমন ডায়েথিল ফিথালেট নামে একটি উপাদান রয়েছে যা সাধারণ সুগন্ধী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রাকৃতিক প্রসাধনী ব্যবহার করলে এটি তিন দিনেই ২৭ শতাংশ কমে যায়। একইভাবে মিথাইল ও প্রপিল প্যারাবেনস ৪৪ থেকে ৪৫ শতাংশ কমে আসে।
ছোট পরিবর্তনে বড় পার্থক্য
গবেষকরা জানিয়েছেন ক্ষতিকর প্রসাধনী সামগ্রী নারীদের শুধু হরমোনজনিত সমস্যাই সৃষ্টি করে না, এটি আরও নানা উপায়ে দেহের ক্ষতি করে। মস্তিষ্কের সমস্যা, ওজন বৃদ্ধি ও ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি সমস্যাও এজন্য সৃষ্টি হতে পারে। এক্ষেত্রে গবেষকদের পরামর্শ হলো ক্ষতিকর রাসায়নিকযুক্ত প্রসাধনী সামগ্রী ব্যবহার বাদ দিয়ে তার বদলে প্রাকৃতিক উপাদানসমৃদ্ধ প্রসাধনী ব্যবহার করা। কিছু প্রসাধনী সামগ্রীতে ‘অর্গানিক’ লেবেল দেওয়া থাকে। এসব সামগ্রী ব্যবহার করলে এ ক্ষতিকর প্রবণতা কমানো সম্ভব।
এ বিষয়ে গবেষণাপত্রটির প্রধান লেখক কিম হার্লে বলেন, ‘আমরা জানি তরুণীরা খুবই উদ্বেগজনকভাবে এসব ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে আসছে। কখনো কখনো এ বিষয়ে পূর্ব সতর্কতা গ্রহণ করা খুবই জরুরি। বিশেষ করে কোন ধরনের পণ্য কেনা হচ্ছে তাতে পরিবর্তন আনা সম্ভব হলে তা খুবই কার্যকর হবে। ’


মন্তব্য