kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


যে কারণে আমাদের কাঁচা খাবার খাওয়া উচিত

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ মার্চ, ২০১৬ ১৩:৫৪



যে কারণে আমাদের কাঁচা খাবার খাওয়া উচিত

এ পৃথিবীতে ৮০ মিলিয়ন প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭ লাক প্রজাতিই পশু।

এরা সবাই কাঁচা খাবার খেয়ে বেঁচে থাকে। একমাত্র মানুষ খাবার আগুনে রান্না করে খায়। এ কারণেই মানুষের আয়ু ধীরে ধীরে কমে আসতে থাকে। জীবনের অর্ধেকটাই নানা  ক্রনিক অসুখে ভুগতে হয় মানুষকে। অন্যান্য পশুদের মধ্যে এত সমস্যা একেবারেই দেখা যায় না।  

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমনকি গৃহপালিত প্রাণীদের মধ্যে ক্যান্সার, আরথ্রাইটিস এবং অন্যান্য রোগবালাই দেখা যায় মানুষের মতোই। এর মূল করণ হলো, গৃহপালিত প্রাণীগুলোকে মানুষ তার রান্ন করা খাবার খাওয়ায়। তারা প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটকৃত খাবার খাওয়ায়। অথচ মানুষের জীবনের ব্যপ্তি ১২০-১৪০ বছর পর্যন্ত।

অতিরিক্ত আগুনে খাবার রান্না এবং মানসিক চাপ দক্ষতার সঙ্গে সামাল না দিতে পারার কারণেই মানুষের আজ এ অবস্থা। ডায়েটিশিয়ান অ্যান্ড ওয়েলনেস কনসালটেএন্ট ড. বেটি পিএস জানান, আগুনে পোড়া পুষ্টি উপাদান আসলে নীরব ঘাতক। বহু বছর ধরে এরা জীবনটাকে শেষ করে দেয়। একে এক ধরনের বিষ বলা যায়।

খাবারে যখন তাপ দেওয়া হয় তখন কি ঘটে? প্রোটিন জমাট বেঁধে শক্ত হয়। প্রোটিনের আণবিক গঠন বদলে যায় এবং এ কারণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অ্যামাইনো এসিড নষ্ট হয়। কার্বোহাইড্রেট আঠালো হয়ে পড়ে। ফ্যাটকে অতিরিক্ত তাপ দেওয়া হলে কয়েক ধরনের ক্ষতিকর উপাদান নির্গত হয়। হাইড্রোকার্বন, নাইট্রোসামিন, অ্যাক্রোলিন এংব বেঞ্জোপাইরিন ইত্যাদি মারাত্মক ক্ষতিকর উপাদান উৎপন্ন হয়। তাপমাত্রার কারণে ৫০ শতাংশ ভিটামিন এবং খনিজ নষ্ট হয়ে যায়। হজমে সহায়ক এঞ্জাইম নষ্ট হয় শতভাগ। প্রাকৃতিক ফাইবার ভেঙে যায়।

আবার উদ্ভিজ্জ খাবারে বিদ্যমান কীটনাশক তাপে আরো বিষাক্ত উপাদানে পরিণত হয়। অক্সিজেন চলে যায়। রান্না করা খাবারে থাকা অর্গানিক নয় এমন খনিজ রক্তবাহী নালীতে জমাট বাঁধতে থাকে। এতে দেহে বয়সের ছাপ পড়তে থাকে। দেহের অভ্যন্তরের পেশি বা হাড়ের সংযোগস্থলে জমা হতে থাকে এসব খনিজ।

কিন্তু যেকোনো কাঁচা খাবার স্বাস্থ্যটাকে সজীব রাখে। যেকোন বয়সে দেহ সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারে। এ কারণে বহু বিশেষজ্ঞ প্রত্যেক খাবারে কিছু কাঁচা সবজি রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। মানুষ ছাড়া অন্যান্য প্রাণীদের খাদ্যতালিকাটা প্রায় একই থাকে। এরা সবাই কাঁচা খাবার খায়। এদের দেহে খাবার সব সময় হজম হয়। একেক প্রাণী একেক খাবার খায়। তারা সেগুলো একদম উৎস থেকে সরাসরি খেয়ে থাকে।

কিছু খাবার আছে যাতে মানুষের দেহের জন্যে ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে। যেমন- রান্না না করা সয়াবিনে ফাইটোহেমাগ্লুটিনিন নামের এক ধরনের যৌগ রয়েছে যা হজমে বিঘ্ন ঘটায়। এটি খেলে ডায়রিয়া হয়ে যেতে পারে। তেমনিভাবে কাঁচা বাদামে রয়েছে অ্যাসপারগিলাস ফ্লাভুস নামের এক ধরনের ছত্রাক। এটি দেহের জন্যে ক্ষতিকর। এদের বিষক্রিয়া বন্ধ করতেই রান্না করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সুস্বাদু খাবারের জন্যেও রান্না প্রক্রিয়া শুরু করে মানুষ।

সুস্থ-সবলভাবে বেঁচে থাকতে হলে খেতে হবে। আর এ জন্যে ৩টি কাজ করা যায়।

১. কাঁচা ও এমন খাবার খেতে হবে যা আমাদের পাকস্থলী গ্রহণ করে নেয়।

২. প্রথম বিষয়টি নিয়মিত করতে হবে।

৩. উচ্চতাপে রান্না করা খাবার খাওয়ার অভ্যাস বাদ দিতে হবে। সেই সঙ্গে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য এড়িয়ে যাওয়া বাঞ্ছনীয়।

টাটকা সবজি খাওয়াটাও জরুরি। কারণ গাছ বা ক্ষেত থেকে যেকোনো সবজি তুলে আনার পরই তারা পুষ্টি হারাতে শুরু করে। তাই এদের সংরক্ষণ করে খাওয়া আরো বেশি অস্বাস্থ্যকর। এ ভাবে রেফ্রিজারটরে খাবার রেখেও আমরা এদের যথেষ্ট পুষ্টিহীন করে তুলি। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

 


মন্তব্য