কাজের বিনিময়ে টাকা ছাড়া কর্মীরা যা-332847 | জীবনযাপন | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১২ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৪ জিলহজ ১৪৩৭


কাজের বিনিময়ে টাকা ছাড়া কর্মীরা যা চায়...

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ মার্চ, ২০১৬ ১৮:০৯



কাজের বিনিময়ে টাকা ছাড়া কর্মীরা যা চায়...

কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মী নিয়োগ দিলে তাদের শুধু মোটা অংকের টাকা দিলেই চলে না। টাকা ছাড়াও রয়েছে আরও বেশ কিছু বিষয়, যা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে বিবেচিত হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কাজের স্বীকৃতি। এ লেখায় রয়েছে তেমন কয়েকটি বিষয়। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ফক্স নিউজ।
সম্প্রতি গ্লোবাল এমপ্লয়ি রিকগনিশন ফার্ম ‘গ্লোবোফোর্স’ এক জরিপের ভিত্তিতে জানিয়েছে, ৪০ শতাংশ কর্মী গত এক বছরে প্রতিষ্ঠান থেকে স্বীকৃতি পায়নি। এ বিষয়ে গ্লোবোফোর্স-এর সিইও ও ‘দ্য পাওয়ার অব থ্যাংকস’ বইটির লেখক এরখি মসলি জানান, কর্মীরা তাদের কাজের স্বীকৃতি চায়। যদিও প্রতিষ্ঠানগুলো এ কাজটি করতে চায় না। এটি ব্যবসায় সাফল্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, ‘মানুষের দৈনন্দিন জীবনের একটি অংশ হওয়া উচিত স্বীকৃতি, বছরে একবার নয়।’
একটি প্রতিষ্ঠান কর্মীদের প্রণোদনা হিসেবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কাজটি করতে পারে তা হলো কাজের স্বীকৃতি। এক্ষেত্রে কাজের স্বীকৃতি বিষয়ে কয়েকটি পরামর্শ দেওয়া হলো এ লেখায়-
১. তাৎক্ষণিক স্বীকৃতির সংস্কৃতি
কোনো একটি কাজ শেষ হওয়ার পর কর্মীরা সে কাজের স্বীকৃতি দাবি করে। আর প্রতিষ্ঠানে যদি স্বীকৃতি দেওয়ার সংস্কৃতি না থাকে তাহলে তা কর্মীদের কাজের উৎসাহ নষ্ট করে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হয় তাৎক্ষণিক স্বীকৃতি দেওয়ার রীতি চালু করা হলে। কাজের স্বীকৃতি কর্মীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এক্ষেত্রে পিয়ার-টু-পিয়ার মডেল হতে পারে আদর্শ। এ মডেলে সবাই মিলেই স্বীকৃতি দেয় ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এক্ষেত্রে অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে স্বীকৃতির এ বিষয়টিকে উৎসাহিত করতে হবে। স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বেতনেও তার প্রতিফলন যোগ করা যায়। অন্যথায় স্বীকৃতির বিষয়টি খুব একটা কার্যকর নাও হতে পারে।
২. যথাযথ প্রশিক্ষণ
প্রতিষ্ঠানের কাজে কর্মীরা কিভাবে ভালোভাবে অংশ নেবে তা অনেকের কাছেই বিভ্রান্তিকর। আর এ বিভ্রান্তি দূর করার জন্য প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। প্রশিক্ষণ শুধু ম্যানেজারদের জন্য নয়। সব কর্মীকেই প্রশিক্ষণের আওতায় আনা প্রয়োজন। কর্মীদের প্রতিষ্ঠানের নানা বিষয়ে কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন। এ প্রশিক্ষণে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করাও প্রয়োজনীয় বিষয়। এ প্রশিক্ষণের সঙ্গে থাকা উচিত প্রয়োজনীয় প্রণোদনা। প্রশিক্ষণ বাস্তব জীবনে কতখানি কাজে লাগছে সে অনুযায়ী প্রণোদনা কম-বেশি করা যেতে পারে। তবে বিষয়টি যেন সঠিকভাবে সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠে সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
৩. অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ও বাজার
যে কোনো প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে চলার জন্য অভ্যন্তরের পরিবর্তন সম্পর্কে সঠিকভাবে যোগাযোগ ও বাজারের গুরুত্ব রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের পরিবর্তন কিভাবে ভালো ফল বয়ে আনবে তা নিয়ে অনেকেই দ্বীধায় থাকতে পারে। এ দ্বীধা কাটানোর জন্য কার্যকর উপায় হতে পারে কর্মীদের সব স্তরে ক্ষমতায়ন ও যথাযথভাবে সচেতনতা গড়ে তোলা। অভ্যন্তরীণ এ মার্কেটিং দীর্ঘমেয়াদী হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। এটি শুধু প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতিকে ধারণ করলেই হবে। প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে নিত্যনতুন প্রোগামের মাধ্যমে এ বিষয়টি চালানো যেতে পারে।

মন্তব্য