kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


'যা তোমাকে সুখী করে তাই করো- এটাই হতে পারে নিকৃষ্টতম পরামর্শ'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ মার্চ, ২০১৬ ২০:০৬



'যা তোমাকে সুখী করে তাই করো- এটাই হতে পারে নিকৃষ্টতম পরামর্শ'

ইলেকট্রনিক মেইলিং লিস্ট সিস্টেমের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে ইমেইল ভাগ করে দেন জে মাউরিন হেন্ডারসন। সেখানকার কেউ একজন একবার তারই অনুজ বন্ধুকে ক্যারিয়ার বিষয়ে কিছু উপদেশ দিচ্ছিলেন।

তাদের কোনো এক বিষয়ে ইমেইলের আদান-প্রদান ঘটছিল। সেখানে পরামর্শদাতা লিখেছেন, 'এমন কিছু করো যা তোমাকে সুখী করে'। কিন্তু এমন নির্দিষ্ট কিছু জিনিস কি আছে যা সুখ আনতে সক্ষম?

যিনি উপদেশ দিচ্ছিলেন তিনি অবশ্যই শুভাকাঙ্ক্ষী। তিনি অপরজনের ভালো চাইছেন। কিন্তু ক্যারিয়ারকে এগিয়ে নেওয়ার কৌশলে 'যা তোমাকে সুখী করে তাই করো' বিষয়টা কতটুকু গ্রহণযোগ্য হতে পারে?

আবার এও সঠিক না যে, পৃথিবীর সবকিছু মানুষকে সুখী করতে পারে না। আবার যা সুখী করতে পারে না তাই যে পয়সা আনে এনমও কোনো কথা নেই।

প্রাণী হিসাবে আমরা দুর্ভাগ্যজনকভাবে ধারণা করতে পারি না যে, আমাদের ঠিক কি সুখী করতে পারে, জানান মাউরিন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড্যানিয়েল গিলবার্ট তার ক্যারিয়ার গড়েছেন সুখ নিয়ে গবেষণার কাজে। 'স্টাম্বলিং অব হ্যাপিনেস' বইয়ে তিনি দেখিয়েছেন, ভবিষ্যতের সুখের সন্ধানটা কতটা প্রভাবিত, কল্পনাপ্রবণ এবং জটিল। তিনি লিখেছেন, ভবিষ্যত নিয়ে আশাবাদ বর্তমানেই করা হয়। কাজেই ঠিক এই মুহূর্তে যা অনুভব করছেন বা যেভাবে চিন্তা করছেন তার ওপর ভবিষ্যতের চিন্তা বেরিয়ে আসবে। আর এ চিন্তা ভবিষ্যতের সময়ে প্রভাববিস্তার করবে।

সুখ আসলে একটা আপেক্ষিক বিষয় ও চলমান প্রক্রিয়া। ঠিক এখন কোনো একটা বিষয়ে সুখ অনুভব করলে পরবর্তীতে সুখের শর্ত বদলে যাবে। হয়তো এখন হাঁটতে পছন্দ করছেন। কিন্তু প্রচণ্ড রোদে অসুস্থ হয়ে পড়বেন চিন্তা করলে আপনার অনুভূতি ভিন্ন হবে। আবার একই বিষয়ে ভিন্ন সময়ের কারণে ভাবনাটাও বদলে যেতে পারে।

ক্যারিয়ার নিয়ে যখন সুখের বিষয়টি আসে তখন দুটো বিষয় প্রভাবশালী হয়ে উঠতে পারে। একটি সময় এবং অপরটি পয়সা। ভবিষ্যতে আমরা কতটা সুখী হবো তার অনেকটাই  নির্ভর করে বর্তমান ও ভবিষ্যতের পার্থক্যের ওপর, যে পার্থক্যটা আমরা নিজেদের মধ্যে দেখতে চাই। অথচ এ নিয়ে চিন্তার খুব কম সুযোগ মেলে আমাদের। তবে এ সময় দিতেই ১৮ বছরের পর মানুষকে চিন্তা করতে বলা হয় যে সে আগামী ৪০ বছর পর্যন্ত কি করতে ভালোবাসবে?

পড়াশোনার পেছনে যথেষ্ট খরচ করতে হয়। সুখকর কোনো পেশায় নিয়োজিত হতে চায় তরুণ প্রজন্ম। কিন্তু পেশাটির সঙ্গে অর্থনৈতিক ঝুঁকির বিষয়টি চলে আসলে সুখের বিষটি তার চেহারা বদলায়। স্রেফ শখের বশে এবং ভালো লাগা থেকে লেখালেখি করা বা অভিনয় করা বা গান গাওয়া এবং অর্থ উপার্জনে একই কাজ করার মধ্যে যথেষ্ট ফারাক রয়েছে। আপনি যা করতে চাইছেন তার মাধ্যমে অর্থের কেমন সরবরাহ আসতে পারে তার একটি হিসাব দাঁড় করাতে হয়। এর জন্যে সৃষ্টিশীলতার সঙ্গে কিছু নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হয়।

ধরুন, একটি প্রতিষ্ঠানে পণ্যের ডিজাইন করেন আপনি। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডাররা পণ্যের ডিজাইনটি বার বার বদলানোর অনুরোধ করবেন। আপনার উদ্যোগকে উপেক্ষা করবেন এবং সমালোচনায় মুখর হবেন। কাস্টমার সার্ভিস থেকে আপনাকে দোষারোপ করবে। কিন্তু এ পণ্য যখন অর্থ আনবে যখন তারা সুখী হয়ে উঠবেন। এখানে তাদের সুখের কারণ হচ্ছে অর্থ।

আবার যিনি পণ্যটি বানিয়েছেন, তিনি এটি বানিয়ে সুখী। অথচ শেয়ারহোল্ডারদের সমালোচনায় তার সুখ কি আগের মতো থাকতে পারছে? এখানে কি আপনার সুখ অর্থ, মানুষের মনোযোগ, লাইক, ক্লিক ইত্যাদির ওপর নির্ভর করছে? এসব প্রশ্নের কোনো নির্দিষ্ট জবাব আছে কি। কাজেই সুখ এমন এক বিষয় যার শর্তকে নির্দিষ্ট করে দেওয়া যায় না। সূত্র : ফোর্বস

 


মন্তব্য