kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অবিবাহিত যুগলের হোটেলে থাকতে আইনি বাধা নেই ভারতে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ মার্চ, ২০১৬ ০০:৫৬



অবিবাহিত যুগলের হোটেলে থাকতে আইনি বাধা নেই ভারতে

নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেন। কিন্তু জানেন কি, দেশের আইনি চোখে নাগরিক অধিকারের তালিকায় কোন কোন বিষয় অন্তর্ভুক্ত? কী কী সুবিধা ভোগ করার অধিকার রয়েছে? চোখ বুলিয়ে নিন তালিকায়।

১) সন্তানসম্ভবা কর্মীদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যায় না। গর্ভবতী কর্মচারীকে যদি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এই মর্মে কোনো নোটিশ, চিঠি বা ই-মেল পাঠিয়ে থাকেন, তা অবৈধ সাব্যস্ত হবে।

২) পথেঘাটে হঠাত্‍ তৃষ্ণা মেটাতে অথবা শৌচাগার ব্যবহার করতে হলে অযথা সঙ্কোচে ভোগার কারণ নেই। আইন বলছে, পানীয় জল চাইলে বা শৌচাগার ব্যবহার করতে চাইলে কোনো হোটেল কর্তৃপক্ষ কাউকে নাকচ করতে পারে না। দেশের যে কোনো প্রান্তে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আপনি এই দুই পরিষেবা পেতে পারেন।

৩) ভারতীয় আইনে এমন কোনো ধারা নেই যার ভিত্তিতে অবিবাহিত যুগলকে কোনো হোটেলে প্রবেশ করতে নিষেধ করা যায়।

৪) ডেপুটি কমিশনার অথবা পুলিশ কমিশনারের কাছে রেজিস্টার্ড পোস্ট বা ই-মেলের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারেন ভারতীয় মহিলারা। এই বিষয়ে কোনো বাধা-নিষেধ নেই।

৫) গ্রেপ্তার করার পর কোনো অভিযুক্তকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিচারকের সামনে হাজির করতে হবে। বাধ্যতামূলক এই হাজিরার জন্য এর চেয়ে বেশি সময় ওই ব্যক্তিকে আটকে রাখা বেআইনি।

৬) অবিবাহিত নারীর সঙ্গে পরকীয়ার কারণে কোনো বিবাহিত ভারতীয় পুরুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা যায় না। শুধুমাত্র এই অভিযোগে কোনো বিবাহিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা সম্ভব নয়।

৭) উত্তরাধিকার সূত্রে অর্জিত সম্পত্তির সমান দাবিদার পুত্র ও কন্যাসন্তান। এই ব্যাপারে কোনো পক্ষপাতিত্ব আদালত বরদাস্ত করে না।

৮) বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করার আগে জেনে রাখা জরুরি, বিয়ের পর অন্তত এক বছর স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে একত্রে বসবাস না করলে এমন মামলা আদালত গ্রহণ করে না।

৯) কাউকে জেরা বা গ্রেপ্তার করতে হলে পুলিশ কর্মীদের বৈধ পরিচয়চিহ্ন ও পরিচয়পত্র থাকা আবশ্যক। এই বিষয়ে প্রশ্ন করার অধিকার সমস্ত ভারতীয় নাগরিকের রয়েছে।

১০) সূর্যাস্তের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত কোনো ভারতীয় মহিলাকে গ্রেপ্তার করার এক্তিয়ার নেই পুলিশের। সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টার ভেতরে একমাত্র মহিলা পুলিশ কর্মীই মহিলা অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেন।

১১) ভারতীয় আইনে প্রকাশ্যে আলিঙ্গন করা অথবা চুমু খাওয়া অপরাধ বলে গণ্য করা হয় না।

১২) কোনো ভারতীয় নারীর বিরুদ্ধে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কারণে অভিযোগ দায়ের করা যায় না।

১৩) অভিযোগ নিতে অস্বীকার করলে এবং তা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারের ৬ মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

১৪) বিবাহিত যুগল একই লিঙ্গের দু'টি শিশুকে দত্তক নিতে পারেন না। এই ব্যাপারে আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

১৫) অবিবাহিত, ডিভোর্সি বা বিপত্নীক কোনো পুরুষ কন্যা সন্তান দত্তক নিতে পারেন না।

১৬) গ্রেপ্তার করার সময় অভিযুক্তকে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ জানানো আবশ্যক। এই বিষয়ে ভারতীয় আইন আনুসারে তাঁর প্রশ্ন করার অধিকার রয়েছে।

১৭) আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে রেকর্ড করা ফোনের কথোপকথন গ্রাহ্য হয়। সেই রেকর্ডিংয়ের ভিত্তিতে বিচারক মামলায় প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারেন।

১৮) অপরাধ যেখানেই ঘটে থাকুক না কেন, ভারতীয় মহিলারা দেশের যে কোনো প্রান্তের থানায় অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। সেই অভিযোগ দেশের সমস্ত থানা গ্রহণ করতে বাধ্য।

১৯) শ্লীলতাহানি বা ধর্ষণের শিকার মহিলাদের থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে পুলিশ বাধ্য করতে পারে না।

২০) ধর্ষণকাণ্ডে নিগৃহীতা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ ও সাহায্য পাবেন।

২১) এফআইআর দায়ের না করেই চিকিত্‍সকের কাছে শারীরিক পরীক্ষা করাতে পারবেন নিগৃহীতা। তবে চিকিত্‍সকের পর্যবেক্ষণই ধর্ষণের মামলায় চূড়ান্ত সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য করা হবে না।

২২) মদ্যপান করেছেন বলে সন্দেহ করলে অথবা তা প্রমাণ করার পরীক্ষা দিতে অস্বীকার করলে পুলিশ আপনাকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করতে পারে।

২৩) আদালতে তলব করে কোনো মহিলাকে জেরা করা যায় না। তবে প্রয়োজনে তাঁকে তাঁর বাসভবনে গিয়ে জেরা করা যেতে পারে।

২৪) কর্মক্ষেত্রে একই পদে থাকা পুরুষ ও নারী কর্মচারীদের মধ্যে বেতনগত বৈষম্য থাকবে না। আইন অনুযায়ী তাঁদের বেতনের পরিমাণ সমান হতে হবে। সূত্র: এই সময়


মন্তব্য