অন্যকে খুশি করতে পয়সা খরচ যে ৬ কারণে-330920 | জীবনযাপন | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১২ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৪ জিলহজ ১৪৩৭


অন্যকে খুশি করতে পয়সা খরচ যে ৬ কারণে অর্থহীন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ মার্চ, ২০১৬ ১৮:৫৬



অন্যকে খুশি করতে পয়সা খরচ যে ৬ কারণে অর্থহীন

ছোটকালে মানুষ তার চারদিকের মানুষকে অনুসরণ করে বেড় উঠতে চায়। কিশোর বয়সে ছেলে-মেয়েরা সামাজিক নিয়ম-কানুন নিয়ে বেজায় ব্যস্ত থাকে। একজনের কোনো কাজ রীতিবিরুদ্ধ হলেও অন্যরা এ নিয়ে সমালোচনা করেন। কি পোশাক পরতে হবে বা কিভাবে কথা বলতে হবে অথবা কোন ধরনের গান শুনতে হয় তার পুরো প্রভাব চারপাশ থেকেই আসে।

আবার ধীরে ধীরে মানুষ প্রাপ্তবয়স্ক হলে নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা গড়ে উঠতে থাকে। তখন মানুষ নিজের সেরাটা বের করে আনা এবং অন্যদের দেখানোতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তবে বেশ কিছু সামাজিক আচরণ বা নিয়ম অর্থহীন বলে মনে করে বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে অর্থ খরচের বিষয়টা যখন আসে, তখন ভুল কারণে তা জলাঞ্জলি দেওয়ার কোনো মানে হয় না।

স্বজন, প্রতিবেশী, বন্ধ এবং সহকর্মীদের খুশি করতে সবাই বেশ অর্থ খরচে প্রস্তুত থাকেন। অথচ এটা অর্থহীন পয়সার অপচয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এর পেছনে অবশ্য ৬টি কারণ তুলে ধরেছেন তারা।

১. ভবিষ্যতে ভালো লাগবে না : কারো জন্যে পয়সা খরচ করে বড় একটা উপহার কিন অল্প সময়ের জন্যে খুব ভালো লাগবে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এর কুফল বুঝতে পারবেন। এর কারণে ভবিষ্যতে অর্থ বিষয়ক কোনো লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হতে হবে। বড় ধরনের ভুলে এমনকি অবসরের পরের কোনো লক্ষ্যও ভেস্তে যেতে পারে। মাঝে মধ্যেই অন্যের তুষ্টির জন্যে পয়সা খরচ করতে করতে এক সময় তা বড় অঙ্কের খরচ হয়ে দাঁড়ায়। অথচ এ পয়সা বুড়ো বয়সে বড় ধরনের সম্বল হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে অবসরের পর অর্থকষ্টে না থাকতে চাইলে এসব অর্থ সঞ্চয় করে রাখুন।

২. অন্যেরটা কৃত্রিম হতে পারে : মানুষ বাড়তি প্রয়োজন মেটাতে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে। ২০১৫ সালের আমেরিকান পরিসংখ্যানে বলা হয়, দেশটির পারিবারিক ঋণ গড়ে ১৫ হাজার ৬০৯ ডলার। বেশিরভাগ সময় মানুষ তার পরিচিত বা বন্ধুর দামি মোবাইল বা পোশাক দেখে নিজের জন্যে তা করতে উদ্যোগী হয়। আসলে অন্যের যা দেখছেন হয়তো, তা করতে তিনিও হয়তো ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। মানুষের অর্থনৈতিক জীবনটা অনেক বেশি বাস্তবিক। যাদের অনেক অর্থ আছে বলে মনে হচ্ছে, তাদের বেশিরভাগই চাপে পড়ে ঋণের দায় তুলে নিয়েছেন।

৩. পয়সা থাকাটাই পুরস্কার : নতুন কিছু একটা কিনলে মনটা ভালো হয়ে যাবে। অর্থ খরচ করে কেনার একটা তৃপ্তি আছে। কিন্তু কিছু দিন পরই জিনিসটিকে আর আগের মতো পছন্দনীয় মনে হবে না। অথচ অর্থ ঠিকই খরচ হয়ে গেছে। প্রকৃতপক্ষে নিজের কাছে অর্থ থাকাটাই পুরস্কারের মতো। অন্যদের জন্যে দামি দামি উপহার কেনার অর্থ হলো আপনার পয়সা চলে যাওয়া, যা থাকা অবস্থায় আপনি শক্তিশালী।

৪. সবাইকে খুশি করতে পারবেন না : একজন মানুষ কখনোই সবাইকে সন্তুষ্ট করতে পারে না। কাজেই অর্থ খরচ করেও সবাইকে তুষ্ট করা যায় না। তাই সবার জন্যে অর্থ খরচ শেষ পর্যন্ত অপচয় ছাড়া আর কিছুই না।

৫. দেখানোর কিছু নেই : আপনি পয়সা দিয়ে কাউকে কিছু কিনে দিয়ে কিছুই প্রমাণ করতে পারেন না। পয়সা দিয়ে বস্তু কিনে তার মাধ্যমে ভালোবাসা প্রকাশ করা যায় না। আপনি যা কিনতে চাইছেন তা টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন বা কোন প্রতিষ্ঠানের প্ররোচনা বা সামাজিক নিয়মের চাপে করছেন। এর পেছনে বাণিজ্যিক বিষয়টি জড়িত। কাজেই এ উপায়ে কারো প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করা সম্ভব নয়।

৬. সত্যিকার বন্ধুরা আপনাকেই চান : বন্ধুত্ব ধরে রাখতে দামি উপহার শর্ত হতে পারে না। আপনি যেমন তেমন মানুষটাকেই গ্রহণ করে নেবেন তারা। আপনাকেই ভালোবাসবেন তারা। এর জন্যে তাদের দামি জামা বা বিশেষ উপহার প্রদান বা অর্থ খরচ করে দামি রেস্টুরেন্টে খাওয়াতে হবে না। আপনি ধনী বা দরিদ্র হন না কেন, সত্যিকার বন্ধুরা দেখতে চান আপনি ক্রমাগত সংগ্রাম করে চলেছেন। আপনার দামি জুতো বা গাড়িতে আকৃষ্ট নন তারা। আবার তাদের পেছনে অর্থ খরচ করাটাকেও তারা ভালো চোখে দেখবেন না। কাজেই অর্থ খরচের পেছনে এমন অর্থহীন উপায় বেছে নেবেন না। সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

 

মন্তব্য