kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


উচ্চরক্তচাপ বিষয়ে কিছু সত্য-মিথ্যা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ মার্চ, ২০১৬ ১৬:২১



উচ্চরক্তচাপ বিষয়ে কিছু সত্য-মিথ্যা

উচ্চরক্তচাপ বা হাইপারটেনশন হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক এবং অন্যান্য প্রত্যঙ্গের অবস্থা খারাপ করে দিতে পারে। মানুষের আদর্শ রক্তচাপ ১২০/৮০ মিলিমিটার অব মারকারি।

যদি রক্তচাপ সব সময় ১৪০/৯০ মিলিমিটার অব মারকারি থাকে তবে এক উচ্চরক্তচাপ বলা হয়। এটি নীরব ঘাতক বলে পরিচিত। এ-সংক্রান্ত প্রচলিত বেশ কিছু ধারণা আসলে ভুল যা চিকিসাবিজ্ঞানীরা জানাতে চান।

১. নারীদের অপেক্ষকৃত কম উচ্চরক্তচাপ হয় বলে জানেন সবাই। অথচ এটি পুরোপুরি ভুল ধারণা। নারী-পুরুষ উভয়ই প্রায় সমান ঝুঁকিতে রয়েছেন। এক পরিসংখ্যানে বলা হয়, ২৫ বছরের বেশি বয়সীদের ২৩.১০ শতাংশ পুরুষ এবং ২২.৬০ নারী উচ্চরক্তচাপের সমস্যায় থাকেন।

২. যদি উচ্চরক্তচাপ থাকে তবে মাথাব্যথা হবে বলে বিশ্বাস অনেকের। কিন্তু উচ্চরক্তচাপে যে মাথাব্যথা হবে এমন কোনো কথা নেই। একে চিহ্নিত করতে মাথাব্যথাকে লক্ষণ হিসাবে ধরে নেবেন না।

৩. মারকারি চাপের উচ্চতম ও নিম্নতম বিন্দু রক্তচাপ নির্ণয় করে। কাজেই যেকোনো একটি রিডিং দেখেই ধরে নেবেন না যে আপনার উচ্চরক্তচাপ রয়েছে। এটি চিহ্নিত করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে ওপরের এবং নিচের উভয় চাপ পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

৪. রক্তচাপ নির্ণয়ের কেবল ওপরেরটি বেশি হলেও সমস্যা নেই, যদি নিচের ঠিক থাকে। এই ভুল ধারণা নিয়েও অনেকে বাস করছেন। কারণ হৃদযন্ত্রের এ অবস্থা মাঝে মাঝে হতে পারে। সব সময় নয়। ডায়াস্টোলিক চাপ অপেক্ষা সিস্টোলিক চাপ খুব কমই উচ্চমানের হয়ে যায়।

৫. লবণ কম নিতে খাবারে পরিমাণমতো লবণ দিলেই চলে বলে ধরে নেন অনেকে। এটা আসলে একেবারে ভুল ধারণা। কারণ, প্রত্যেক খাবারে লবণ রয়েছে। এর সঙ্গে আলাদা লবণ নেওয়া মানে বেশি বেশি লবণ খাওয়া।

৬. হাইপারটেনশন খুব বেশি হলে তা কমানো সম্ভব নয় বলে ধরে নেন অনেকে। আবার অনেকে পারিবারিকভাবে এটি পেয়ে থাকলে ঝুঁকির মাত্রা বেশি বলে ধরে নেন। অথচ পুরোটাই ভুল ধারণা। চিকিৎসার মাধ্যমে উচ্চরক্তচাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

৭. আবার অনেকে মনে করেন, উচ্চরক্তচাপ কেবলমাত্র ওষুধের মাধ্যমেই নিরাময় সম্ভব। এটাও ভুল ধারণা। হাইপারটেনশন ওষুধ ছাড়াও কমিয়ে রাখা যায়। এমনকি এ থেকে মুক্তিও পাওয়া সম্ভব বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মেনে চললে।

৮. শেষবার রক্তচাপ আদর্শ মানের ছিল। কাজেই ওষুধ গ্রহণ বন্ধ করা যেতে পারে বলে ভুল করেন অনেকে। ওষুধ গ্রহণ ও বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে সব সময় চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ জরুরি।
সূত্র : টামইস অব ইন্ডিয়া

 


মন্তব্য