• ই-পেপার

উপবাস : স্বাস্থের জন্য ভালো নাকি খারাপ?

যেসব ভিডিও আপলোড দিলেই নিষিদ্ধ হবে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট

অনলাইন ডেস্ক
যেসব ভিডিও আপলোড দিলেই নিষিদ্ধ হবে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট
সংগৃহীত ছবি

অন্যের অজান্তে ভিডিও ধারণ করে তা ‘প্রাঙ্ক’ বা বিনোদনের নামে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে মেটা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এমন হয়রানিমূলক বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনকারী ভিডিও পোস্ট করলে সংশ্লিষ্ট ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধও করা হতে পারে।

এনগ্যাজেটের প্রতিবেদনে জানা যায়, ইনস্টাগ্রাম প্রধান অ্যাডাম মোসেরি এক ভিডিও বার্তায় বলেন, মানুষের অজান্তে তাদের প্রতিক্রিয়া ধারণ করে প্রকাশ করা বা বিব্রত করার উদ্দেশ্যে তৈরি ভিডিও প্ল্যাটফর্মে অনুমোদন দেয়া হবে না। বিশেষ করে ‘পিকআপ লাইন’ বা একই ধরনের কনটেন্ট, যেখানে কারও সম্মতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করা হয়, সেগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলা হবে।

সম্প্রতি অনেক কনটেন্ট নির্মাতা মেটার স্মার্ট চশমা ও অন্যান্য পরিধানযোগ্য ক্যামেরা ব্যবহার করে পথচারী, সেবাকর্মী বা সাধারণ মানুষের অজান্তে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করছেন। আর বিষয়টি  অনেকেই ভালোভাবে নিচ্ছে না আর এটা যা মেটার পণ্যগুলোর ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। 

বিজনেস ইনসাইডারের তথ্য অনুযায়ী, নারীদের অজান্তে নিয়মিত ভিডিও ধারণ ও প্রকাশের অভিযোগে ইতোমধ্যে দুটি আলোচিত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করেছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে, স্মার্ট চশমায় ধারণ করা হয়রানিমূলক কনটেন্ট প্রকাশের কারণেই এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া স্মার্ট চশমার অপব্যবহার রোধে নতুন সফটওয়্যার আপডেটও চালু করেছে মেটা। এখন ভিডিও ধারণের সময় ক্যামেরার এলইডি নির্দেশক আলো বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করলে ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে।

এক টেবিল, এক কাপ কফি, আর আপনি

কেন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সোলো ডাইনিং?

জীবনযাপন ডেস্ক
এক টেবিল, এক কাপ কফি, আর আপনি
ছবি : এআই জেনারেটেড

বিকেল বেলা। শহরের একটি ব্যস্ত ক্যাফে। এক কোণে জানালার পাশে বসে আছেন এক তরুণী। সামনে ধোঁয়া ওঠা কফির কাপ, পাশে একটি বই। তিনি কারো জন্য অপেক্ষা করছেন না, ফোনেও ব্যস্ত নন। নিজের সঙ্গে কাটাচ্ছেন কিছু নির্ভার সময়।

কয়েক বছর আগেও এমন দৃশ্য অনেকের কাছে অস্বাভাবিক মনে হতো। রেস্তোরাঁয় একা বসে খাওয়া মানেই হয়তো একাকিত্ব, মন খারাপ বা সঙ্গীর অভাব—এমন ধারণাই ছিল প্রচলিত। কিন্তু সেই ধারণা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এখন একা রেস্তোরাঁয় খাওয়া বা ক্যাফেতে বসে সময় কাটানো শুধু একটি অভ্যাস নয়, বরং আত্মযত্ন, স্বাধীনতা এবং মানসিক সুস্থতার প্রতীক হয়ে উঠছে।

একা মানেই একাকী নয়

আমাদের সমাজে বাইরে খেতে যাওয়াকে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক আয়োজন হিসেবে দেখা হয়েছে। পরিবার, বন্ধু বা প্রিয়জনকে নিয়েই যেন রেস্তোরাঁয় যাওয়ার নিয়ম। তাই একা একটি টেবিলে বসে খাবার অর্ডার করতে গেলে অনেকেই অস্বস্তি অনুভব করেন।

এই অস্বস্তির বড় কারণ অন্যের দৃষ্টি নিয়ে ভয়। মনে হয়, আশপাশের সবাই হয়তো তাকিয়ে আছে। কেউ ভাবছে, ‘একা কেন?’

মনোবিজ্ঞানে এই অনুভূতিকে বলা হয় ‘স্পটলাইট ইফেক্ট’। অর্থাৎ আমরা মনে করি অন্যরা আমাদের দিকে যতটা নজর দিচ্ছে, বাস্তবে তারা ততটা দেয় না। বেশিরভাগ মানুষই নিজেদের সঙ্গী, নিজের খাবার কিংবা নিজের গল্প নিয়েই ব্যস্ত থাকেন।

নিজের সঙ্গে একটি ছোট্ট ডেট

একা রেস্তোরাঁয় খেতে যাওয়ার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো—সেখানে কাউকে খুশি করার দায় নেই।

কখন যাবেন, কোথায় বসবেন, কী খাবেন কিংবা কতক্ষণ থাকবেন—সব সিদ্ধান্তই আপনার। এই স্বাধীনতা অনেকের কাছে মানসিক স্বস্তিরও উৎস।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একা সময় কাটানো নিজের চিন্তাগুলো গুছিয়ে নেওয়া, সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং মানসিক ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে। অনেকেই এটিকে এখন 'সেলফ-কেয়ার ডেট' বলেও অভিহিত করছেন।

খাবারের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক

বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করতে করতে অনেক সময় খাবারের স্বাদই ঠিকমতো বোঝা যায় না। কিন্তু একা খেলে প্রতিটি চুমুক, প্রতিটি সুবাস, প্রতিটি স্বাদ অনুভব করার সুযোগ থাকে।

বিশেষজ্ঞরা একে বলেন মাইন্ডফুল ইটিং। অর্থাৎ শুধু খাওয়া নয়, খাবারের পুরো অভিজ্ঞতাকে সচেতনভাবে উপভোগ করা। এতে হজম ভালো হয়, অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং নিজের শরীরের চাহিদা বোঝা সহজ হয়।

ফোনের স্ক্রিন নয়, নিজের দিকে তাকান

একা বসলে অনেকেই অস্বস্তি ঢাকতে ফোন হাতে তুলে নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করতে করতে কখন যে খাবার শেষ হয়ে যায়, টেরও পাওয়া যায় না।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তত কিছু সময় ফোন দূরে রাখুন। জানালার বাইরে তাকান, চারপাশের পরিবেশ অনুভব করুন কিংবা নিজের ভেতরের কথাগুলো শুনুন। কখনো কখনো এই নীরব মুহূর্তগুলোই সবচেয়ে মূল্যবান হয়ে ওঠে।

প্রথমবার একা রেস্তোরাঁয় গেলে...

যদি আগে কখনো একা রেস্তোরাঁয় না গিয়ে থাকেন, তাহলে শুরু করুন ছোট্ট পদক্ষেপে।

খুব ব্যস্ত সময়ের বদলে দুপুর বা বিকেলের শান্ত সময় বেছে নিন। পরিচিত কোনো ক্যাফেতে এক কাপ কফি কিংবা হালকা নাস্তা দিয়ে শুরু করতে পারেন। সঙ্গে একটি বই, ডায়েরি বা হেডফোন রাখতে পারেন। কয়েকবার গেলে অস্বস্তি নিজেই কমে যাবে।

বদলে যাচ্ছে শহরের জীবনধারা

ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরগুলোর ক্যাফেগুলোতে এখন প্রায়ই দেখা যায়—কেউ ল্যাপটপে কাজ করছেন, কেউ বই পড়ছেন, কেউ শুধু কফিতে চুমুক দিতে দিতে জানালার বাইরে তাকিয়ে আছেন।

এসব জায়গা এখন শুধু খাওয়ার নয়; নিজের সঙ্গে সময় কাটানোরও একটি নিরাপদ ও আরামদায়ক স্থান হয়ে উঠছে।

স্টাইলও হতে পারে সহজ

সোলো ক্যাফে ডেট মানেই জমকালো পোশাক নয়। আরামদায়ক ডেনিম, কটন শার্ট, কুর্তি কিংবা ওভারসাইজড শার্টের সঙ্গে একটি বই বা নোটবুক—এতেই তৈরি হতে পারে একটি স্বস্তিদায়ক বিকেল। লক্ষ্য অন্যকে প্রভাবিত করা নয়, বরং নিজের সঙ্গ উপভোগ করা।

ছোট্ট একটি চেকলিস্ট

একা ক্যাফেতে গেলে সঙ্গে রাখতে পারেন—

একটি প্রিয় বই
ছোট নোটবুক ও কলম
হেডফোন
ল্যাপটপ (প্রয়োজনে)
ইতিবাচক মনোভাব
 

সব সময় অন্য কারও জন্য অপেক্ষা করতে হবে—এমন কোনো নিয়ম নেই। কখনো কখনো নিজের জন্যও একটি টেবিল বুক করা যায়।

এক কাপ কফি, প্রিয় একটি খাবার, জানালার পাশের একটি চেয়ার আর কিছু নিরিবিলি সময়—এতটুকুই যথেষ্ট নিজের সঙ্গে আবার নতুন করে পরিচিত হওয়ার জন্য।

হয়তো পরেরবার রেস্তোরাঁয় ঢুকে যখন দেখবেন, একটি টেবিলে কেউ একা বসে শান্তভাবে কফি খাচ্ছেন, তখন আর তাকে একা মনে হবে না। মনে হবে, তিনি জানেন—নিজের সঙ্গও উপভোগ করা যায়।

অতিরিক্ত ক্লান্তি কিংবা নির্ঘুম রাত, হতে পারে মস্তিষ্কের জটিল রোগের সংকেত

অনলাইন ডেস্ক
অতিরিক্ত ক্লান্তি কিংবা নির্ঘুম রাত, হতে পারে মস্তিষ্কের জটিল রোগের সংকেত
সংগৃহীত ছবি

অনেক সময় নিজের শরীরে রোগের সংকেত বুঝতে পারি না। মানসিক চাপ ভেবে অনেক বিষয় এড়িয়ে যাই। বিশেষ করে যখন হাত-পা অবশ লাগে, হঠাৎ ঘুম কমে যায় কিংবা অতিরিক্ত ক্লান্ত লাগে আমরা সেটা মানসিক চাপ ভেবে এড়িয়ে যাই। আসলে সবসময় কিন্তু বিষয়টা এমন হয় না। চিকিৎসকদের মতে এসব লক্ষণ দীর্ঘদিন থাকলে তা মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস (এমএস) নামের জটিল স্নায়ুরোগের ইঙ্গিতও হতে পারে।

সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস থেকে জানা যায় নিউরোলজিস্ট ডা. প্রবীণ গুপ্ত জানিয়েছেন, ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে এই রোগ তুলনামূলক বেশি ধরা পড়ে। তবে প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণ সমস্যার মতো হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই রোগটি শনাক্ত হতে দেরি হয়।

ডা. প্রবীণ গুপ্ত জানান, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস বা এমএস এমন একটি রোগ, যেখানে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত স্নায়ুর ওপর থাকা সুরক্ষামূলক আবরণে আক্রমণ করে। এতে মস্তিষ্ক ও শরীরের বিভিন্ন অংশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে সমস্যা তৈরি হয়। সময়মতো চিকিৎসা না হলে এটি ধীরে ধীরে শারীরিক অক্ষমতার কারণও হতে পারে।

চিকিৎসকের মতে, অনেক নারী প্রথমে অতিরিক্ত ক্লান্তি, শরীর ব্যথা বা ঝিনঝিন অনুভূতির মতো সমস্যা নিয়ে সাধারণ চিকিৎসক বা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যান। তখন এসব উপসর্গকে অনেক সময় স্ট্রেস, ভিটামিনের ঘাটতি, ঘাড়ের সমস্যা বা উদ্বেগজনিত সমস্যা বলে মনে করা হয়। এ ছাড়া অনেকের ক্ষেত্রে উপসর্গ কিছুদিন পর কমে যায়, আবার ফিরে আসে। ফলে রোগীরা নিউরোলজিস্টের কাছে যেতে দেরি করেন। পরিবার ও কর্মজীবনের ব্যস্ততায় অনেক নারী নিজের শারীরিক সমস্যাকেও গুরুত্ব দেন না, যা রোগ শনাক্তে আরো বিলম্ব ঘটায়।

  • যে ৭ লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়

ডা. প্রবীণ গুপ্তের মতে, নিচের উপসর্গগুলো বারবার দেখা দিলে বা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত—

  • এক চোখে ঝাপসা দেখা
  • শরীরের কোনো অংশ অবশ হয়ে যাওয়া
  • হাত বা পায়ে দুর্বলতা
  • হাঁটতে অসুবিধা 
  • ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা
  • কথা জড়িয়ে যাওয়া
  • অস্বাভাবিক বা অতিরিক্ত ক্লান্তি
  • দ্রুত শনাক্ত হলে চিকিৎসা সহজ

বিশেষজ্ঞের মতে, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য না হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে রোগের অগ্রগতি নিয়ন্ত্রণ করা, পুনরায় সমস্যা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি কমানো এবং দীর্ঘদিন স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব। তাই দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের স্নায়বিক উপসর্গ থাকলে শুধু স্ট্রেস বা ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে না গিয়ে দ্রুত একজন নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

‘নীরব ঘাতক’ হেপাটাইটিস : সুস্থ জীবনের শুরু সচেতনতা থেকে

আজ বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস। একটু সচেতনতা, সময়মতো পরীক্ষা আর টিকাই বাঁচাতে পারে হাজারো জীবন।

জীবনযাপন ডেস্ক
‘নীরব ঘাতক’ হেপাটাইটিস : সুস্থ জীবনের শুরু সচেতনতা থেকে
ছবি:এআই জেনারেটেড

একজন মানুষ প্রতিদিন স্বাভাবিকভাবেই কাজ করছেন। কোনো বড় অসুস্থতাও নেই। কিন্তু অজান্তেই তার লিভার ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যখন রোগ ধরা পড়ে, তখন অনেক সময় তা লিভার সিরোসিস বা লিভার ক্যান্সারে রূপ নিয়েছে। এ কারণেই ভাইরাল হেপাটাইটিসকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’।

আজ (২৮ জুলাই) বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘হেপাটাইটিস : আসুন, বাধা ভেঙে এগিয়ে যাই’ (‘হেপাটাইটিস : লেটস ব্রেক ইট ডাউন’)।

লক্ষ্য একটাই—ভয়, কুসংস্কার, বৈষম্য ও চিকিৎসার পথে থাকা সব বাধা দূর করে সবাইকে পরীক্ষা, প্রতিরোধ ও চিকিৎসার আওতায় আনা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি মানুষ হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসে আক্রান্ত। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, আক্রান্ত ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই জানেন না যে তাদের শরীরে এই ভাইরাস রয়েছে। ফলে কোনো লক্ষণ ছাড়াই বছরের পর বছর লিভারের ক্ষতি হতে থাকে।

হেপাটাইটিস কী?

হেপাটাইটিস হলো লিভারের প্রদাহ। এটি মূলত পাঁচ ধরনের ভাইরাস—এ, বি, সি, ডি ও ই-এর কারণে হয়।

এর মধ্যে হেপাটাইটিস বি ও সি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। চিকিৎসা না হলে এগুলো লিভার সিরোসিস, লিভার বিকল হওয়া এবং লিভার ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।

কিভাবে ছড়ায়?

হেপাটাইটিস বি ও সি ছড়ায় সংক্রমিত রক্ত, দূষিত সিরিঞ্জ, অপরিষ্কার চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং শরীরের কিছু তরলের মাধ্যমে।

অন্যদিকে হেপাটাইটিস এ ও ই ছড়ায় দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে।

তবে করমর্দন, একসঙ্গে খাওয়া, কোলাকুলি বা একই বাসায় থাকার মাধ্যমে হেপাটাইটিস ছড়ায় না।

যেভাবে কমানো যায় ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি সহজ অভ্যাসই লিভারকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।

হেপাটাইটিস বি-এর টিকা নেওয়া।
প্রয়োজন হলে রক্ত পরীক্ষা করে সংক্রমণ আছে কি না জানা।
সবসময় নতুন বা জীবাণুমুক্ত সিরিঞ্জ, সুই ও ব্লেড ব্যবহার করা।
রেজার, টুথব্রাশ বা নেইল কাটারের মতো ব্যক্তিগত জিনিস অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি না করা।
নিরাপদ রক্ত গ্রহণ ও নিরাপদ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।
বিশুদ্ধ খাবার ও পানি ব্যবহার করা।
মা ও নবজাতকের জন্য বিশেষ সতর্কতা

চিকিৎসকদের মতে, হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকে নবজাতকের শরীরে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তাই গর্ভাবস্থায় পরীক্ষা করানো এবং শিশুর জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হেপাটাইটিস বি-এর টিকা নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অতিরিক্ত ওষুধও দিতে হয়।

চিকিৎসা এখন অনেকটাই সম্ভব

হেপাটাইটিস সি-এর জন্য বর্তমানে এমন ওষুধ রয়েছে, যা অধিকাংশ রোগীকেই সম্পূর্ণ সুস্থ করে তুলতে পারে। হেপাটাইটিস বি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগটি যত দ্রুত শনাক্ত হবে, চিকিৎসার ফল তত ভালো হবে।

লক্ষ্য ২০৩০

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিসকে জনস্বাস্থ্যের বড় হুমকি থেকে মুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো পরীক্ষা, টিকাদান, নিরাপদ চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং সচেতন জীবনযাপন নিশ্চিত করা গেলে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

কারণ হেপাটাইটিস নীরবে আঘাত হানে, কিন্তু সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসাই পারে সেই নীরব ঘাতককে থামিয়ে দিতে।

উপবাস : স্বাস্থের জন্য ভালো নাকি খারাপ? | কালের কণ্ঠ