kalerkantho

বায়ুদূষণ রোধ করুন

১৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বায়ুদূষণ রোধ করুন

নগরসভ্যতার ডামাডোলে গোটা বিশ্ব এমন এক অবস্থায় এসে পৌঁছেছে, যেখানে প্রাণধারণের জন্য ন্যূনতম বিশুদ্ধ আলো, বাতাস ও পানির মতো প্রকৃতির অফুরান দানগুলোও অবশিষ্ট থাকার সুযোগ নেই। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে নানা বিরূপ প্রভাবসহ মানবসৃষ্ট পরিবেশদূষণের কবলে পড়ে ক্রমেই হুমকির মুখে এগিয়ে চলছে জনজীবন। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও দ্রুত শিল্পায়নের এই অশুভ প্রতিযোগিতার করাল গ্রাসে পড়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে, বাড়ছে দূষণ। হিমালয়ের কোল ঘেঁষে আলো-বাতাস-শ্যামলে ভরা বাংলাদেশও আজ দূষণে আক্রান্ত, জনমানবের বসবাসের অযোগ্য বলে বিবেচিত। বাংলাদেশের বাতাসে ‘পিএমটু-পয়েন্ট ফাইভ’-এর গড় মাত্রা রয়েছে ৯৭ দশমিক ১ শতাংশ। সামগ্রিক অর্থনীতিতে পড়তে পারে এর ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব। বায়ুদূষণ মানবকুলের জীবিকা ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দিতে পারে। মানুষের জীবন সংহার ছাড়াও বায়ুদূষণের ফলে বিশ্বব্যাপী চিকিৎসা ব্যয়ও বাড়ছে। ধূলিধূসরিত ঢাকার বাতাসে সাদা চোখে যে ধুলা দেখা যায়, তা কিন্তু শুধু মাটির ক্ষুদ্র কণা নয়। এর মধ্যে মিশ্রিত আছে নানা ধরনের সূক্ষ্ম রাসায়নিক বস্তুকণাসহ কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সিসা, নাইট্রোজেন, হাইড্রোকার্বন, বেনজিন, সালফার, অ্যামোনিয়া।

ঢাকার বাতাসে সিসাজনিত দূষণ জাতিসংঘের গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে কমপক্ষে হাজার গুণ। ব্যাপক সিসাদূষণের ফলে শিশুদের বুদ্ধিমত্তার বিকাশ বাধাগ্রস্ত ও স্নায়বিক ক্ষতি হতে পারে। গর্ভবতী নারীদের গর্ভপাত, মৃত শিশু প্রসবের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বায়ুদূষণ প্রতিরোধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন সুনিশ্চিত করতে পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। রাজধানীর ধুলা কমাতে একই স্থানে বেশি পরিমাণ পানি দিয়ে কর্দমাক্ত না করে, বাষ্পের মতো অল্প অল্প পানি ছিটালে ধুলা মাটিতে বসে যাবে। বাংলাদেশের পরিবেশদূষণ প্রতিরোধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন সুনিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।

মুসাহিদ উদ্দিন আহমদ

পশ্চিম মালিবাগ, ঢাকা।

মন্তব্য