kalerkantho

খেলাপি ঋণ

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



খেলাপি ঋণ এখন ব্যাংক খাতের প্রধান সমস্যা। যে দেশের ব্যাংক ঋণের ১২-১৩ শতাংশ খেলাপি হয়ে যায় সে দেশের অর্থনীতি কতটা হুমকির সম্মুখীন তা সবারই জানা। ভদ্রভাবে আলোচনা করে, পত্র আদান-প্রদান করে বা মামলা-মোকদ্দমা করে এসব ঋণ আদায় সম্ভব হচ্ছে না। খেলাপি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাংক মামলা করলে তারা অসংখ্য মামলার অবতারণা করে। তারা জানে, কিভাবে নিম্ন আদালতে একটি মামলা বছরের পর বছর দীর্ঘায়িত করা যায়। এমনও দেখা গেছে, শুধু ল ইয়ার সনদ ব্যবহার করে মামলা স্থগিত রেখে দীর্ঘ সময় পার করে দেওয়া হচ্ছে। অর্থঋণ আদালতের স্বল্পতার সুযোগে শুধু চট্টগ্রামে হাজার হাজার কোটি টাকা আদায়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত। অন্যদিকে অসাধু ব্যবসায়ী ও অসৎ ব্যাংকারদের যোগসাজশে ব্যাংকের তথা জনগণের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা হরহামেশাই ঘটে যাচ্ছে। এ অবস্থায় ঋণখেলাপি ও অর্থ আত্মসাৎকারীদের নামে পরিচালিত সব হিসাবের লেনদেন স্থগিত, সামাজিকভাবে মর্যাদা অবনমন, পাসপোর্ট জব্দ, অর্থঋণ আইনকে যুগোপযোগী করে শক্তিশালী আদালত গঠনের মাধ্যমে দ্রুত মামলা-মোকদ্দমার নিষ্পত্তি, শক্তিশালী মনিটরিং সেল গঠনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ আজ সময়ের দাবি। অন্যথায় উন্নয়নের অগ্রযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। তবে আশার আলো এই যে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, ‘খেলাপি ঋণ আর বাড়তে দেওয়া যায় না।’ আমরা অধীর আগ্রহে তা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকছি।

ইসমাইল হোসাইন ইমু, ঢাকা।



মন্তব্য