kalerkantho

শিক্ষার গুণগত মান

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শিক্ষার গুণগত মান

আমাদের দেশের শিক্ষানীতি ও পদ্ধতি অনেকটাই পরিকল্পিত, তবে মানের অবস্থা অবনতিশীল। কিন্তু আমরা এমন এক সমাজে বাস করছি, যেখানে অনার্স, মাস্টার্স কোর্স সম্পন্ন করেও শিক্ষার্থীরা  প্রথম শ্রেণির চাকরি তো নয়ই, কেরানির চাকরিও ঘুষ ছাড়া পায় না। প্রথমেই চাকরির কথা বলে নিলাম। কারণ আমাদের মানসিকতাই এমন হয়ে গেছে যে যেকোনো মূল্যে আমাকে চাকরি পেতেই হবে। আমরা বইয়ের পাতায় যতই পড়ি না কেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের আচরণ ও বুদ্ধিবৃত্তিক গুণাবলির কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ঘটানো। বাস্তবে এর সংজ্ঞা হয়ে দাঁড়িয়েছে—শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো চাকরি পাওয়ার যোগ্য হওয়া। ফলে একটি অপরটির সহায়ক না হয়ে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিকে যদি চাকরির উপযোগী করেই গড়ে তুলতে হয়, তবে কারিগরি শিক্ষার দিকে জোর দিলেই হয়। কারণ বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা হতে গেলে এক কাপ চায়ে কত ছটাক লবণ লাগে, ভাইভা বোর্ডে তা জানানোর কোনো দরকার আছে বলে মনে হয় না। একইভাবে চাকরির ক্ষেত্রে কম্পিউটার শিক্ষা জরুরি হলে এটাকে কোর্সের অন্তর্ভুক্ত করা হয় না কেন? বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ক্রমান্বয়ে নিচের দিকে যাচ্ছে। শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে আমরা দিন দিন সরে যাচ্ছি। একটা সময় ছিল, যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকের বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ আলবার্ট আইনস্টাইন আগ্রহ নিয়ে পড়তেন। সেই অবস্থার এতটুকু অবশিষ্ট আছে বলে মনে হয় না। আমরা হয়তো সবাই জগদীশচন্দ্র বা সত্যেন বসুর মতো বিজ্ঞানী হয়ে আইনস্টাইনকে প্রবন্ধ উপহার দিতে পারব না; কিন্তু দাসত্বের বন্ধন থেকে তো মুক্ত হতে পারব। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা দিন দিন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত  হচ্ছেন। তাঁরা বিবেক বিসর্জন দিচ্ছেন। শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে যে রকম দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষাবিদ ও দার্শনিকের প্রয়োজন—রাজনীতি ও দলীয়করণের কারণে আমরা তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। অন্যথায় অচিরেই সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের মুখে পতিত হবে।

আবু হুরাইরা আতিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

মন্তব্য