kalerkantho


শিশুদের নিয়ে ভাবুন

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



খবরের কাগজ কিংবা টেলিভিশনে শিশুদের নিয়ে কোনো ভালো খবর দেখলে খুশি হই। ভাবতে ভালো লাগে, আমাদের শিশুরা বিশ্বের অন্যান্য দেশের শিশুদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। একদিন আমাদের শিশুরাও বিশ্ব জয় করবে। তৃষ্ণার্ত মনে যখন তাকাই তখনই শিশুদের প্রতি নির্যাতন ও তাদের জীবনযাত্রার মানের পরিসংখ্যান দেখে চুপসে যাই। যে বয়সে তাদের স্কুলে যাওয়ার কথা, সেই বয়সে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা জীবন থেকে ঝরে পড়ছে। অভাবের কারণে তারা পড়াশোনায় বেশিদূর এগোতে পারে না, শিশুশ্রমে নিজেদের নিয়োজিত করে। একটা সময় তারা ঢুকে পড়ে মাদক প্যাকেটে। কয়েকটি টাকার জন্য অনেক পরিবার শিশুদের ঠেলে দেয় অন্ধকার গুহায়; যেখানে শুধু অন্ধকার আর অন্ধকার। রাস্তায় যখন হাঁটি, দেখি কতগুলো কোমল মুখ বইয়ের গন্ধ না শুঁকে তাদের ছোট্ট কাঁধে ইয়াবড় একটা বস্তা নিয়ে ডাস্টবিনে নানা জিনিস খুঁজে বেড়ায়। গাড়িতে চালকের সহকারী হয়ে যাত্রী ডাকে, গ্যাস সিলিন্ডারের দোকানে বিপজ্জনক যন্ত্রাংশ নিয়ে সারা দিন অমানুষিক পরিশ্রম করে। আমরা কি পারি না এই দেশটাকে শিশুদের স্বর্গে পরিণত করতে? হয়তো পারি না। পারি না বলেই তো কোমল মুখগুলো ধ্বংসের মুখে। প্রতিদিন নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছে অসহায় শিশুরা। কখনো গরম পানি ঝলসে দেয় কোমল ত্বক, কখনো গরম খুন্তি পুড়িয়ে দেয় তার হৃদয়। পৃথিবীতে যেন তাদের বেঁচে থাকার অধিকারটুকুও নেই। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বস্তির শিশুদের ৮৬ শতাংশ খাবারে ক্ষতিকর জীবাণু রয়েছে। বস্তির শিশুদের দৈনন্দিন খাবার তারা পরীক্ষা করে ফিকাল কলিফর্ম, এককোষী ছত্রাক, ফাঙ্গাসের মতো প্রাণঘাতী নানা জীবাণু পেয়েছে। ফলে পথশিশু ও বস্তির শিশুরা সব সময় বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক রোগে নিয়মিত আক্রান্ত হচ্ছে। বারবার রোগে আক্রান্ত হওয়ার ফলে তাদের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আশা করি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও বিভাগ বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করবে।

সুমন রহমান, ধানমণ্ডি, ঢাকা।

 



মন্তব্য