kalerkantho


নতুন প্রজন্মকে বইপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করুন

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



একটি বই লেখকের আহৃত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও জীবনদর্শনের সমষ্টি। নিউটন, গ্যালিলিও, আইনস্টাইন কিংবা রবীন্দ্র, নজরুল, আনিসুজ্জামানসহ বিখ্যাতদের বড় হওয়ার পেছনে একটাই গল্প। আর সেটি হলো বই পড়া। বই প্রবহমান মহাসমুদ্রের মতো চারদিক থেকে আহৃত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও আইডোলজিকে একীভূত করে কাগজের পাতায় মুড়ে আবদ্ধ করে রাখে। যেকোনো মুহূর্তে আছড়ে পড়তে পারে যুগান্তকারী জলোচ্ছ্বাস। তবে সেটা প্রলয়ংকরী নয়, পরিবর্তনকারী। সেটি পরিবর্তন করে আমাদের মননশীলতা ও চিন্তা-চেতনার জগেক। বই আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসে জীবনদর্শনে। উন্মুক্ত করে মুক্তবুদ্ধি চর্চার দ্বারকে। বৃদ্ধি করে সৃজনশীলতা ও নৈতিকতা। সুন্দর ও সাফল্য অর্জনের প্রেরণা ও শিক্ষা আমরা পেয়ে থাকি আমাদের পূর্বপুরুষদের সঞ্চিত অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার বই থেকে। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে বিজয়মাল্য নিয়ে ঘরে ফেরার প্রেরণা পাই বই থেকে। জগতের মহান ব্যক্তিরা সবাই বইপ্রেমী। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনী বিল গেটস প্রতিবছর শতাধিক বই পড়েন, ওয়ারেন বাফেট প্রতিদিন একটি বই পড়েন। বঙ্গবন্ধুর কারাজীবনের একমাত্র সঙ্গী ছিল বই। আমাদের উচিত জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন ইত্যাদি জ্ঞানের মহাসাগরে বিচরণ করা। শিক্ষা আজ জ্ঞানার্জন নয়, চাকরি অর্জনের মাধ্যম হিসেবে পরিণত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিগুলো কোচিং সেন্টারে পরিণত হয়েছে। মহাজ্ঞানীদের রেখে যাওয়া জ্ঞানের ভাণ্ডার বহনকারী বইগুলো পোকায় কাটছে। আধিপত্য বিস্তার করছে ডাইজেস্ট, ওরাকল প্রভৃতি কোচিং সেন্টারের শিট। গবেষণাগারগুলো বদ্ধঘরে পরিণত হয়েছে, যেখানে মাকড়সা জাল ছড়াচ্ছে আর ইঁদুররা বংশবিস্তার করছে। এ থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে। গবেষণার সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে এবং এই খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে। বইকে নিত্যসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করা চাই।

মাহবুবুর রহমান সাজিদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।



মন্তব্য