kalerkantho


শিক্ষার্থীদের স্কাউটিংয়ে সম্পৃক্ত করুন

২৯ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



মানবজীবনের একমাত্র ব্রত হলো সেবা। মানবহৃদয়ের সব তৃপ্তি, সুখ ও সাফল্য এই সেবার মধ্যেই নিহিত। সেবার মূলমন্ত্র নিয়েই ১৯০৭ সালে ইংল্যান্ডের ব্রাউন সি দ্বীপে রবার্ট স্টিফেনসন স্মিথ লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল অব গিলওয়েলের হাত ধরে গড়ে ওঠে স্কাউট আন্দোলন। মাত্র ২০ জন কিশোর বয়সী ছেলেকে নিয়ে প্রথম যাত্রা শুরু হয়েছিল। আজ বিশ্বের ১৬৯টি দেশে স্বীকৃতভাবে ৪০ মিলিয়নের বেশি স্কাউট রয়েছে। যারা বিশ্বের নানা প্রান্তে নিরলসভাবে মানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৬ লক্ষাধিক স্কাউট রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০২১ সালের মধ্যে ২১ লাখ স্কাউট তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন এবং সার্বিক দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। স্কাউটিং এমন একটি আন্তর্জাতিক, শিক্ষামূলক ও অরাজনৈতিক আন্দোলন, যার মাধ্যমে শিশু, কিশোর ও যুবকদের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, বুদ্ধিভিত্তিক এবং আধ্যাত্মিকভাবে যোগ্য করে গড়ে তোলা হয়। এটি বিশ্বের একমাত্র সংগঠন যেখানে যোগদান করতে হলে আত্মশুদ্ধি পালন করতে হয়। আগ্রহীকে অতীত জীবনের সব কু-অভ্যাস পরিত্যাগ করার শপথ নিতে হয়। মদ, জুয়া, যৌনতা, শঠতা এবং নাস্তিকতা নামের পাঁচটি শিলাখণ্ড থেকে জীবনতরীকে রক্ষা করতে হয়। স্কাউট প্রতিজ্ঞা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে হয়। প্রতিজ্ঞা, আইন ও মূলনীতি সঠিকভাবে প্রতিপালনের মাধ্যমে স্কাউটিংয়ের মূল মন্ত্র সেবা প্রদানই হলো স্কাউটিংয়ের উদ্দেশ্য। এর পরও যদি জিজ্ঞেস করেন, স্কাউটিং কেন করব? স্কাউটিং সে-ই করবে, যার সমাজ ও রাষ্ট্রের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার মানসিকতা থাকবে, দেশকে ভালোবাসবে, দেশের মানুষকে ভালোবাসবে। আসুন,  স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্কাউটিংয়ের বিভিন্ন শাখায় ইউনিট গঠন করি। শিক্ষার্থীদের ব্যাপকভাবে স্কাউটিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করি।

মো. মাহবুবুর রহমান সাজিদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

 



মন্তব্য