kalerkantho

ক্রসফায়ারের নামে হত্যা

তিন পুলিশ কর্মকর্তাসহ চারজনের নামে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



তিন পুলিশ কর্মকর্তাসহ চারজনের নামে মামলা

কেরানীগঞ্জের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সেলিমকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। পরে ওই হত্যাকাণ্ডকে ক্রসফায়ার হিসেবে দেখানোর অভিযোগে তিন পুলিশ কর্মকর্তাসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী আশরাফুজ্জামান ঘটনাটি তদন্তের জন্য অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার, পিবিআইকে নির্দেশ দিয়ে আগামী ২৪ এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য করেছেন।

গত বুধবার নিহত সেলিমের মা রুফিজা বেগম বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন। ওই দিন বাদীর জবানবন্দি নেন আদালত। নথি পর্যালোচনা করে গতকাল আদেশ দেন।

যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে তাঁরা হলেন মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) ফরিদ উদ্দিন, শেখরনগর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম, একই ফাঁড়ির উপপরিদর্শক হাসান ও কেরানীগঞ্জের নতুন সোনাকান্দা গ্রামের আফজাল হোসেন।

বাদী মামলায় অভিযোগ করেন, গত ১ মার্চ সকাল সাড়ে ৯টায় কেরানীগঞ্জের সোনাকান্দা গ্রামে নিজ বাড়িতে বসে ছেলে-মেয়েসহ পরিবারের সদস্যরা নাশতা করছিল। ওই সময় সিরাজদিখান থানার ওসি ফরিদউদ্দিনসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তা আরো ৮-১০ জন পুলিশ সদস্য নিয়ে বাদীর বাড়িতে যান। বাদীর ছেলে মাটি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সেলিমকে পুলিশ আটক করে ধলেশ্বরী নদীর পারে নিয়ে যায়। পরে ট্রলারে তুলে ধলেশ্বরী নদীর মাঝখানে চরে নিয়ে যায়। সেলিমের হাত, চোখ বেঁধে বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে তিনটি গুলি করা হয়। ওই ঘটনাকে ক্রসফায়ার হিসেবে দেখিয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্ত করে পরদিন পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে পুলিশ।

বাদী অভিযোগ করেন, আসামি আফজাল হোসেনের ষড়যন্ত্রে প্রভাবিত হয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সেলিমকে হত্যা করেছেন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা। নিহত সেলিমের বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা-মোকদ্দমা ছিল না।

মামলার আরজিতে আরো বলা হয়, সেলিমের বাবাকেও আসামি আফজালের ভাই ও তাঁর ভাড়াটিয়া লোকজন ২০০৬ সালে খুন করে। ওই মামলায় আফজালের ভাই কামাল হোসেনসহ দুজনের ফাঁসির আদেশ এবং তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। তাঁরা পলাতক থেকে আফজাল হোসেনকে দিয়ে সিরাজদিখান থানার পুলিশকে ব্যবহার করে সেলিমকে হত্যা করা হয়।

মন্তব্য