kalerkantho

হঠাৎ ঢাকায় জুলফিকার আলী ভুট্টো

এম বদি-উজ-জামান   

২১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হঠাৎ ঢাকায় জুলফিকার আলী ভুট্টো

আজ ২১ মার্চ। একাত্তরে পাকিস্তান শাসনের বিরুদ্ধে চলমান অসহযোগ আন্দোলনের ২০তম দিন। হঠাৎ করাচি থেকে ঢাকায় এলেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টো। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের আমন্ত্রণে ঢাকায় এসে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করলেন তিনি। বৈঠক শেষে হোটেলে ফিরেই ভুট্টো এবার নিজের উপদেষ্টাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। এর আগে হোটেল লাউঞ্জে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের ভুট্টো বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি এটুকু বলতে পারি যে সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে।’ এর পরই তিনি সোজা  লিফটে উঠে পড়েন। এ সময় সাংবাদিকরা পিছু নিলে ভুট্টোর ব্যক্তিগত প্রহরীরা অস্ত্র উঁচিয়ে বাধা দেয়।

পিপিপি চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টো এর ঠিক এক দিন আগে ২০ মার্চ করাচিতে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, তিনি লন্ডন পরিকল্পনা (যা ১৯৬৯ সালে লন্ডনে বসে শেখ মুজিব, খান আবদুল ওয়ালী খান ও মিয়া মমতাজ মোহম্মদ খান দৌলতানা কর্তৃক প্রণীত) মানবেন না। তিনি বলেন, ‘ওই পরিকল্পনা আওয়ামী লীগ প্রধান কর্তৃক ঘোষিত ছয় দফার ভিত্তিতেই করা হয়েছে।’ এর পরদিনই আকস্মিকভাবে তিনি ঢাকায় আসেন।

ভুট্টোর ঢাকায় আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্র-জনতার প্রতিবাদ মিছিলে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো ঢাকা। রাজপথে নেমে আসে বিক্ষুব্ধ জনতা। অসহযোগ আন্দোলনের ২০তম দিনে মুক্তিপাগল হাজারো মানুষের দফায় দফায় মিছিলে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে ঢাকা। একের পর এক মিছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার অভিমুখে এগিয়ে চলে। সেখানে মুক্তি অর্জনের শপথ নিয়ে মিছিল যায় বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সকালে নিজ বাসভবনে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আইনজীবী এ কে ব্রোহির সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় মিলিত হন। এরপর তিনি প্রেসিডেন্ট ভবনে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে পঞ্চম দফা বৈঠকে মিলিত হন। এ সময় প্রাদেশিক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (পরবর্তী সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী) তাজউদ্দীন আহমদ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ছিলেন।

এদিন বিকেলে ন্যাপপ্রধান মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী চট্টগ্রামে পোলো গ্রাউন্ডে এক বিশাল জনসভায় বলেন, ‘আলোচনায় ফল হবে না। এ দেশের হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি থেকে চাপরাশি পর্যন্ত যখন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়াকে মানে না, তখন শাসনক্ষমতা শেখ মুজিবের হাতে দেওয়া উচিত।’

এদিকে ১৯ মার্চ গাজীপুরে (জয়দেবপুর) জারি করা কারফিউ দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টার জন্য প্রত্যাহার করা হয়। সন্ধ্যা ৬টা থেকে আবার অনির্দিষ্টকালের জন্য জারি করা হয় কারফিউ।

 

মন্তব্য