kalerkantho

সবিশেষ

পৃথিবীকে বুঝতে পশুপাখির আচরণ বিশ্লেষণ!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পৃথিবীকে বুঝতে পশুপাখির আচরণ বিশ্লেষণ!

পশুপাখির আচরণ থেকে কত কিছুই না জানার আছে! এক বিশাল প্রকল্পের আওতায় বিজ্ঞানীরা মহাকাশ থেকে তাদের গতিপথ ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করে মূল্যবান তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ চালাচ্ছেন।

গত বছর থেকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে এ বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। সেখানে অ্যান্টেনা বসাচ্ছেন  রুশ মহাকাশচারীরা। এই ইকারুস-অ্যান্টেনা পৃথিবী থেকে অসংখ্য তথ্য গ্রহণ করবে। অভিনব বিষয় হলো, এ ক্ষেত্রে প্রাণীরা সেই সব তথ্য সংগ্রহ করছে।

পাখি বিশেষজ্ঞ মার্টিন ভিকেলস্কি বলেন, ‘প্রয়োজন এমন বুদ্ধিমান সেন্সর, যা আমাদের হয়ে পৃথিবী স্ক্যান করবে। সেই কাজ প্রাণীদের থেকে কে বেশি ভালোভাবে করতে পারে!’

প্রাণীরা তাদের ইন্দ্রিয় কাজে লাগিয়ে ভিন্ন মাত্রার চিত্র পায়। পৃথিবী সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা। তারা অতি দুর্গম প্রান্তেও পৌঁছে যেতে পারে। ভিন্ন এই ক্ষমতা কাজে লাগানোই ইকারুস প্রকল্পের লক্ষ্য। প্রায় ১৬ বছরের দীর্ঘ প্রস্তুতির পর তা সম্ভব হয়েছে। গোটা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা ভিকেলস্কির দলের সঙ্গে একযোগে প্রাণীদের গতিপথ অনুসরণ করার প্রক্রিয়া নিখুঁত করে তুলেছেন।

অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তা সম্ভব হচ্ছে। প্রাণীদের গায়ে লাগানো প্রেরক যন্ত্র শুধু তাদের অবস্থান জানাচ্ছে না, এর মাধ্যমে তাদের কার্যকলাপ ও পরিবেশ সম্পর্কেও মূল্যবান তথ্য পাচ্ছেন গবেষকরা। প্রত্যেক প্রজাতির প্রাণীর জন্য সেই প্রক্রিয়ায় রদবদল ঘটাতে হয়েছে। এই পদ্ধতিতে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর অসংখ্য প্রাণীর চলাফেরা সম্পর্কে চিত্র সংগ্রহ করেছেন, কিন্তু তাঁদের আরো স্বপ্ন আছে।

পাখি বিশেষজ্ঞ মার্টিন ভিকেলস্কি বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘এবার আমাদের হাতে সত্যি বুদ্ধিমান এক সেন্সর নেটওয়ার্ক আসছে। সেটি স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্যও কাজে লাগিয়ে পৃথিবীতে প্রাণের স্পন্দন সম্পর্কে এক সার্বিক চিত্র তুলে ধরবে। এই ব্যবস্থা এমনকি পূর্বাভাসও দিতে পারবে।’

এর মাধ্যমে রোগব্যাধির বিস্তার সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে প্রাণীদেরও ভূমিকা থাকতে পারে। যেমন আফ্রিকার এক বিশেষ প্রজাতির বাদুড় সার্স বা মারবুর্গ ভাইরাসের মতো বিপজ্জনক রোগের বাহক বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। কিন্তু এই প্রজাতির জীবনযাত্রা সম্পর্কে এখনো বেশি কিছু জানা যায়নি। গবেষকরা তাই কয়েকটি প্রাণী ধরে তাদের শরীরে সেন্সর লাগিয়ে তাদের গতিপথ পরীক্ষা করতে চেয়েছিলেন। তাঁদের মনে অনেক প্রশ্ন ছিল। যেমন ঠিক কোথায় বাদুড় বিপজ্জনক ভাইরাসের সংস্পর্শে আসে, রোগ ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে তাদের কি আদৌ কোনো ভূমিকা থাকে? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে গবেষকরা ইকারুস প্রকল্পের সাহায্যে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে যত বেশি সম্ভব বাদুড়ের গতিপথ পর্যবেক্ষণ করতে চান।

মার্টিন ভিকেলস্কি এটনা আগ্নেয়গিরির কোলে বসবাসরত ছাগল পর্যবেক্ষণ করে অন্য ধরনের এক পূর্বাভাস আশা করছেন। তিনি বলেন, ‘প্রাচীনকাল থেকে আমাদের সব সময় মনে হয়েছে যে প্রাণীরা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পূর্বাভাস দিতে পারে? ইলেকট্রনিক পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা এই প্রথম সেই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার সুযোগ পাচ্ছি? বড় আকারের প্রাকৃতিক ঘটনার আগে, ঘটনার সময় ও তার পরে এমন প্রাণী ঠিক কী করে, তা বোঝার চেষ্টা করছি।’ এখনো এমনটা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তবে ভবিষ্যতে ইকারুস প্রকল্পের মাধ্যমে তা করা যাবে বলে বিজ্ঞানীদের মনে আশা রয়েছে। সূত্র : ডয়চে ভেলে।

মন্তব্য