kalerkantho

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

অভিনব কায়দায় এখন পাচার হয় মাদকও

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অভিনব কায়দায় এখন পাচার হয় মাদকও

এত দিন সোনা পাচারের নিরাপদ পথ হিসেবে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ‘খ্যাতি’ ছিল। এখন এই পথ দিয়ে দেদার পাচার হচ্ছে ইয়াবা ও গাঁজা। গত দুই দিন এ বিমানবন্দর দিয়ে অভিনব কৌশলে একাধিক গাঁজা ও ইয়াবার চালান পাচার করে ধরা পড়ার পর বিষয়টি সামনে আসে।

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছে, কড়াকড়ি না থাকায় এত দিন অনায়াসেই এসব মাদক পাচার হতো। বিমান ছিনতাই চেষ্টা এবং স্ক্যান ছাড়াই পিস্তল নিয়ে যাত্রীরা ঢুকে পড়ার ঘটনায় ঢাকার পাশাপাশি শাহ আমানত বিমানবন্দরেও নিরাপত্তা তল্লাশি বেড়েছে। এ কারণে এসব মাদক এখন সহজে ধরা পড়ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এর আগেও এ বিমানবন্দর দিয়ে নিরাপদে মাদক পাচার হয়েছে।

জানতে চাইলে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার সারোয়ার ই জাহান বলেন, আমরা সব সময় বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকে ‘জিরো টলারেন্স’ দেখাচ্ছি। আগেও এ ধরনের ইয়াবার চালান ধরা পড়েছিল কিন্তু মিডিয়ায় আসেনি। আমি যোগদানের পর অনেকগুলো ইয়াবা ধরা পড়েছে। তবে গাঁজা আটকের বিষয়টি নতুন।

তাহলে আগে ধরা পড়েনি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে হয়তো সেভাবে আসেনি। আর এসব মাদক তো নিয়মিত আসে না। তবে এটা ঠিক, ওমানপ্রবাসীদের অভিযোগের পর এবং ইদানীং নিরাপত্তা তল্লাশি বাড়ার কারণে পর পর দুই দিন ধরা পড়েছে। আটক দুজনকেই মাদক আইনের নতুন মামলায় আসামি করে পতেঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিমানবন্দরের তথ্যমতে, গত সোমবার মোহাম্মদ রুবেল নামে এক যাত্রীর কাছ থেকে প্রায় ২৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। তাঁর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। রুবেল ছিলেন দুবাইয়ের যাত্রী, তিনি চট্টগ্রাম থেকে দুবাই হয়ে একই ফ্লাইটে ওমানের রাজধানী মাসকাট যাচ্ছিলেন। বিমানবন্দরে ঢোকার সময় নিজের লাগেজের পাশাপাশি আলাদাভাবে দুটি তোষক নিয়েছিলেন রুবেল। বিমানবন্দরের বোর্ডিং কাউন্টারে প্রবেশের সময় প্রথম স্ক্যানারে তোষকের ভেতরে সন্দেহজনক বস্তুর উপস্থিতি পান বেসামরিক বিমান পরিবহন বিভাগের নিরাপত্তাকর্মীরা। পরে তোষক খুলে দেখা যায়, ‘তোষকভর্তি গাঁজা’। তোষকের ভেতরে গাঁজা পাচারের কৌশল এবারই প্রথম ধরা পড়ল।

এ ঘটনার পর গতকাল মঙ্গলবার আরেক যাত্রী জমির উদ্দিনের কাছ থেকে সাড়ে ৪০০ পিস ইয়াবা এবং ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন বিভাগের নিরাপত্তাকর্মীরা। এখানেও ভিন্ন এবং নতুন কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে ১০ বছর ধরে আবুধাবিতে বসবাসকারী হাটহাজারীর বাসিন্দা জমির। তিনি বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে আবুধাবি যাচ্ছিলেন। তাঁর সাদা মোটা জুতার সোলের ভেতর কৌশলে ইয়াবা ও গাঁজা লুকানো ছিল। পাচারকারী জমির উদ্দিন বিমানবন্দরের প্রথম গেটে প্রথম দফা নিরাপত্তা তল্লাশি পেরিয়ে দ্বিতীয় দফা নিরাপত্তা তল্লাশির সময় সেই জুতা স্ক্যানিংয়ে দিলে তাতেই ধরা পড়ে মাদক। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা জুতা খুলে গাঁজা ও ইয়াবা বের করে আনেন।

যাত্রীটি প্রথম দফা তল্লাশি অনায়াসেই কিভাবে পার হলো জানতে চাইলে বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক বলেন, ‘প্রথম তল্লাশিতে যাত্রীর লাগেজ স্ক্যান করা হয়। দেহতল্লাশি করা হয়, কিন্তু পরিহিত সব কিছু স্ক্যান করা হয় না। কারণ এক যাত্রীকে তো দুবার আমরা দেহতল্লাশি করতে পারি না।’ তিনি বলেন, এ কারণে গত সোমবার প্রথম দফায় লাগেজ তল্লাশিতে গাঁজা ধরা পড়ে। আর গতকাল জুতার ভেতর থাকায় দ্বিতীয় স্ক্যানিংয়ে ধরা পড়ে। এ কারণে খুত বা ভুল ধরার কোনো সুযোগ নেই।

প্রবাসী বাংলাদেশিরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিলেন, চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দর দিয়ে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচার করে আসছিল। কিন্তু অভিযোগগুলো বিক্ষিপ্ত হওয়ায় এতদিন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

জানতে চাইলে পতেঙ্গা থানার ওসি উৎপল বড়ুয়া বলেন, ‘বিমানবন্দর দিয়ে এ ধরনের মাদক ধরা পড়া উদ্বেগজনক এবং দেশের ভাবমূর্তির বিষয়। আটক দুজনের কাছ থেকে আমরা প্রাথমিক কিছু তথ্য পেয়েছি কিন্তু তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করছি না। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। এরপর বিস্তারিত বলতে পারব।’

 

 

 

মন্তব্য