kalerkantho


কীর্তনখোলা নদী

ভাঙন রোধের মধ্যেই চলছে বালু উত্তোলন

আজিম হোসেন, বরিশাল   

১৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০



ভাঙন রোধের মধ্যেই চলছে বালু উত্তোলন

এভাবেই কীর্তনখোলা নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে একটি মহল। ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রশাসন বলছে অনুমতি দেওয়া হয়নি। উত্তোলনকারীরা বলছেন, অনুমতি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থ দিয়ে তারা কীর্তনখোলা নদী থেকে বালু উত্তোলন করছেন। এতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কিছু নেই। এভাবে পরস্পর দায় এড়ানো কথার মধ্যে কীর্তনখোলা নদীতে একদিকে চলছে ভাঙন রোধ, অন্যদিকে চলছে বালু উত্তোলন।   

কীর্তনখোলা নদীর ভাঙন রোধে গত ফেব্রুয়ারিতে বেলতলা এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সেই থেকে নদীর ভাঙন রোধে এ উদ্যোগ অব্যাহত আছে। তবে সপ্তাহখানেক আগে বেলতলা থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে ঝুনাহার ও পোটকার চর এলাকায় দুই ব্যক্তি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করে। কীর্তনখোলার চারটি পয়েন্টে চারটি ড্রেজার বসিয়ে প্রতিদিনই বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে। এই ড্রেজার চারটির মালিক বাচ্চু মিয়া ও হানিফ হাওলাদার নামে দুই ব্যক্তির। প্রশাসনের নাকের ডগায় কীর্তনখোলা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হলেও নেওয়া হচ্ছে না কোনো ব্যবস্থা। ড্রেজার মালিকরা দাবি করছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে তারা বালু উত্তোলন করছেন। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। কীর্তনখোলা থেকে যারা বালু উত্তোলন করছে তাদের তিনি চেনেন না।

সাধারণ মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক কীর্তনখোলার ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলার কাজের উদ্বোধন করেন। ওই সময় জেলা প্রশাসনকে তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন কীর্তনখোলা থেকে কেউ যেন ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন না করে। অথচ ভাঙন রোধে কাজ শুরুর কদিন পরই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন শুরু করে একটি গ্রুপ। গ্রুপটি কীর্তনখোলার পোটকার চর, ঝুনাহার ও কদমতলা পয়েন্টে ড্রেজার বসিয়ে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালানোর আগে তথ্য পেয়ে সটকে পড়ে উত্তোলনকারীরা। অভিযোগ রয়েছে, বালু উত্তোলনের জন্য ক্ষমতাসীন দলের নেতা এবং প্রশাসনকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কীর্তনখোলা নদীর পোটকার চর এলাকায় দুটি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলন করা এই বালু নদী দিয়ে জাহাজে করে চরবাড়িয়া ইউনিয়নের কদমতলা হয়ে বিভিন্ন এলাকায় চলে যায়।

এর জন্য চরবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ, কাউনিয়া থানা, জেলা প্রশাসনকে  মোটা অঙ্কের অর্থ দিতে হয় বলে জানান ড্রেজার মালিকরা।

কীর্তনখোলা নদীর ঝুনাহার পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে দুটি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। পরে ড্রেজার মালিক বাচ্চু মিয়ার তত্ত্বাবধানে ওই বালু তালতলী বন্দরের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখান থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠানো হচ্ছে বালু।

ড্রেজার মালিক বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন, তাই আমি বালু উত্তোলন করছি। এখানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কিছু নেই। আর বালু উত্তোলনের জন্য চরবারিয়া এলাকার রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসন, পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের টাকা দিতে হয়।’

আরেক ড্রেজার মালিক হানিফ হাওলাদার বলেন, ‘আমার দুটি ড্রেজার বালু উত্তোলন করছে। অনুমতি নিয়েই আমি এই বালু উত্তোলন করছি। এর জন্য রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের টাকা দিতে হয়। এখানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কিছু নেই।’

বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘গুচ্ছগ্রামের একটা প্রকল্প ছিল আমাদের। ওই প্রকল্পে বালু ভরাটের কাজ শেষ হয়ে গেছে। এখন যারা বালু কাটছে তারা অবৈধভাবে কাটছে। এদের আটক করতে গেলে পালিয়ে যায়। এর মধ্যে আমরা একটি ড্রেজার আটক করে দেড় লাখ টাকা জরিমানাও করেছি।  তার পরও অভিযান চলবে। আমরা শিগগিরই বালু উত্তোলনকারীদের আটক করব।’ 

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব ও উন্নয়ন) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নদী থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি আমরা দিইনি। যদি কেউ উত্তোলন করে থাকে, তবে তা বেআইনি। আমরা তাদের রুখতে অভিযান পরিচালনা করব।’ 

 



মন্তব্য