kalerkantho


ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়ন

কমপক্ষে একটি আসন টার্গেট জামায়াতের

রাজশাহীর রাজনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

২০ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



কমপক্ষে একটি আসন টার্গেট জামায়াতের

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। তবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মতো অতটা উচ্ছ্বাস এখনো বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা, আছে শঙ্কাও। আবার এই ছয় আসনের একটির মনোনয়ন ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতকে ছেড়ে দিতে হতে পারে, এমনটিও শোনা যাচ্ছে।

এদিকে নতুন করে বিএনপিতে যোগদান করা সাবেক এমপি আবু হেনাকে রাজশাহী-৩ (বাগমারা) আসন থেকে মনোনয়ন না দেওয়ার দাবিতে গতকাল সোমবার নগরীতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

দলীয় সূত্র মতে, ২০০৮ সালের নির্বাচনেও রাজশাহী-৩ আসনে বিএনপিকে ছাড় দেয়নি জামায়াত। বিএনপিও অনড় থাকায় ওই আসনে বিএনপি-জামায়াতের দুজন এবং আওয়ামী লীগের একজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। শেষে আওয়ামী লীগের প্রার্থীই জয়ী হন। একাদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে জামায়াত এবারও অন্তত একটি আসনে একক প্রার্থী পেতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। রাজশাহী-৩ অথবা রাজশাহী-১ এর যেকোনো একটি আসনে জোটগতভাবে একক মনোনয়ন বাগানোর জোরালো দাবি জামায়াতের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমান রাজশাহী-১ আসন থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিশেষত ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে উঠেপড়ে লেগেছেন। এরই মধ্যে তিনি এ আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। ১৯৮৬ সালে এই আসন থেকে নির্বাচন করে তিনি এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

রাজশাহী-৩ আসন থেকে গতবার জামায়াতের প্রার্থী আতাউর রহমান নির্বাচন করে হয়েছিলেন তৃতীয়। এবার এই আসনের জন্য রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম তুলেছেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সাবেক ভারপ্রাপ্ত আমির ও কাটাখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র মাজিদুর রহমান।

বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করছে, রাজশাহীর এ দুটি আসনেই জামায়াতের শক্ত অবস্থান রয়েছে। তাই বলে অবস্থা

এমন নয় যে জামায়াত এখানে তাদের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে পারবে। তারা কখনোই নির্বাচনে জয়ী হওয়ার মতো অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। সে জন্যই বিএনপিকে চাপে রেখে এককভাবে রাজশাহীর অন্তত একটি আসনে নির্বাচন করতে চায় জামায়াত। আর সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই নিবন্ধন বাতিল হওয়া সংগঠনটি দুটি আসনের টার্গেট নিয়ে মাঠে নেমেছে।

জানতে চাইলে রাজশাহীর জামায়াত নেতা ও পবা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান বলেন, ‘রাজশাহী-১ আসনের জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত আমির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। জোটের সঙ্গে দর-কষাকষি করে মনোনয়ন পেলে জোটের প্রার্থী হিসেবেই তিনি নির্বাচন করবেন।’

রাজশাহী জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু এ ব্যাপারে বলেন, ‘জামায়াত প্রতিবারই নির্বাচনে রাজশাহীর একটি আসন দাবি করে। জোটের শরিক হিসেবে এবারও তারা একটি আসনে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে জোর দিতে পারে। এখন জোটের বিষয় এটি। জোট কাকে মনোনয়ন দেবে, তা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিষয়।’

রাজশাহীর পুঠিয়ার বিএনপি নেতা মধু বলেন, ‘মনোনয়ন ইস্যুতে সাবেকদের নামই বেশি শোনা যাচ্ছে। তবে বিএনপির আসল কাজ করতে হবে হারানো আসনগুলো ফিরিয়ে আনতে পারেন, এমন প্রার্থী বাছাই করা। এলাকায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন, এমন নেতা প্রয়োজন।’

দুর্গাপুরের বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান মন্টু বলেন, ‘এলাকায় যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে আসেননি, তাঁরা মনোনয়ন পেলে নেতাকর্মীরা তাঁদের হয়ে কতটা কাজ করবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে মনোনয়ন কে পাচ্ছেন, তা নিয়েই এখন বেশি উদ্বিগ্ন আমরা।’

আবু হেনাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা : এদিকে রাজশাহীর বাগমারায় বিএনপির সাবেক এমপি আবু হেনাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। বাগমারা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে গতকাল দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবি জানানো হয়।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাগমারা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম আরিফুল ইসলাম আরিফ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচন ঘিরে বাগমারা আসনে সাবেক এমপি আবু হেনার আগমনের ফলে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে পরাজয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সুবিধাবাদী ও বিএনপি-বিদ্রোহী আবু হেনাকে পুনরায় বাগমারায় মনোনয়ন দেওয়া হলে তৃণমূলের জনগণ কখনোই তাঁকে মেনে নেবে না।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করতে একজন সৎ ও যোগ্য প্রার্থী প্রয়োজন। বিএনপির নীতিনির্ধারকদের কাছে আবেদন, ভবিষ্যৎ বিএনপি ও তরুণ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে সুবিধাবাদী ও বিএনপির বিরোধিতাকারী আবু হেনাকে মনোনয়ন না দিয়ে যোগ্য নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হোক।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাগমারা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রকিবুল ইসলাম সিদ্দিক, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মহব্বত হোসেন, জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম ও সহসভাপতি আব্দুল আলিম, সহসাধারণ সম্পাদক এম এস আলম, তাহেরপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমজাদ মণ্ডল প্রমুখ।



মন্তব্য