kalerkantho


বিবিসির সেরা ১০০ নারী

বিশ্বের অনুপ্রেরণাদায়ীদের মধ্যে সেই ‘হৃদয়ের মা’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বিশ্বের অনুপ্রেরণাদায়ীদের মধ্যে সেই ‘হৃদয়ের মা’

শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলে হৃদয়কে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়াতে এভাবেই কোলে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন মা সীমা সরকার। —ফাইল ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বারান্দা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক মা, কোলে তাঁর ১৮ বছর বয়সী সন্তান; যে ছোটবেলা থেকে হাঁটতে পারে না। মায়ের কোলে চড়ে ছেলের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসার এই ছবি এবং তার পরের গল্প এরই মধ্যে অনেকেরই জানা। এবার বিবিসির করা বিশ্বের বিভিন্ন অঙ্গনের ১০০ জন অনুপ্রেরণাদায়ী ও প্রভাববিস্তারী নারীর তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন সেই মমতাময়ী মা, নেত্রকোনার সীমা সরকার। প্রতিবছর সারা বিশ্বের বিজ্ঞান, রাজনীতি, ব্যবসাবাণিজ্য, বিনোদন, সাংবাদিকতাসহ বিভিন্ন অঙ্গনের ১০০ জন অনুপ্রেরণাদায়ী নারীর তালিকা প্রকাশ করে বিবিসি। গতকাল সোমবার প্রকাশ করা চলতি বছরের তালিকায় সীমা সরকার রয়েছেন ৮১ নম্বরে। তালিকায় ভারত ও পাকিস্তানের নারীও রয়েছেন।

জন্মের পর থেকেই অজানা এক রোগে দুই পায়ে চলার শক্তি নেই ছেলে হৃদয় সরকারের। স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘খ’ ইউনিটে প্রতিবন্ধী কোটায় ভর্তি পরীক্ষা; সব পরীক্ষাই মায়ের কোলে চড়েই দিতে গেছেন হৃদয়। গত ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হৃদয়ের ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসার ওই ছবি তুলে কেউ একজন ফেসবুকে পোস্ট করার অল্প সময়ের মধ্যেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। আর এতেই হৃদয় সরকার ও তাঁর মা সীমা সরকার জয় করে নেন অসংখ্য মানুষের হৃদয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও গোল বাঁধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিতে; যে বিধিতে প্রতিবন্ধী কোটায় শুধু দৃষ্টি, শ্রবণ ও বাক্প্রতিবন্ধী হলেই কোটা প্রযোজ্য হবে বলে উল্লেখ ছিল। এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সভা ডেকে হৃদয়কে প্রতিবন্ধী কোটায় ভর্তির সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এখন থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরাও ভর্তির সুযোগ পাবে এই কোটায়।

বিবিসির অনুপ্রেরণাদায়ী নারীর তালিকায় নাম ওঠা বিষয়ে জানতে চাইলে সীমা সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি তো বিষয়টি দেখিনি, জানিও না। আপনার কাছ থেকে জানলাম। নিজের জন্য নয়, হৃদয়ের জন্য এই ভালো লাগা।’ হৃদয় সরকার বলেন, ‘মা আমার সবচেয়ে বড় অবলম্বন। আমার জীবনে বাবার অবদানও অনেক।’ হৃদয়রা দুই ভাই। তাঁর বাবা সমীরণ সরকার নেত্রকোনার একটি ব্রিকফিল্ডের ম্যানেজার। নেত্রকোনা শহরেই থাকেন তাঁরা।

 



মন্তব্য