kalerkantho


হুদা দম্পতির সাজার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত

নির্বাচনে অযোগ্য হতে পারেন নাজমুল হুদা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



নির্বাচনে অযোগ্য হতে পারেন নাজমুল হুদা

সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাকে চার বছর কারাদণ্ড এবং তাঁর স্ত্রী অ্যাডভোকেট সিগমা হুদাকে তাঁর কারাভোগের সময়কে সাজা হিসেবে ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশ্য আদালতে রায় ঘোষণার এক বছরেরও বেশি সময় পর রায় প্রকাশিত হলো। ৬৭ পৃষ্ঠার এ রায়ে নাজমুল হুদাকে সাজা ভোগ করার জন্য নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিম্ন আদালত রায়ের কপি পাওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে নাজমুল হুদাকে গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দিয়ে এ রায় প্রকাশ হওয়ায় নাজমুল হুদা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য হয়ে গেলেন বলে মনে করেন আইনজীবীরা। তবে নির্বাচনে অংশ নিতে হলে নাজমুল হুদাকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এরপর কারাগার থেকে তাঁকে এই সাজার বিরুদ্ধে আপিল করতে হবে। এই আপিল করার পর আদালতের নির্দেশনা পেলে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন বলে মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত বছরের ৮ নভেম্বর সংক্ষিপ্ত রায় দেন। এ অবস্থায় আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় গতকাল রবিবার সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।

হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করার সুযোগ পাবেন নাজমুল হুদা দম্পতি। তবে নাজমুল হুদাকে আপিল করার আগে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন দুদক আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। তিনি বলেন, এ রায়ের কারণে আসন্ন নির্বাচনে নাজমুল হুদা প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হয়ে গেলেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, দুর্নীতি একটি অভিশাপ। সমাজের সর্বত্রই দুর্নীতি দেখা যাচ্ছে। কোনো সরকারি কর্মচারীর দুর্নীতি শুধু সমাজের ভিত্তিকেই ক্ষয় করে না, তা জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। রায়ে বলা হয়, যখন একজন ব্যক্তি সরকারের কোনো শীর্ষ পদে যায় এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে তখন ওই দুর্নীতি দেশের অর্থনীতি, জাতীয় স্বার্থ ও ভাবমূর্তির ব্যাপক ক্ষতি করে।

আকতার হোসেন লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর জাহির হোসেনের কাছ থেকে দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ২০০৭ সালের ২১ মার্চ দুদক নাজমুল হুদা দম্পতির বিরুদ্ধে ধানমণ্ডি থানায় মামলা করে। এ মামলায় জাতীয় সংসদ ভবনসংলগ্ন এমপি হোস্টেলে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত একই বছরের ২৭ আগস্ট এক রায়ে নাজমুল হুদাকে সাত বছর ও সিগমা হুদাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে ওই দম্পতি হাইকোর্টে আপিল করেন। এ আপিলের ওপর শুনানি শেষে ২০১১ সালের ২০ মার্চ এক রায়ে হাইকোর্ট তাঁদের খালাস দেন। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরপর আপিল বিভাগ ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্টের রায় বাতিল করেন এবং ফের  হাইকোর্টে বিচার করার নির্দেশ দেন। এ নির্দেশে হাইকোর্টে পুনরায় শুনানি শেষে রায় দেন। রায়ে নাজমুল হুদা দম্পতির বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলা হয়। তবে আদালত নাজমুল হুদার সাজার পরিমাণ সাত বছর থেকে কমিয়ে চার বছর করেন। আর সিগমা হুদার সাজার পরিমাণ তিন বছর থেকে কমিয়ে দেওয়া হয়। এ মামলায় সিগমা হুদা যত দিন কারাগারে ছিলেন সেটাই তাঁর সাজা হিসেবে রায় দেন হাইকোর্ট। দুদকের আইনজীবী জানান, সিগমা হুদা প্রায় দেড় বছর কারাগারে ছিলেন।



মন্তব্য