kalerkantho


ধামরাইয়ে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা পুলিশের

ওসির তৎপরতায় নারী আটক

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি   

১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ধামরাইয়ে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা পুলিশের

ঢাকার ধামরাইয়ে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করতে গিয়ে কামরুন্নাহার নামের এক নারী আটক হয়েছেন। গতকাল শনিবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ছয়জনের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ধামরাইয়ের গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের উত্তর হাতকোড়া গ্রামে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ধামরাই থানার এসআই মাহমুদ আলম কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিয়ে মধ্যবয়সী এক নারীসহ হাতকোড়া গ্রামের হাছেন আলীর ছেলে আবদুস সাত্তারের শোবার ঘরে ঢোকেন। এ সময় সাত্তার খাবার খাচ্ছিলেন। ঘরে ঢুকেই তাঁরা দরজা বন্ধ করে ঘরে তল্লাশি করতে থাকেন। একপর্যায়ে বালিশের নিচ থেকে ইয়াবা পাওয়া গেছে দাবি করে পুলিশ সাত্তারকে আটক করে। স্বজনরা সাত্তারকে ছাড়িয়ে নিতে চাইলে এসআই ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দেওয়া সম্ভব নয় জানালে সাত্তারকে থানায় নিয়ে আসা হয়। এ ঘটনায় রাতেই সাত্তারের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া শুরু করে পুলিশ।

এ সময় ধামরাই থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা সাত্তারের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পারেন যে তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। পরে খোঁজখবর নিয়ে ওসি জানতে পারেন যে সাত্তার একজন ভালো মানুষ। পরে প্রতারণার কারণে পুলিশের সোর্স কামরুন্নাহারকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে কামরুন্নাহার জানান, সাত্তারকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে তাঁকে ভাড়া করা হয়েছে। পরে গতকাল দুপুরে সাত্তারকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সাত্তারের ভগ্নিপতি আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানার শ্রমিক মামুন হোসেন বলেন, ‘সাত্তারকে ছাড়িয়ে রাখতে অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু দারোগা মাহমুদ আলম ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। আমাদের কাছে এত টাকা না থাকায় তাঁকে দিতে পারিনি।’

সাত্তারের বাবা হাছেন আলী জানান, তাঁর আপন ভাই শুকুর আলীর সঙ্গে ৮ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এর জের ধরে ছয় মাস আগে এক নারীকে দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ দিলে সাত্তারকে আটক করা হয়। পরে পুলিশ তদন্ত করে জানতে পারে অভিযোগটি মিথ্যা। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে ইটভাটার শ্রমিক। প্রতিদিন ভোরে কাজে গিয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরে। তাকে ইয়াবা ব্যবসায়ী বানিয়ে পুলিশ আটক করে।’

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল কাদের মোল্লা বলেন, ‘সাত্তার ইয়াবা সেবন দূরের কথা, কখনো বিড়িও খায় না। এ কারণে এসআই মাহমুদ আলমকে অনুরোধ করেছিলাম তাকে ছেড়ে দিতে; কিন্তু তিনি ছাড়েননি।’

তবে টাকা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে এসআই মাহমুদ আলম বলেন, ‘আমি থানায় নতুন যোগদান করেছি। তখন বুঝতে পারিনি সোর্স হিসেবে কাজ করা মহিলা টাকা পাওয়ার চুক্তিতে সাত্তারকে ফাঁসিয়ে দিচ্ছে।’

ধামরাই থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, একটি চক্র সাত্তারকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে চেয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।



মন্তব্য