kalerkantho


নয়াপল্টনে সহিংসতা

পুলিশের কাছে প্রতিবেদন চেয়ে ইসির চিঠি

কাউকে অহেতুক হয়রানি না করার নির্দেশ

বিশেষ প্রতিনিধি   

১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



পুলিশের কাছে প্রতিবেদন চেয়ে ইসির চিঠি

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা সম্পর্কে পুলিশের কাছে প্রতিবেদন চেয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রতিবেদনের সঙ্গে ওই সময়ের তোলা ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণও দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় কাউকে হয়রানি না করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে পাঠানো চিঠিতে ওই সংঘর্ষের ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে ইসি জেনেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ গতকাল শনিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা আইজিপির (পুলিশ মহাপরিদর্শক) কাছে এ বিষয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। পুলিশের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ করবে।’

দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণের সময় গত বুধবার (১৪ নভেম্বর) নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশের দুটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্র জানায়, দলীয় কার্যালয়ে মনোনয়ন সংগ্রহ ও জমাকে কেন্দ্র করে মিছিল, শোডাউন হওয়ায় আচরণবিধি লঙ্ঘন বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে আইজিপিকে গত ১৩ নভেম্বর চিঠি দেয় নির্বাচন কমিশন। পরদিন নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ওই সংঘর্ষ হয়।

ঘটনার দিন বিকেলে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিতরণের সময় মিছিল, শোডাউনের ঘটনা ঘটলেও কমিশন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। কিন্তু বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিতরণ চলাকালে কমিশন এটিকে আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে বলে। এ পরিস্থিতিতে পুলিশ বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় নির্বাচন কমিশন এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে।

ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বৈঠকের পর আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধিদলও ওই দিন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে। ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা অভিযোগ করেন, ভোট পেছানোর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংঘাত ঘটানো হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা নির্বাচনী আচরণবিধির ১১, ১৭ ও ১৮ ধারার লঙ্ঘন। তাঁরা এ অপরাধের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

অন্যদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিএনপির নেতাকর্মীরা বিনা উসকানিতে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে।

ওই দিন রাতেই নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘নয়াপল্টনে যে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, সেটা কেন ঘটল তা আমরা খতিয়ে দেখব।’ একই সঙ্গে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের বিষয়টিকে স্বাভাবিক বলেই মনে করেন তিনি। হেলালুদ্দীন বলেছেন, ‘এটাকে আচরণবিধি লঙ্ঘন বলা যাবে না। আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রেও উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের চিত্র আমরা দেখেছি।’

আওয়ামী লীগের দাবি সম্পর্কে সচিব ওই সময় বলেন, ‘আমরা পুলিশের কাছে জানতে চাইব কেন এই সহিংসতা হয়েছে।’

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে জানান, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে আসা সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থীদের বাধা দিচ্ছে, তল্লাশি করছে এবং ফিরে যাওয়ার পথে কয়েকজনের মনোনয়ন ফরম আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেছে। ১৪ নভেম্বর ৬০ থেকে ৭০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত আছে।

বিএনপির মহাসচিবের চিঠিতে আরো বলা হয়, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বাচন কমিশনের অধীনে চলে আসে। অথচ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অতি উৎসাহী সদস্য কমিশনের আদেশ উপেক্ষা করে এ ধরনের অপকর্মে লিপ্ত আছেন।



মন্তব্য