kalerkantho


আশুলিয়ায় বাবাকে বাস থেকে ফেলে দিয়ে মেয়েকে হত্যা

নিহতের জামাতাই পরিকল্পনাকারী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



নিহতের জামাতাই পরিকল্পনাকারী

রাজধানীর অদূরে আশুলিয়ায় বয়োবৃদ্ধ বাবাকে বাস থেকে ফেলে দিয়ে মেয়ে জরিনা বেগম হত্যার রহস্য উন্মোচন হয়েছে। পুলিশ বলছে, পারিবারিক বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আর হত্যার পরিকল্পনাকারীদের অন্যতম হলো নিহত জরিনা বেগমের মেয়েজামাই নূরুল ইসলাম।

অথচ আশুলিয়ায় ব্রিজের নিচ থেকে জরিনা বেগমের লাশ উদ্ধারের পর এই মেয়েজামাইয়ের কান্নাকাটিতে উপস্থিত অন্যদের চোখেও পানি চলে এসেছিল। শুধু তাই নয়, সে থানায় গিয়ে অজ্ঞাতপরিচয়দের আসামি করে হত্যা মামলাও দায়ের করে। শাশুড়ির খুনিদের ধরতে পুলিশের কাছে গিয়ে অনুনয়-বিনয় করতে থাকে। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশ হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে পেরেছে, যাদের একজন এই জামাতা নূরুল ইসলাম।

আশুলিয়া এলাকায় বাবাকে বাস থেকে ফেলে দিয়ে মেয়েকে হত্যার ঘটনাটি ঘটে গত ৯ নভেম্বর। বিষয়টি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনা তদন্তে নেমে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চাঞ্চল্যকর তথ্য পায়। মাত্র ১০ হাজার টাকা দিয়ে বাসসহ চালক-হেলপারকে ভাড়া করে বাসের ভেতরেই ওই হত্যার ঘটনা ঘটানো হয়। একপর্যায়ে পিবিআই গ্রেপ্তার করে নিহত জরিনার মেয়েজামাই এবং এই হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার বাদী নূরুল ইসলাম (২৯), তার মা আমেনা বেগম (৪৮) ও আত্মীয় স্বপনকে (৩৫)।

পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ড এবং এর পরিকল্পনার বিষয়ে তথ্য দেয়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে বাদী হিসেবে হাজির হয় নূরুল ইসলাম। অবশেষে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে মামলার বাদী সেই এই হত্যার সঙ্গে জড়িত।

গতকাল শনিবার ধানমণ্ডিতে পিবিআই সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে পূর্বপরিকল্পিত এই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জানানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের উল্লেখ করে পিবিআই জানায়, নিহত জরিনা খাতুনের মেয়ে রোজিনার সঙ্গে বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী নূরুল ইসলাম ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কলহ চলে আসছে। সপ্তাহখানেক আগে এই কলহ বড় আকার ধারণ করে। রোজিনাকে তার স্বামী নূরুল ইসলাম ব্যাপক মারধর করে। নূরুল ইসলাম ও তার মা এই কলহের জন্য রোজিনার মাকে দায়ী করে। গত ৯ নভেম্বর দুপুরে জরিনা খাতুন তাঁর ৭০ বছর বয়সী বাবা আকবর আলী মণ্ডলকে নিয়ে আশুলিয়া থানার গাজীরচর মুন্সিপাড়া এলাকায় নূরুল ইসলামের বাড়িতে আসেন। বিকেল ৫টার দিকে তাঁরা সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে বেরিয়ে যাওয়ার আগেই জরিনাকে হত্যার আয়োজন করে জামাতা নূরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা। 

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নূরুল ইসলাম তার মা আমেনা বেগম ও জরিনার বেয়াই স্বপনের সহযোগিতায় ১০ হাজার টাকার চুক্তিতে একটি মিনিবাস (ঢাকা মেট্রো জ-১১-১৭৯২) এবং বাসের চালক, হেলপারসহ চারজনকে ভাড়া করে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারা বাসটি আগে থেকেই শিমুলতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দাঁড় করিয়ে রাখে এবং স্বপন তাদের বাসে উঠিয়ে দেয়।

বাসটিতে জরিনা খাতুন ও তাঁর বাবা ছাড়া আর কোনো যাত্রী না থাকায় বাসের চালক ও অন্য সহযোগীরা বাসটি আশুলিয়া এলাকার বিভিন্ন রাস্তা ঘুরিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আশুলিয়া থানা এলাকার মরাগাং আশুলিয়া ব্রিজের উত্তর পাশে আসে। সেখানে প্রথমে জরিনার বাবাকে মারধর করে ধাক্কা দিয়ে বাস থেকে ফেলে দেওয়া হয়। পরে জরিনাকে হত্যা করে গাড়ি থেকে ফেলে দিয়ে চলে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

নূরুল ইসলাম পরদিন ১০ নভেম্বর আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ তদন্তে নামে। পরবর্তী সময়ে পুলিশ সদর দপ্তরের আদেশে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পিবিআই।



মন্তব্য