kalerkantho


রায়পুরায় আধিপত্য নিয়ে পৃথক সংঘর্ষ তিনজন নিহত

নরসিংদী প্রতিনিধি   

১৭ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



রায়পুরায় আধিপত্য নিয়ে পৃথক সংঘর্ষ তিনজন নিহত

নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পূর্বশত্রুতার জের ধরে পৃথক সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন নিহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল বাঁশগাড়ী গ্রামে এবং দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একই উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নে এই পৃথক সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছে।

নিহতরা হলেন বাঁশগাড়ী বালুয়াকান্দি এলাকার মোহাম্মদ আবদুল্লাহর ছেলে তোফায়েল হোসেন (১৮), নিলক্ষা ইউনিয়নের বীরগাঁও এলাকার উসমান মিয়ার ছেলে সোহরাব হোসেন (৩০) ও গোপীনাথপুর এলাকার মৃত সোবহান মিয়ার ছেলে স্বপন মিয়া (২৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বাঁশগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল হক এবং সাবেক চেয়ারম্যান ও একই দলের নেতা শাহেদ সরকারের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। গত মার্চ মাসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান শাহেদ সরকার। এর ৪০ দিন পর ৩ মে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল হক। এ হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিপক্ষের হামলার ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় শাহেদ সরকারের সমর্থকরা। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গতকাল সকালে শাহেদ সরকারের সমর্থকরা এলাকায় ফিরলে প্রতিপক্ষ সিরাজুল হকের সমর্থকরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। গুলিবিদ্ধ চারজনকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তোফায়েল হোসেন নামের একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি শাহেদ সরকারের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। সুমন (২৬), মামুন (২৫) ও সুমন

মিয়া (২৬) নামের অপর তিনজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে একই উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নেও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম ও সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। তাঁদের সমর্থকরা আবার বাঁশগাড়ী এলাকায় বিভিন্ন পক্ষকে সমর্থন দিয়ে সংঘর্ষে অংশ নিয়ে থাকে। এর মধ্যে নিলক্ষা এলাকার তাজুল ইসলামের সমর্থকরা বাঁশগাড়ী এলাকার সিরাজুল হক সমর্থক এবং আবদুল হকের লোকজন শাহেদ সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের সমর্থকরা বাঁশগাড়ীর সংঘর্ষের ঘটনায় অংশ নেওয়ার পর নিজ এলাকায় ফিরে প্রতিপক্ষ আবদুল হকের সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। প্রতিপক্ষের লোকজন তা প্রতিহত করতে গেলে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষটি দুপুর থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রথমে তাজুল ইসলামের সমর্থক সোহরাব হোসেন এবং পরে আবদুল হক সরকারের সমর্থক স্বপন মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হয় কমপক্ষে ৫০ জন। এর মধ্যে ১৫-১৬ জন গুলিতে গুরুতর আহত হয়।

এ ব্যাপারে নিলক্ষা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘এক পক্ষ অতর্কিত প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালালে দুই পক্ষে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুজন নিহত হওয়া ছাড়াও গুলি ও টেটায় কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছে।’

নিলক্ষা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, ‘নিহতদের লাশ রায়পুরা থানা হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। বাঁশগাড়ীর সংঘর্ষের ঘটনার জের ধরেই তাজুল চেয়ারম্যানের সমর্থকরা আবদুল হক চেয়ারম্যানের সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তবে আজকের (গতকাল) সংঘর্ষটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল না।’ 

রায়পুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘সকালে বাঁশগাড়ীর ঘটনার খবর পেয়ে রায়পুরা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এরই মধ্যে নিলক্ষা ইউনিয়নের প্রথমে বীরগাঁও এবং পরে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে সংঘর্ষ শুরু হয়। পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও একপর্যায়ে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পৃথক দুটি সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত তিনজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

 



মন্তব্য