kalerkantho


বিশ্বের নানা প্রান্তের সুরে ভাসল ঢাকা ফোক ফেস্ট

নওশাদ জামিল   

১৭ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বিশ্বের নানা প্রান্তের সুরে ভাসল ঢাকা ফোক ফেস্ট

রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে গতকাল সংগীত পরিবেশন করে বাহরাইনের ব্যান্ড মাজাজ। ছবি : কালের কণ্ঠ

সন্ধ্যা নামতেই রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামমুখী স্রোত নামে সংগীতপ্রেমীদের। রাত গড়াচ্ছিল আর বাড়ছিল সুররসিকদের আনাগোনা। মরমি গানের বিশাল আয়োজনটি একসময় পরিণত হয় জনারণ্যে। স্টেডিয়ামের এক কোণে বিশাল মঞ্চ। সামনে মগ্ন হাজার হাজার দর্শক-শ্রোতা। গ্যালারিতেও মানুষ আর মানুষ। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিন এভাবেই জমজমাট হয়ে ওঠে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট।

চতুর্থবারের মতো ফোক ফেস্টের আয়োজন করেছে সান কমিউনিকেশনস লিমিটেড। গতকাল উৎসবের দ্বিতীয় দিনে লোকসংগীতের সুরের আলোয় মঞ্চ আলোকিত করেছেন বাংলাদেশ থেকে ফোকসম্রাজ্ঞী মমতাজ ও প্রথমবারের মতো রাজশাহীর ফোকব্যান্ড স্বরব্যঞ্জো। আন্তর্জাতিক শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন ভারতের বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় ফোক ঘরানার শিল্পী রঘু দীক্ষিত, যুক্তরাষ্ট্রের তেহানো মিউজিকে অনুপ্রাণিত গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী দল লস টেক্সমেনিয়াকস ও বাহরাইনের ফিউশন ব্যান্ড মাজাজ।

হিসাবমতো সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জ্বলে ওঠে উৎসবের আলোর রোশনাই। মঞ্চে আসে রাজশাহীর লোকব্যান্ড স্বরব্যঞ্জো। এটি একটি ফোক ফিউশন ব্যান্ড। ২০১৪ সালে গঠিত এই ব্যান্ডের সদস্যরা হলেন বগা তালেব, রূপক আহমেদ, আসিফ হাসান নিলয়, রাতুল সরকার, শহিদুল আলম জীবন, বানা রত্ন, তানভির-আল-আযাদ, অধরা শ্রেয়সী অথৈ, সঞ্জয় মল্লিক প্রমুখ। আঞ্চলিক এ দলটি শুরুতেই পরিবেশন করে ‘মহারাজা তোমায় সালাম’ শীর্ষক লোকগান। এরপর একে একে তারা পরিবেশন করে ‘জানিতে চাই দয়াল তোমার আসল নামটা কী’, ‘কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়’, ‘শাল বৃক্ষের মতন সিনা টান মেরেছে’, ‘নয়াবাড়ি লইয়া রে বাইদ্দা লাগাইলো বাইগুন’ ইত্যাদি লোকগান। দর্শক-শ্রোতারা বিপুল করতালি দিয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করে ফিউশন ধারার এ গানগুলোর পরিবেশনাকে।

দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে আসে বাহরাইনের প্রগ্রেসিভ ফিউশন ব্যান্ড ‘মাজায’। দলটি গঠিত হয় ২০১৩ সালে। প্রথম দিকে ব্যান্ডটি ‘মাযাজ’ নামে গঠিত হলেও পরে সৃজনশীল এবং সাদৃশ্যের কারণে নাম বদলে করা হয় ‘মাজায’। টানা কয়েক বছর লাইভ পারফরম্যান্স দিয়ে দর্শকদের মন জয় করার পর ২০১৬ সালে তারা প্রকাশ করে অ্যালবাম। ২০১৭ সালের শুরুর দিকে তাদের স্টুডিও রেকর্ড ‘রিহালা’ প্রশংসিত হয় বিশ্বব্যাপী। ইনস্টুমেন্টের অসাধারণ মিশ্রণের সঙ্গে ফোক প্রগ্রেসিভ মিউজিক মাজাযে পরিবেশনা মুগ্ধ করে দর্শক-শ্রোতাদের। দলটির পরিবেশনায় অংশ নেন জীহাদ আল হালাল, আবদুল্লাহ ফয়সাল, সালাহ শারাখাত, হামিদ আল সাঈদ প্রমুখ।

মাজাযের পরিবেশনা ফুরাতেই মঞ্চে আসে ভারতের রঘু দীক্ষিত প্রজেক্ট। বর্তমানে ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় লোকশিল্পী রঘুপতি দ্বারকানাথ পরিবেশন করেন ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকসংগীত। রঙিন লুঙ্গি ও ফতুয়া পরে রঘুপতির গানে খুঁজে পাওয়া যায় কানাড়া কবিতার ছন্দ। রঘুপতির সঙ্গে পরিবেশনায় ছিলেন নেরেশ নাথান, জো জ্যাকব ও নাভিন থমাস।

এরপর মঞ্চে আসে গ্রামি পুরস্কার বিজয়ী যুক্তরাষ্ট্রের দল লস টেক্সমেনিয়াকস। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ও উত্তর মেক্সিকোর স্প্যানিশ অভিবাসীদের লোকজগান তেহানো থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ম্যাক্স বাকা ১৯৯৭ সালে গঠন করেন ব্যান্ডটি। ২০১০ সালে সেরা তেহানো অ্যালবাম হিসেবে দলটি গ্রামি পুরস্কার জয় করে। দলটির গানে ব্লুজ, লোকজ, কান্ট্রি, জ্যাজ ও রক মিউজিকের প্রভাব মেলে। বিশ্বের অন্যতম সেরা বাহো সেক্সতো বাদক ম্যাক্স বাকার নেতৃত্বে দলটিতে ছিলেন অ্যাকোর্ডিয়ানে জশ বাকা, ড্রামে লরেনজো মার্টিনেজ, নোয়েল হার্নান্দেজ, উইল জে লস ও ফ্লাকো ইয়েমিনেজ।

দ্বিতীয় দিনের শেষ পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে আসেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় লোকশিল্পী মমতাজ বেগম। তিনি নিজের জনপ্রিয় গানগুলোর পাশাপাশি অপ্রচলিত গানও পরিবেশন করেন। যার মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দিনের আয়োজন শেষ হয়।

আজ শনিবার তৃতীয় ও সমাপনী দিনে অংশ নেবেন পাকিস্তানের শাফকাত আমানত আলী, স্পেনের লাস মিগাজ এবং বাংলাদেশের বাউল কবির শাহ, অর্ণব ও নকশিকাঁথা।

 



মন্তব্য