kalerkantho


সাক্ষাৎকার ► এ কে এম রহমতুল্লাহ্, সংসদ সদস্য, ঢাকা-১১

মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত এলাকা গড়তে চাই

১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত এলাকা গড়তে চাই

ঢাকা-১১ (বাড্ডা-ভাটারা-রামপুরা) আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম রহমতুল্লাহ্ দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী দপ্তর থেকে। এবার নির্বাচনে তিনি ভোটারদের কাছে কী প্রতিশ্রুতি নিয়ে যাবেন—এ বিষয়ে কথা বলেছেন কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে।

 

কালের কণ্ঠ : দীর্ঘ সময় আপনি আপনার নির্বাচনী এলাকায় সংসদ সদস্য আছেন। এবার ভোটে আপনি দলীয় মনোনয়ন পেলে ভোটারদের কাছে আপনার মূল প্রতিশ্রুতি কী থাকবে?

এ কে এম রহমতুল্লাহ্ : এবার আমার প্রধান লক্ষ্য থাকবে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত এলাকা গড়ে তোলা। সেই সঙ্গে তরুণসমাজের মেধা ও শিক্ষা বিকাশে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া।

 

কালের কণ্ঠ : এবার নির্বাচনী প্রস্তুতি কেমন? মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে কতটা আশাবাদী?

এ কে এম রহমতুল্লাহ্ : নির্বাচন তো করবই, তাই প্রস্তুতিও তো সব সময়ই আছে। সব সময়ই আমি ভোটারদের সঙ্গেই থাকি, তাদের ভালোমন্দে সবাই আমাকে কাছে পায়। আর দলও আমাকেই এখানে মনোনয়ন দেবে—এটা আমার দৃঢ়বিশ্বাস। কারণ এখানে অন্য যে দল থেকেই যাকে মনোনয়ন দেওয়া হোক না কেন, আমিই বিপুল ভোটে জয়ী হব। বলতে পারেন ৯০ শতাংশের বেশি ভোট আমিই পাব।

 

কালের কণ্ঠ : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মহানগর শাখার সভাপতি হিসেবে দলকে কতটা সংগঠিত করতে বা রাখতে পেরেছেন?

এ কে এম রহমতুল্লাহ্ : এখানে আমরা শতভাগ সংগঠিত—দলের প্রশ্নে সবাই এক। আমরা সংগঠিত আছি বলেই আমার নির্বাচনী এলাকায় এখন পর্যন্ত বিরোধী দলের আন্দোলনের নামে কোনো নৈরাজ্য-সন্ত্রাস হয়নি; আগামী দিনেও হতে দেওয়া হবে না। আমার এলাকার মানুষ আওয়ামী লীগের ওপর ও আমার ওপর সম্পূর্ণ আস্থাশীল। এ ছাড়া এখানে কোনো কোন্দল নেই। এলাকার সব নেতাকর্মী আমার সঙ্গে আছে।

 

কালের কণ্ঠ : এলাকায় আগের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কি সব পূরণ করতে পেরেছেন? উন্নয়ন কার্যক্রম কি করেছেন?

এ কে এম রহমতুল্লাহ্ : এলাকায় এখন আমি নিজেই উন্নয়ন করার মতো কাজ বা সমস্যা আছে—এমন কিছু খুঁজে বেড়াই। মানুষের কাছে জানতে চাই; কিন্তু খুঁজে পাই না। অর্থাৎ এখানে মানুষের চাওয়ার আগেই সব কাজ হয়ে গেছে। সরকারি ছাড়াও আমার নিজের উদ্যোগেই ১৯৮৬ সাল থেকে মাঝখানে দুই মেয়াদ বাদে ৫০ থেকে ৬০টি স্কুল করেছি, বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ করেছি, স্বাস্থ্যকেন্দ্র করেছি। রাস্তাঘাট তো হচ্ছেই। মাঝেমধ্যে গ্যাসের সমস্যা হয়—সেটা তো আমার এককভাবে কিছু করার থাকে না, আমি কর্তৃপক্ষকে বলে তা-ও সমাধানের চেষ্টা করি।

এ ছাড়া ঢাকার এক অবহেলিত-অনুন্নত অঞ্চলে পড়ে ছিল বাড্ডা, ভাটারা, সাঁতারকুল ও বেরাইদ এলাকা। সিটি করপোরেশনেরও বাইরে ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক ইচ্ছায় সম্প্রতি এই চারটি ইউনিয়ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় এসেছে। এ জন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। শুধু এই এলাকাগুলো সিটি করপোরেশনে এসে থেমে থাকেনি, ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রমও হয়েছে; যেমন—আমার এলাকায় হাতিরঝিল প্রকল্প, কুড়িল ফ্লাইওভার, ১০০ ফুট প্রশস্ত নতুন বাজার-বেরাইদ-রূপগঞ্জ সড়কসহ অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কারিগরি প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদরাসা, মন্দিরসহ অনেক কিছু প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পানির সমস্যা দূর করতে এই এলাকায় ২২টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে, কুড়িল ফ্লাইওভার থেকে বাড্ডা হয়ে মৌচাক পর্যন্ত বিশ্বরোড পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে বাড্ডা, সাঁতারকুল ও বেরাইদ এলাকায় ১০০ কিলোমিটার গ্যাসলাইন স্থাপন করা হয়েছে।

 

কালের কণ্ঠ : আসন্ন নির্বাচন ঘিরে বিরোধী দলগুলোর কোনো আন্দোলন হলে তা কিভাবে মোকাবেলা করবেন?

এ কে এম রহমতুল্লাহ্ : বিরোধী দল আন্দোলন করবে কিভাবে, তাদের কি সেই শক্তি-সামর্থ্য কিংবা মানুষের সমর্থন আছে? আর এ দেশের মানুষ এখন উন্নয়ন ছাড়া আর কিছুই বোঝে না, কোনো আন্দোলন চায় না, আন্দোলনের নামে নৃশংসতা-ধ্বংসযজ্ঞ চায় না। এমন কিছু করতে চাইলে মানুষই তাদের প্রতিহত করবে।

 

কালের কণ্ঠ : ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে নতুন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনকে কিভাবে দেখছেন?

এ কে এম রহমতুল্লাহ্ : এই জোট-ফ্রন্টের কোনো গুরুত্ব নেই, জামায়াতকে প্রতিষ্ঠিত করতেই এটা করা হয়েছে। মানুষ এটাকে গ্রহণ করবে না। এরা দেশকে আবার পাকিস্তান বানাতে চায়। আর ড. কামালের মতো একজন মানুষ যখন বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি ছেড়ে জামায়াতের সঙ্গে যায়, এর চেয়ে দুঃখজনক তাঁর জন্য আর কিছুই হতে পারে না।

 

কালের কণ্ঠ : একজন জনপ্রতিনিধি ও ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন নেতা হিসেবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কেমন আছেন আপনি?

এ কে এম রহমতুল্লাহ্ : এককথায় বলতে গেলে দুই পরিচয়েই ভালো আছি। আমার এলাকার মানুষ আমাকে খুব ভালোবাসে, আমিও তাদের জন্য নিজেকে সব সময় উজাড় করে দিই। এ ক্ষেত্রে আমার একটি বিশেষত্ব হচ্ছে, ঢাকায় হাতে গোনা দু-তিনজন স্থায়ী সংসদ সদস্যের মধ্যে আমি একজন। আমার পূর্বপুরুষ থেকেই সব কিছু আমার বর্তমান নির্বাচনী এলাকায়। আমার দাদা তৎকালীন জনপ্রতিনিধি ছিলেন, আমার বাবা জনপ্রতিনিধি ছিলেন, আমিও চেয়ারম্যান থেকে বারবার এমপি হচ্ছি। ফলে বলতে পারেন এখানকার মাটি-মানুষ সবই আমার, আমি সবার। আমার রক্তেই আছে মানুষের সেবা করা।

 



মন্তব্য