kalerkantho


পটুয়াখালীতে শিশু ধর্ষণ

‘শিশু পরিবারের’ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ, ‘ধর্ষক’ গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি   

১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



‘শিশু পরিবারের’ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ, ‘ধর্ষক’ গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘শিশু পরিবার’-এর বাসিন্দা এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই দিন অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচারের দাবিতে ‘শিশু পরিবার’-এর বাসিন্দা অন্য শিশুরা সেখানে বিক্ষোভ করেছে। অভিযোগ করা হয়েছে জেলা প্রশাসকের কাছে।

জানা গেছে, এতিম শিশুদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারিভাবে পরিচালিত ‘শিশু পরিবার’-এর বাসিন্দা এই শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত সোমবার বিদ্যালয় থেকে ফেরার সময় বিদ্যালয়ের সামনের দোকানি আব্দুল মোতালেব (৩২) তাকে চকোলেট দেওয়ার কথা বলে দোকানের ভেতর নিয়ে যৌন নির্যাতন করেন। এরপর মোতালেব গা ঢাকা দেন।

শিশুটির কাছ থেকে ঘটনাটি শোনার পর গতকাল বিকেলে পটুয়াখালী সদর থানার পুলিশ অভিযুক্ত মোতালেবকে তাঁর গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার বহালগাছিয়া থেকে আটক করে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জসীম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

শিশু ও তার নানির অভিযোগ : শিশুটির নানি জানান, তাঁর নাতনির বাবা নেই। তিনি তাকে ‘শিশু পরিবার’-এ দিয়েছেন। কয়েক দিন পর পর গিয়ে খোঁজখবর নেন তিনিই। গত বুধবার সকালে তিনি নাতনির খোঁজ নিতে গেলে ‘শিশু পরিবার’-এর লোকজন নাতনির সঙ্গে তাঁকে দেখা করতে দেয়নি। একপর্যায়ে পটুয়াখালী জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক শিলা রানী দাসের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেন। তিনিও প্রথমে নাতনির সঙ্গে দেখা করা যাবে না বলে জানান। একপর্যায়ে তাঁর পীড়াপীড়িতে দেখা করতে দেন।

শিশুটির নানি বলেন, দেখা হওয়ার পর নাতনি তাঁকে ধর্ষণের ঘটনার বিস্তারিত জানায়। তিনি অভিযোগ করেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাঁকে বলেছেন যে তাঁর নাতনি গাছ থেকে পড়ে ব্যথা পেয়েছে। শিশু পরিবার কর্তৃপক্ষ তাকে চিকিৎসা করিয়েছে।

শিশুটির অভিযোগ, ঘটনার পর তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখান দোকানদার মোতালেব। কাউকে ঘটনার কথা বললে খুন করে নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকিও দেন অভিযুক্ত এই ব্যক্তি। নির্যাতনের কারণে তার রক্তক্ষরণ হয় এবং ব্যথা সহ্য করতে না পেরে সে ‘শিশু পরিবার’-এর আপাদের বিষয়টি জানায়।

শিশুটি জানায়, ‘শিশু পরিবার’-এর আপারা তাকে ঘটনার দিন সোমবার হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং পরদিন হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসেন। ‘শিশু পরিবার’-এর লোকজন তাকে শিখিয়ে দেয়, কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে বলবে, ‘গাছ থেকে পড়ে ব্যথা পেয়েছি।’

জানা গেছে, গুরুতর অসুস্থ শিশুটির নানি গতকাল ঘটনার বিচার এবং শিশুটির সুচিকিৎসা চেয়ে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগপত্রে তিনি দাবি করেন, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক শিলা রানী তাঁকে শাসিয়েছেন। তিনি ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালান বলেও অভিযোগ করেছেন শিশুটির নানি।

এ ছাড়া গতকাল ‘শিশু পরিবার’-এর ক্যাম্পাসে এবং ফটকের কাছে জড়ো হয়ে সেখানকার অন্য শিশুরা ঘটনার বিচার দাবি করে বিক্ষোভ করে।

অভিযোগ ও বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) নুরুল হাফিজ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিশুটিকে চিকিৎসা দেওয়া এবং আইনি সব ধরনের সহায়তা আমাদের পক্ষ থেকে করা হবে।’ সমাজসেবার কর্মকর্তা শিলা রানীর বিরুদ্ধে শিশুটির নানি যে অভিযোগ করেছেন তার সত্যতা পাওয়া গেলে সেটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জানান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক শীলা রানী দাস সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক।’

 

 



মন্তব্য