kalerkantho


পশ্চিমবঙ্গের নাম ‘বাংলা’ করায় আপত্তি দিল্লির

কলকাতা প্রতিনিধি   

১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



পশ্চিমবঙ্গের নাম ‘বাংলা’ করায় আপত্তি দিল্লির

ছবি: ইন্টারনেট

পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলে ‘বাংলা’ করার প্রক্রিয়া ধাক্কা খেল। রাজ্যের নাম বদলের লক্ষ্যে বিধানসভায় যে প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছিল, তা কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদনের জন্য দিল্লিতে পাঠিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। সেই প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে দিল্লি। এ নিয়ে সরাসরি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা।

সরকারি একটি সূত্র জানিয়েছে, রাজ্যের নাম বদলের প্রস্তাব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। স্বরাষ্ট্র থেকে এই প্রস্তাব পাঠানো হয় বিদেশ মন্ত্রণালয়ে (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়)। বিদেশ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রাজ্যকে আপত্তির কথা জানানো হয়েছে। ‘বাংলা’ নামে কেন আপত্তি, তাও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

বিদেশ মন্ত্রণালয় ব্যাখ্যায় বলেছে, ১. প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ। ভারতের সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ক। এই অবস্থায় একটি অঙ্গরাজ্যের নাম ‘বাংলা’ হলে বিভ্রান্তি আসতে পারে। কূটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হতে পারে। ২. হিন্দি ও ইংরেজিতে আলাদা নাম না দিয়ে রাজ্যের একটাই নাম থাকুক। বাকি রাজ্যগুলো সব ভাষায় একই নামে ডাকা হয়।

সরকারি ওই সূত্র আরো জানিয়েছে, বিদেশ মন্ত্রণালয়ের এই আপত্তি পরে কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রণালয়কে পাঠানো হয়েছে তাদের মতামতের জন্য। ওই সূত্র বলেছে, ‘আমরা জানতে পেরেছি, কেন্দ্রীয় সরকার আমাদের রাজ্যের নাম সব ভাষায় ‘পশ্চিমবঙ্গ’ করার প্রস্তাব দেবে।’

মততার সরকার পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলে ‘বাংলা’ করার প্রস্তাব পাস করেছিল। প্রস্তাবে ছিল, পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলে বাংলা ভাষায় ‘বাংলা’, হিন্দিতে ‘বঙ্গাল’ এবং ইংরেজিতে ‘বেঙ্গল’ হবে। বর্তমানে বাংলা ভাষায় পশ্চিমবঙ্গ, ইংরেজিতে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’ এবং হিন্দিতে ‘পশ্চিমবংগাল’ বলা হয়ে থাকে।

বাংলা নামে দিল্লির আপত্তিতে রাজ্যের বিজেপি নেতারা উত্ফুল্ল। তাঁরা বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের নামের সঙ্গে দেশ ভাগের ইতিহাস জড়িত। সেই নাম বদলে বাংলা করার সিদ্ধান্ত শুধু হঠকারী নয়, বিভ্রান্তিকরও বটে। কারণ আমাদের প্রতিবেশী দেশের নামই বাংলাদেশ।’

কেন্দ্রের আপত্তিতে ক্ষুব্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি, রাজনৈতিক অভিসন্ধি নিয়ে প্রতিদিন দেশের নানা ঐতিহাসিক জায়গার নাম পাল্টে দিচ্ছে বিজেপি। স্বাধীনতার পর অনেক জায়গার নামই পাল্টানো হয়েছে। উড়িষ্যার নাম পাল্টে হয়েছে ওড়িশা, বম্বে হয়েছে মুম্বাই, মাদ্রাজ হয়েছে চেন্নাই, ব্যাঙ্গালোর হয়েছে বেঙ্গালুরু। ভাষা ও রাজ্যের মানুষের অনুভূতির কথা মাথায় রেখেই হয়েছে এসব পরিবর্তন, যা একেবারেই সঠিক সিদ্ধান্ত।’

এরপরই মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে বঞ্চনার অভিযোগ এনেছেন। তাঁর বক্তব্য, সারা দেশে নাম পরিবর্তনের হিড়িক জারি থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের জন্য পড়ে থাকছে শুধুই বঞ্চনা। প্রথমে পশ্চিমবঙ্গের নাম ইংরেজিতে ‘বেঙ্গল’, হিন্দিতে ‘বঙ্গাল’ এবং বাংলায় ‘বাংলা’ করার কথা ভেবেছিল রাজ্য। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ঐকমত্যের ভিত্তিতেই রাজ্যের নাম বদলানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ‘এরপর তিনটি ভাষাতেই রাজ্যের নাম বাংলা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তা পাঠানো হয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে। যদিও তারপর দীর্ঘদিন অপেক্ষা করা সত্ত্বেও নিশ্চুপ কেন্দ্র। যা নিশ্চিতভাবেই রাজ্যের প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনা। রাজ্যে কোনো অস্তিত্ব না থাকলেও একটি রাজনৈতিক দল পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলানোর সিদ্ধান্তে প্রভাব খাটাতে পারে কি? সাংবিধানিক রীতিনীতি মেনে আমরা ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিলেও কেন্দ্র তা হতে দিচ্ছে না। এটা কি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিধি ভঙ্গ করছে না?’



মন্তব্য