kalerkantho


প্রাণের বাংলায় ফাদার রিগনের শেষশয্যা

আজ আসছে দেহাবশেষ সমাহিত হবেন মোংলায়

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকা ও মোংলা প্রতিনিধি    

২১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



প্রাণের বাংলায় ফাদার রিগনের শেষশয্যা

ফাদার মারিনো রিগন, জন্ম : ৫ ফেব্রুয়ারি ১৯২৫, ইতালি, মৃত্যু : ২০ অক্টোবর ২০১৭, ইতালি

২০১৪ সাল। হৃদরোগে চলাফেরার শক্তি হারানো ফাদার মারিনো রিগনকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে ইতালি থেকে ছুটে এসেছেন তাঁর ভাই। ছয় দশক ধরে বাংলাদেশকে আপন করে নেওয়া ফাদার রিগন এ দেশ ছেড়ে যেতে চাইছিলেন না। শেষমেশ তিনি শর্ত দিলেন—ইতালিতে মৃত্যু হলে যেন তাঁকে বাগেরহাটের মোংলায় তাঁর প্রতিষ্ঠিত শেলাবুনিয়া গির্জার পাশেই সমাহিত করা হয়। সেই শর্ত মেনেই তাঁকে নেওয়া হয়েছিল ইতালিতে। গত বছরের ২০ অক্টোবর ইতালিতে ৯২ বছর বয়সে তিনি মারা যান। শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী বাংলাদেশের মাটিতেই সমাহিত হতে আজ রবিবার তিনি ফিরছেন কফিনে বন্দি হয়ে।

ইতালির খ্রিস্ট ধর্মযাজক ফাদার মারিনো রিগন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অনন্য ভূমিকা রেখেছিলেন। এই বিদেশি বন্ধুকে এই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ সরকার ২০০৯ সালে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব এবং ২০১২ সালে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা প্রদান করে।

ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ফাদার রিগনের দেহাবশেষ আজ রবিবার ইতালি থেকে ঢাকায় আনা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার তাঁর শেষ ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে দেহাবশেষ বাংলাদেশের মাটিতে তাঁরই স্থাপিত মোংলার শেলাবুনিয়া গির্জার পাশে সমাধিস্থ করার ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম জানান, আজ ভোর ৫টায় তার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটযোগে ফাদার রিগনের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছবে। এরপর হেলিকপ্টারে করে মরদেহ মোংলায় নেওয়া হবে। সেখানে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে সমাহিত করা হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ফাদার মারিনো রিগনের জন্ম ১৯২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ইতালির ভেনিসের অদূরে ভিন্নাভেরলা গ্রামে। একজন খ্রিস্ট ধর্মযাজক হিসেবে তিনি ১৯৫৩ সালে বাংলাদেশে আসেন। এ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে অবশেষে তিনি মোংলার শেলাবুনিয়া গ্রামে একটি গির্জা ও স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। ওই গ্রামে তিনি তাঁর স্থায়ী আবাস গড়ে তোলেন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন ছিল ফাদার রিগনের। যুদ্ধ চলাকালে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবা দিতে গির্জায় গোপনে একটি চিকিৎসা ক্যাম্প স্থাপন করেছিলেন তিনি। ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা নিয়ে অনেক মুক্তিযোদ্ধা সুস্থ হয়ে আবারও রণাঙ্গনে ফিরে গেছেন। তাঁদের মধ্যে বিখ্যাত হেমায়েত বাহিনীর প্রধান হেমায়েত উদ্দিন বীরবিক্রমও ছিলেন।

বাংলাদেশে বসবাস সূত্রে বাংলা সাহিত্যের প্রতি তাঁর কৌতূহল ও নিবিড় ভালোবাসার জন্ম হয়। তিনি ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’, লালনের সংগীত ও দর্শনের প্রতি বিশেষভাবে আকৃষ্ট হন। তাঁর মাধ্যমে ইতালিয়ান ভাষায় রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলিসহ প্রায় ৪০টি কাব্যগ্রন্থ, জসীমউদদ্ীনের নক্সী কাঁথার মাঠ ও অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ, লালনের গানসহ অসংখ্য সাহিত্যকর্ম অনূদিত হয়েছে।



মন্তব্য