kalerkantho


নরসিংদীর ঘটনায় পৃথক দুই মামলা

দুই নারী জঙ্গি ৭ দিনের রিমান্ডে

নরসিংদী প্রতিনিধি   

১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



দুই নারী জঙ্গি ৭ দিনের রিমান্ডে

নরসিংদীতে দুটি জঙ্গিবিরোধী অভিযানের পর মাধবদী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একটি মামলায় মাধবদীর ছোট গদাইরচরে অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া দুই নারীকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নরসিংদী জজ আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদুর রহমান নাহিদের আদালতে দুই নারী জঙ্গিকে হাজির করে ১৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সদর উপজেলার মেহেরপাড়া ইউনিয়নের ভগীরথপুরের জঙ্গি আস্তানার ঘটনায় গত বুধবার রাতে এবং মাধবদী পৌর এলাকার ছোট গদাইরচর এলাকার জঙ্গি আস্তানার ঘটনায় গতকাল সকালে মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,  ভগীরথপুর এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেনের মালিকানাধীন বাড়ির পাঁচতলা ভবনের পঞ্চম তলার জঙ্গি আস্তানার ঘটনায় মাধবদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এনায়েত কবির সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হলেন—আবু আবদুল্লাহ আল বাঙালি, আকলিমা আক্তার মনি ও হাফিজ উদ্দিন। এর মধ্যে আবু আবদুল্লাহ ও আকলিমা আক্তার মনি জঙ্গি অভিযান ‘অপারেশন গর্ডিয়ান নট’-এ নিহত হয়েছেন। অপর আসামি হাফিজ উদ্দিনকে মামলায় পলাতক দেখানো হয়েছে। হাফিজ নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের বাসিন্দা। তিনি মূলত জঙ্গিদের বাড়ি ভাড়া নিতে সহায়তা করতেন বলে জানায় পুলিশ।

অপরদিকে মাধবদীর ছোট গদাইরচর (গাংপাড়) এলাকার আফজাল হোসেনের মালিকানাধীন নিলুফা ভিলার সপ্তম তলায় জঙ্গি আস্তানার ঘটনায় এসআই বাবু উত্তম কুমার বিশ্বাস সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় পুলিশের অভিযানে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার পশ্চিম বেলতৈল এলাকার খোরশেদ আলমের মেয়ে খাদিজা পারভীন মেঘনা (২৫) ও পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বিলবিলাস এলাকার হাবিবুর রহমানের মেয়ে ইশরাত জাহান ওরফে মৌসুমী ওরফে মৌকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বাকি আটজনকে পলাতক হিসেবে দেখানো হয়েছে।

মাধবদী থানার ওসি আবু তাহের দেওয়ান বলেন, ‘জঙ্গি আস্তানার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে। এর মধ্যে ভগীরথপুরের ঘটনায় তিনজনকে এবং ছোট গদাইরচরের ঘটনায় ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ছোট গদাইরচরে অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের আজ (গতকাল) আদালতে হাজির করে ১৫ দিনের রিমান্ডের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সাত দিন মঞ্জুর করেছেন।’

উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে ভগীরথপুর ও মাধবদীর ছোট গদাইরচর (গাংপাড়) এলাকায় দুটি জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশ। পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট, সোয়াতসহ পুলিশ হেডকোর্য়ার্টারের বিভিন্ন বাহিনীর টানা ৪২ ঘণ্টার পৃথক অভিযানে ভগীরথপুরে দুই জঙ্গি নিহত হয় ও মাধবদীতে দুই নারী জঙ্গি গ্রেপ্তার হয়।

নিহত আবদুল্লাহর বাড়ি কালীগঞ্জে অপারেশন ‘গর্ডিয়ান নটে’ (জটিল গেরো) নিহত আবু আবদুল্লাহ আল বাঙালির মূল নাম গোলাম মোস্তফা ওরফে রুবেল। তিনি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বেজপাড়া গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে। মায়ের নাম মর্জিনা বেগম। ওই গ্রামের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করার পর কালীগঞ্জের সরকারি মাহতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর যশোর এমএম কলেজে অনার্সে ভর্তি হন। ২০১৪ সালে ঝিনাইদহ থেকে যাওয়ার পর খুব কমই বাড়িতে আসতেন। এলাকার মানুষের সঙ্গেও কম কথা বলতেন। যশোরে পড়াশোনার পাশাপাশি একটি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগদানকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।

জানা গেছে, প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে গত পাঁচ মাস আগে আবু আব্দুল্লাহ ওরফে মোস্তফা ও আকলিমা আক্তার মনি বিবাহ করেন। পড়াশোনা করায় তাঁর স্ত্রী বাবার বাড়িতেই থাকতেন। চলতি মাসের ২ তারিখে মোস্তফা ঢাকায় শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তিন দিন থাকেন। যশোর যাওয়ার নাম করে স্ত্রীকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। তারপর থেকে তাঁদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

বুধবার মোস্তফার সত্বাবা আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, তাঁর ছেলের শ্বশুরবাড়ির লোকজন খবর পেয়ে নরসিংদীর উদ্দেশে রওনা হয়েছে। আপাতত তাঁরা যে খবর পেয়েছেন তাতে অনেকটা নিশ্চিত হয়েছেন নিহত ওই নারী তাঁর পুত্রবধূ। আর ছেলের নাম ভিন্ন হওয়ায় এখনো নিশ্চিত হতে পারছেন না।

বুধবার রাতে কালের কণ্ঠ’র প্রতিনিধি মোস্তফার বেজপাড়ার বাড়িতে গেলে তাঁর এক চাচা নজরুল ইসলাম জানান, গাজীপুরের শহিদুল ইসলামের কন্যা আকলিমা আক্তার মনিকে বিয়ে করে সে। বিয়েতে তাঁদের পরিবারের কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। তবে ওই পরিবার রক্ষণশীল হওয়ায় আকলিমাকে তাঁরা দেখার সুযোগ পাননি।

এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানায়, বাড়িতে সে খুব কম আসত। অন্যরা যেভাবে নামাজ আদায় করে সে ভিন্নভাবে করত। চাচা নজরুল জানান, গত ২ অক্টোবর সে বাড়িতে বলে যায়, কয়েক দিন তার মোবাইল বন্ধ থাকবে। এরপর সাত দিন পার হয়ে গেলেও তার কোনো ফোন না পেয়ে তাঁরা খোঁজাখুঁজি করেন। বেজপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘গত সাত-আট মাস ধরেই মোস্তফার চলাফেরায় সন্দেহ হয়েছিল। তাকে অনেকবার নিষেধ করেছি, কিন্তু কথা শোনেনি।’

কালীগঞ্জ থানার ওসি ইউনুচ আলী বলেন, ‘নরসিংদীতে নিহত জঙ্গির বিষয়ে আমাদের কাছে অফিসিয়ালভাবে কোনো মেসেজ আসেনি। তবে লোক মুখে শোনার পর তাঁর মা মর্জিনা বেগম ও সত্বাবা আব্দুল মান্নানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

 



মন্তব্য