kalerkantho


ম্যান বুকার জিতলেন আনা বার্নস

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



ম্যান বুকার জিতলেন আনা বার্নস

‘মিল্কম্যান’ উপন্যাসের জন্য এ বছর ইংরেজি সাহিত্যের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার ম্যান বুকার পেয়েছেন আইরিশ লেখক আনা বার্নস। তিনিই প্রথম কোনো উত্তর আয়ারল্যান্ডের লেখক, যিনি ৫০ হাজার পাউন্ড বা ৫৬ লাখ টাকা অর্থমূল্যের এই পুরস্কারটি জিতলেন। মিল্কম্যান উপন্যাসটি লেখা হয়েছে গত শতাব্দীর সত্তরের দশকের নর্দান আয়ারল্যান্ডে ক্যাথলিক-প্রটেস্ট্যান্ট সহিংসতাকে উপজীব্য করে।

গত মঙ্গলবার  লন্ডনের  গিল্ডহল মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে ৫৬ বছর বয়সী আনা বার্নসের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন ডাচেস অব কর্নওয়াল ক্যামিলা রোজমেরি।

যে বিচারক প্যানেল আনা বার্নসকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে তার চেয়ারম্যান বিখ্যাত দার্শনিক কিউয়ামে অ্যান্থনি আপিয়াহ উপন্যাসটিকে ‘অবিশ্বাস্য বাস্তব’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘এর আগে কখনো আমরা এ ধরনের লেখা পড়িনি। আনা বার্নসের এমন স্বতন্ত্র লেখনী গতানুগতিক ধ্যান-ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করবে। নৃশংসতা ও যৌন সহিংসতাকে কৌতুকের সুরে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে উপন্যাসটিতে।’ কিউয়ামে জানান, সংক্ষিপ্ত তালিকায় মিল্কম্যানসহ পাঁচটি উপন্যাস ছিল। 

নর্দান আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে জন্ম নেওয়া আনা বার্নসের তৃতীয় উপন্যাস মিল্কম্যান। উপন্যাসে ১৮ বছরের এক নাম না-জানা তরুণীর ওপর হওয়া ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের বর্ণনা রয়েছে। ওই তরুণীকে যৌন হয়রানি করতেন একজন প্যারামিলিটারি ব্যক্তিত্ব, যিনি ‘মিল্কম্যান’ নামে পরিচিত। অর্থাৎ একজন ক্ষমতাধর ব্যক্তির হাতে একজন তরুণীর যৌন হয়রানির কাহিনি নিয়ে উপন্যাসটির ঘটনাপ্রবাহ এগিয়েছে।   

পুরস্কার ঘোষণার পর আনন্দে ভাষা হারিয়ে ফেলেন লেখিকা আনা বার্নস। নিজেকে সামলে তিনি বলেন, ‘ঔপন্যাসিক হিসেবে আমার কাজ হচ্ছে বর্তমানকে তুলে ধরা। এটা একটা অপেক্ষার ব্যাপার। আমার চরিত্রগুলো নিজেরাই তাদের গল্পটা আমাকে বলবে, এর জন্য আমাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে। চরিত্রগুলো জীবন্ত না হওয়া পর্যন্ত আমি আসলে লিখতে পারি না।’

২০০১ সালে প্রথম উপন্যাস ‘নো বোনস’ প্রকাশের পর আর্থিকভাবে চরম দুর্দশার মধ্যে পড়েছিলেন তিনি। পরের বছরই উপন্যাসটির জন্য ‘অরেঞ্জ প্রাইজ’ পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি। এই লম্বা সময় নিজেকে কিভাবে সামলেছেন—এ প্রশ্নের জবাবে আনা বলেন, ‘আমি বিভিন্ন বাণিজ্যিক ইভেন্ট পরিচালনা করেছি। আগের পুরস্কারের অর্থ দিয়ে ঋণ পরিশোধ করেছি।’

১৯৬৯ সাল থেকে ব্রিটিশ, আইরিশ ও কমনওয়েলথভুক্ত দেশের লেখকদের এ পুরস্কার দেওয়ার রীতি ছিল। তবে ২০১৪ সালে এটি বিশ্বের ইংরেজিভাষী সব লেখকের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। গত বছর নিজের প্রথম উপন্যাস ‘লিংকন ইন দ্য বার্ডো’র জন্য এ পুরস্কার পেয়েছিলেন আমেরিকান সাহিত্যিক জর্জ স্যান্ডার্স। বইটিতে ছেলের কবরের পাশে যুক্তরাষ্ট্রের ষোড়শ প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের একটি রাতের শোকের চিত্রায়ণ করেন স্যান্ডার্স। এর আগে সালমান রুশদি, অরুন্ধতী রায়, ইয়ান  ম্যাকেয়ান প্রমুখ এই পুরস্কার পেয়েছেন।

 



মন্তব্য