kalerkantho


এ কেমন আচরণ চিকিৎসকদের

৫০০ টাকার জন্য রোগী ফেলে হাসপাতাল ত্যাগ!

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

১৫ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



৫০০ টাকার জন্য রোগী ফেলে হাসপাতাল ত্যাগ!

চার হাজার টাকা বেতন বাড়ানোর দাবি ছিল। বাড়ানো হয়েছে সাড়ে তিন হাজার টাকা। ছয় মাস পর আরো ৫০০ টাকা বাড়ানো হবে বলে কর্তৃপক্ষ কথা দিয়েছে। কিন্তু বিষয়টি মনঃপূত হয়নি বলে তখনই হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গেলেন চিকিৎসকরা। ভাবলেন না চিকিৎসাধীন রোগীর কথা।

ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেওয়া এ ঘটনা নৈতিকতার লঙ্ঘন বলে চিকিৎসকমহলও মনে করছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের বেসরকারি ‘রয়েল হসপিটালে’। অবশ্য গতকাল রবিবার সন্ধ্যার পর ওই চিকিৎসকরা কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন।

রয়েল হসপিটাল (প্রাইভেট) লিমিটেডের চেয়ারম্যান ডা. ফরিদ আহমেদ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তাঁরা (শিফটে কর্মরত পুরুষ চিকিৎসক) এভাবে রোগীর চিকিৎসাসেবা ফেলে মাত্র ৫০০ টাকা বাড়তি বেতনের জন্য তাৎক্ষণিক হাসপাতাল থেকে চলে যেতে পারেন না। এটা অন্যায়। আমরা গত রাতে (শনিবার) একলাফে সাড়ে তিন হাজার টাকা বাড়িয়েছি। আর ৫০০ টাকাও ছয় মাস পর বাড়াব বলেছি। কিন্তু বৈঠক থেকে বেরিয়ে হাসপাতালে ওই সময় (শনিবার রাত সোয়া ১১টা) দায়িত্বরত অন্য আরো কয়েকজন চিকিৎসককে নিয়ে চলে যাওয়াটা কিছুতেই পেশার নীতি-নৈতিকতায় পড়ে না।’

ডা. ফরিদ জানান, তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালটির পরিচালক চিকিৎসকদের এনে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। গতকালও এ জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকরা হাসপাতালে ছিলেন। ফলে রোগীর সেবায় কোনো সমস্যা হয়নি। তিনি বলেন, ‘তাঁরা (চলে যাওয়া চিকিৎসকরা) মনে করেছিলেন রোগীদের জিম্মি করে নিজেদের মতো করে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দেবেন।’

হাসপাতালের অন্য একাধিক চিকিৎসক-কর্মকর্তা জানান, ৪৪ শয্যার রয়েল হসপিটালে প্রতিদিন গড়ে রোগী থাকে ২৫ থেকে ২৮ জন। চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৩৩ জন। তিন পালায় তাঁরা দায়িত্ব পালন করেন। সপ্তাহে গড়ে একেকজন তিন-চার দিন কাজ করেন। নগরের অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় রয়েল হসপিটালে চিকিৎসকদের মাসিক বেতনও কিছুটা বেশি। কর্মরত ৩৩ জনের মধ্যে ১৭ জন পুরুষ চিকিৎসক রয়েছেন। এখন প্রত্যেক চিকিৎসকের মাসিক বেতন ২১ হাজার টাকা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কর্তৃপক্ষের বেতন বাড়ানোর যে প্রস্তাব, সেটা নারী চিকিৎসকরা মেনে নিলেও পুরুষ চিকিৎসকরা রাজি হননি। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বেতন বাড়ানোর বিষয়ে বৈঠকে ছিলেন রুবেল দাশ, আরিফুল ইসলাম সুমন, পলাশ দাশসহ ১০ চিকিৎসক। ৫০০ টাকা নিয়ে মতের মিল না হওয়ায় তাঁরা তখনই হাসপাতাল থেকে চলে যান। যাওয়ার সময় বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্বরত অন্য পুরুষ চিকিৎসকদেরও তাঁরা নিয়ে যান।

ডা. রুবেল দাশ হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি কালের কণ্ঠ’র কাছে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। তাঁরা আবার হাসপাতালে যোগ দিয়েছেন।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. মুজিবুল হক খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দাবিদাওয়া থাকতে পারে। তা আলাপ-আলোচনায় সমাধান হবে। কিন্তু ডিউটি থেকে হঠাৎ চলে যাওয়াও অমানবিক। ডিউটি থেকে তাঁরা এভাবে (রয়েল হসপিটালের চিকিৎসক) না গেলে ভালো হতো।’ তিনি বলেন, বেসরকারি পর্যায়ে নিয়োগবিধি নেই। একেক প্রতিষ্ঠানের একেক রকম নিয়োগবিধি।

পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ চট্টগ্রামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, সরকারি পর্যায়ে নিয়োগবিধি রয়েছে। বেসরকারি পর্যায়েও থাকা দরকার। তবে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের নিয়োগবিধি আছে। দেখতে হবে সরকারি সুযোগ-সুবিধার থেকে যেন বেসরকারিতে বেশি পার্থক্য না থাকে।



মন্তব্য