kalerkantho


কুমিল্লার যুবদল নেতা ঢাকায় খুন

ছুরিটি তখনো পিঠে ঢুকে ছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক ও কুমিল্লা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি   

১৫ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



ছুরিটি তখনো পিঠে ঢুকে ছিল

মিজানুর রহমান

রাজধানীতে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন। নিহত মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান (৪২) ঢাকা ও কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে যুবদলের নেতৃস্থানীয় পদে ছিলেন। শনিবার রাতে রাজধানীর কাফরুল থানার ইব্রাহিমপুর এলাকায় নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাতে তাঁকে হত্যা করা হয়।

পারিবারিক সূত্র বলছে, ব্যাবসায়িক কাজ সেরে রাতে বাসার সামনে এসে সিএনজি অটোরিকশা থেকে নামেন মিজানুর রহমান। এ সময় বৃষ্টি হচ্ছিল। তিনি বাসায় ঢোকার মুহূর্তে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। একের পর এক আঘাতের একপর্যায়ে ছুরি পিঠের এমন গভীরে ঢুকে যায় যে হামলাকারীর পক্ষে তা টেনে বেরা করাও সম্ভব হয়নি। চিৎকার শুনে যারা আশপাশ থেকে এগিয়ে এসেছিল তাদেরও কেউ মিজানুরকে নিয়ে যায়নি হাসাপাতালে।

পুলিশ, নিহতের পরিবার ও সাংগঠনিক সূত্র জানায়, ইব্রাহিমপুর এলাকার ৩৫৭ নম্বর বাসায় স্ত্রী ও তিন ছেলেকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন মিজানুর রহমান। রাত ১০টার দিকে কাফরুল থানা পুলিশ মিজানুরকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিত্সক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল বিকেলে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কাফরুল থানার ওসি মো. আসলাম উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, নিহতের স্ত্রী রবিবার সকালে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার সময় মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ার কারণে অপরাধীরা সহজেই পালিয়ে যেতে পেরেছে। ওসি বলেন, ‘হত্যার কারণ উদ্ঘাটন এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার জাহান ভূঁইয়া দোলন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মিজান মনোহরগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সহসভাপতি এবং কাফরুল থানা যুবদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ইনডোর ডেকোরেশনের ব্যবসা করে পরিবার চালাতেন। তাঁর নামে থানায় কোনো মামলা ছিলো না, ইমেজও খুব ভালো ছিল। সবার সঙ্গেই ছিল সুসম্পর্ক। এমন নৃশংসভাবে কেন তাঁকে খুন করা হলো বলতে পারছি না। খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে রহস্য উদ্ঘাটন করা হোক।’

মিজানুরের ভাই মাসুদুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালে ব্যাবসায়িক উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন মিজানুর। তিনি প্রতিবেশীদের নিষ্ঠুরতায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার ভাই বাঁচতে চেয়েছিল। কিন্তু কেউ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়নি। হাসপাতালে নিয়ে গেলে হয়তো সে বাঁচত।’

নিহত যুবদল নেতার চাচাতো ভাই সিদ্দিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এলাকার চেয়ে ঢাকায় মিজানুরের রাজনৈতিক অবস্থান বেশ শক্ত। আমাদের সন্দেহ রাজনৈতিক কারণেই তাঁকে খুন করা হয়েছে।’ সিদ্দিকুর রহমান আরো বলেন, মিজানের তিন ছেলেসন্তান রয়েছে।

 

 



মন্তব্য