kalerkantho


বিএনপির পক্ষে নীরব ভোট বিপ্লব হবে

খায়রুল কবীর খোকন, সভাপতি, জেলা বিএনপি

১৫ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



বিএনপির পক্ষে নীরব ভোট বিপ্লব হবে

কালের কণ্ঠ : বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কী ভাবছেন?

খায়রুল কবীর খোকন : অবশ্যই আমরা আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের আশা পোষণ করছি। তবে খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, সংসদ ভেঙে দেওয়াসহ সাত দফা দাবি আদায়ে আমরা যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছি তা কতখানি আদায় হচ্ছে তার আলোকে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে।

 

কালের কণ্ঠ : যদি বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নেয় তাহলে আপনাদের প্রস্তুতি কেমন?

খায়রুল কবীর খোকন : আমাদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচার, মামলা-হামলা, নির্যাতন-নিপীড়ন, হত্যা ও গুমের শিকার হচ্ছে। তার পরও এই প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও জনগণ আমাদের পক্ষে থাকায় যদি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হয় তাহলে নরসিংদীর পাঁচটি আসনই আমরা খালেদা জিয়াকে উপহার দিতে পারব।

 

কালের কণ্ঠ :  নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের সাড়া পাচ্ছেন কেমন?

খায়রুল কবীর খোকন : নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্সাহ-উদ্দীপনা যেমন আছে, তেমনি আতঙ্কও রয়েছে। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে তো? তারা তাদের গণতান্ত্রিক যে অধিকার ভোট প্রয়োগ তা ঠিকভাবে দিতে পারবে কি না! এ ধরনের শঙ্কা ভোটারদের মধ্যে আছে। আর তা দূর করতে এ সরকারকে বহাল রেখে, পার্লামেন্ট না ভেঙে কখনোই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হবে না। এভাবে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারবে বলে আমি মনে করি না।

 

কালের কণ্ঠ :  আপনারা তো ক্ষমতায় নেই। তাহলে মানুষ কেন আপনাদের ভোট দেবে?

খায়রুল কবীর খোকন : বর্তমান সরকার তো মুখে মুখে উন্নয়নের কথা বলে। কিন্তু মানুষের যে মৌলিক চাহিদা তা পূরণে ব্যর্থ। দ্রব্যমূল্যের যে ঊর্ধ্বগতি তাতে মানুষ হাঁপিয়ে উঠেছে। তারপর তারা লুটপাটের মাধ্যমে সব ব্যাংক খালি করে ফেলেছে, কয়লা খেয়ে ফেলেছে, বিদেশে সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা পাচার করে দিয়েছে, ব্যাংক মানুষের গচ্ছিত সোনা খেয়ে ফেলেছে। তাতে বর্তমান সরকারের ওপর মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। আমরা জনগণের এ দাবির পক্ষে ছিলাম। আর বিএনপি যেহেতু অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি দল তাই পরিবর্তনের দাবিতে তারা আমাদের ভোট দিবে।

 

কালের কণ্ঠ : নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে সম্প্রতি জেলার দুটি উপজেলায় বিএনপির নতুন কমিটি দিয়েছে। নির্বাচনের আগে অন্য উপজেলায়ও কি এই পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে?

খায়রুল কবীর খোকন : বিএনপি একটি বড় দল হিসেবে নতুন কমিটি গঠন দলের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি অংশ। এটি চলমান থাকবে। যেসব উপজেলায় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি রয়েছে দলের প্রয়োজনে সেগুলোতে পরিবর্তন আসতে পারে।

 

কালের কণ্ঠ :  প্রত্যেক আসনেই বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী একাধিক। মনোনয়ন নিয়ে দলে কোন্দল আছে কি না?

খায়রুল কবীর খোকন : বিএনপি বড় দল বলে অনেকেই মনোনয়ন চাইতে পারেন—এটাই স্বাভাবিক। এটা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। আর এটা নিয়ে নিজেদের মধ্যে কিছুটা কোন্দল থাকতেই পারে। এগুলো থাকবে না। দলের প্রধানসহ যাঁরা গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা দেখে মনোনয়ন দেবেন তখন সবাই এক হয়ে দলের জন্য কাজ করবে।

 

কালের কণ্ঠ : এ সরকারের অধীনে বিদ্যমান কাঠামোতে নির্বাচন হলে জয়ের ব্যাপারে আপনারা কতটা আশাবাদী?

খায়রুল কবীর খোকন : আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, সাধারণ মানুষ যদি তাদের ভোটাধিকারের সুযোগ পায় এ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলেও সারা দেশে বিএনপির পক্ষে নীরব ভোট বিপ্লব হবে। আর এটাই এ সরকারের ভয়। কারণ তারা তো বিনা ভোটে প্রজাতন্ত্রকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় থাকতে চায়। তাই যদি অংশগ্রহণমূলক সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন হয় তাহলে আমরা দু-তৃতীয়াংশ আসন জয় করে সরকার গঠন করতে পারব।

 

কালের কণ্ঠ : জোটগত নির্বাচন নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

খায়রুল কবীর খোকন : বিভিন্ন দল নিয়ে আমাদের মধ্যে যে জোট হয়েছে তা নিয়ে আমরা অনেক আশাবাদী। কারণ বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সবাই এক জোট হতে পেরেছে। এটা আমাদের জন্য ভালো হয়েছে।

 

কালের কণ্ঠ : নির্বাচন কমিশনের ওপর আপনারা কতখানি আস্থাশীল?

খায়রুল কবীর খোকন : বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ নির্বাচন কমিশন নিজেই বলেছে তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে পারবে কি না তা নিয়ে শঙ্কায় আছে। সেখানে আমরা কিভাবে তাদের প্রতি আস্থাশীল হব। আর বিগত নির্বাচনগুলোতে তারা এমন কোনো নজির দেখাতে পারেনি যে তাদের ওপর ভরসা করা যায়।

 



মন্তব্য